ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শত্রুর হামলার জবাব দিতে ভৌগোলিক সীমা মানবে না ইরান: খামেনি


শত্রুর হামলার জবাব দিতে ভৌগোলিক সীমা মানবে না ইরান: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি এই নির্দেশনা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দেন।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈঠকে খামেনি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী মোকাবিলার জন্য ‘বুদ্ধিদীপ্ত যুদ্ধপ্রস্তুতি’ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি অপরিহার্য শর্ত।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় ব্যবসায়িক বিমান বিধ্বস্ত, ৯ জন নিহত

খামেনি বলেন, “যদি শত্রুরা আবারও কোনো সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইরানি জাতিই নির্ধারণ করবে—সেই হামলার সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে ঘটবে।”

এর আগে শনিবার মোজতবা খামেনির এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি পোস্টে জানানো হয় যে, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, ওই নির্দেশনাগুলো শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএমআর

আরও পড়ুন: বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামসুল হক খান কলেজের পাসের হার ৯৯.০৭ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


সামসুল হক খান কলেজের পাসের হার ৯৯.০৭ শতাংশ

রাজধানীর অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গড় পাসের হার ৯৯.০৭ শতাংশ এবং মোট ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতাতেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।" তিনি ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন রনি এই সময় বলেন, "শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পরিকল্পিত পাঠদান এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই ধারাবাহিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।"

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এভাবে নিয়মিত সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটিতে প্রয়োজনীয় বাক্যবিন্যাস, যতিচিহ্ন ও বানান সংশোধন করা হয়েছে। এটি এখন প্রকাশের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত! আর কোনো নিউজ এডিট করার প্রয়োজন থাকলে নির্দ্বিধায় দিতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকটকে নেতিবাচক কমেন্টের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রণক্ষেত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


টিকটকে নেতিবাচক কমেন্টের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রণক্ষেত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা টিকটক ভিডিওতে নেতিবাচক কমেন্ট করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে আশুগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) টিকটক ভিডিওতে কমেন্টস করার জেরে আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের আবির হাটি ও নাগর বাড়ির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা এবং বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সমাধানের জন্য শনিবার সকালে পুলিশ এবং স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও, বৈঠক শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ফলে আশুগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং বাজারে উপস্থিত মানুষজন ছুটতে থাকে। দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, টিকটকে কমেন্টস নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সালিশ বৈঠকও মীমাংসা করা হয়। বৈঠক শেষে পুলিশ চলে আসলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কায় আশুগঞ্জ বাজারে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ভেটোতে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সংকটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ভেটোতে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সংকটে

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবের খসড়ায় পরস্পর ভেটো দেওয়ার ফলে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের মিশনের মেয়াদ শনিবার শেষ হতে যাচ্ছে।

১৯৯১ সালে গঠিত মিনুরসো নামে পরিচিত এই শান্তিরক্ষা বাহিনী।

বাহিনীর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এতে ৩৫৯ জন বেসামরিক ও সামরিক সদস্য কর্মরত ছিলেন।

এ খবরটি জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়।

পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়ার সমর্থনপুষ্ট পলিসারিও ফ্রন্টের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গত ৫০ বছর ধরে সংঘাত চলমান রয়েছে।

মিশনের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ এ প্রস্তাবের পক্ষে ছিল। এতে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

যদি প্রস্তাবটি গৃহীত হতো, তাহলে বাহিনীর নাম মিনুরসো থেকে পরিবর্তন করে মিনুসো করা হতো। এতে পশ্চিম সাহারার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের বিষয়টি বাদ পড়ত।

শুক্রবার রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি আটকে দেয়। মস্কো এ উদ্যোগকে ‘একতরফা পদক্ষেপ’ হিসেবে সমালোচনা করে এবং পূর্বের শর্তে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পাল্টা প্রস্তাব দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রস্তাবে ভেটো দেয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে থাকা দেশগুলো ভোটদানে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ‘আর’ অক্ষরটি—যা গণভোটের (রেফারেন্ডাম) প্রতীক—এবং এমন একটি নাম ধরে রাখতে চেয়েছে, যে গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জাতিসংঘ কয়েক দশক ধরেই নিচ্ছে না।’

