বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
জেলার নওগাঁয় আজ থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৯ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির আয়োজনে এ রথযাত্রা শুরু হয়। ঢাক-ঢোল বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে রথযাত্রা করানো হয়। রথযাত্রাটি শহরের পুরাতন গরুহাটি থেকে শুরু হয়ে শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দিরে এসে শেষ হয়।
আজ বিকেল ৫ টায় রথযাত্রার দ্বিতীয় টান দেওয়া হবে। সকালে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রথযাত্রার অনুষ্ঠান মালা। এ বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।
জানা গেছে, পুণ্য তিথিতে নিজ নিজ রথে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা শোভাযাত্রা সহকারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নিজ মন্দির থেকে সপ্তাহকালের জন্য মাসির বাড়ি গমন করেন। এই বেড়াতে যাওয়ার উৎসবটিই রথযাত্রা। হিন্দুশাস্ত্র মতে, রথের দড়ি টানলে পুণ্যলাভ হয়। রথ টানার সময় বাঁ পাশে একদল, ডান পাশে একদল, সামনে একদল এবং পেছনের দিকে একদল, আর শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু মাঝখানেই অবস্থান করতেন।
প্রায় শত বছর ধরে শহরের কালিতলা এলাকায় কালিমাতা মন্দির কমিটির আয়োজনে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। কথিত আছে-রথের সময় জগন্নাথ বা