ফ্রান্সের প্রতিনিধি জেরোম বনাফোঁ রাশিয়ার ‘বাধা সৃষ্টির’ নিন্দা জানান। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সারাহ ম্যাকিনটোশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন না দেওয়া দেশগুলোকে ওই খসড়ার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

শুক্রবার মরক্কোর রাজকীয় দপ্তর শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। তারা বলেছে, এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সম্পৃক্ততার অবসান হওয়া উচিত এবং বিষয়টি পরিষদের আলোচ্যসূচি থেকে বাদ পড়া উচিত।

জাতিসংঘে আলজেরিয়ার প্রতিনিধি আমার বেনজামা রাশিয়া এবং ‘এ ধরনের স্পষ্ট অবিচারের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া’ সব দেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আলজেরিয়া ‘সাহরাউই জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করে—এমন সমাধানের’ পক্ষে কাজ চালিয়ে যাবে। সাহরাউইরা পশ্চিম সাহারার আদিবাসী জনগোষ্ঠী।

নিউইয়র্কে পলিসারিও ফ্রন্টের প্রতিনিধি সিদি ওমরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদ পশ্চিম সাহারার বিষয়ে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনার প্রতি নজিরবিহীন সমর্থন জানায়। আলজেরিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও পরিষদ পরিকল্পনাটিকে ‘সবচেয়ে বাস্তবসম্মত’ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করে। ২০০৭ সালে রাবাত এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যাতে বিশাল মরুভূমি অঞ্চলটির ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেবাচিমে ডা. রমজানের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


শেবাচিমে ডা. রমজানের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ

পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোয় দুর্ব্যবহার, রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোর কারণে রোগীকে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে করা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে গেলে তা দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রিপোর্ট পর্যালোচনা ছাড়াই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী রোগী। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক সংবাদকর্মীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করালে রোগীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগমের স্বামী সরুজ মল্লিক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর স্ত্রী মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর কাছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক নাজমা বেগমকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।

নাজমা বেগমের অভিযোগ, পরীক্ষা করানোর জন্য চিকিৎসক তাঁকে নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে যেতে বলেন এবং সেখানে অবস্থানরত এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইঙ্গিত করেন। তবে আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ‘সায়েন্স ল্যাব’ নামের অন্য একটি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাগুলো করান।

পরবর্তীতে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন তাঁর নির্দেশিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো হয়নি, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ডা. রমজান আলী। এ সময় তাঁকে বকাঝকা করা হয় এবং রিপোর্ট যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দেন। এতে তিনি অপমানিত ও হয়রানির শিকার হন।

ঘটনার বিবরণ জানতে হাসপাতালে উপস্থিত হন এক সংবাদকর্মী। এ সময় হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশের কারণ জানতে চেয়ে ডা. রমজান আলী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ওই সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরবর্তীতে চিকিৎসক নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, এর আগেও তিনি ডা. রমজান আলীর কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সেবারও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে কয়েকজন নারী অবস্থান করেন। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করালে রোগীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এদিকে, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একটি অংশের অভিযোগ, দালালচক্রের তৎপরতা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাঁরা প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন। অভিযোগ থাকলেও অনেক রোগী হয়রানি কিংবা পরবর্তী জটিলতার আশঙ্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে চান না।

হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একাধিক সংবাদকর্মীও জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকলেও বিভিন্নভাবে রোগীদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।


এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

চিকিৎসাসেবা নিতে এসে কোনো রোগী যেন নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। রোগীর পছন্দ, আর্থিক সামর্থ্য এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এখন দেখার বিষয়, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%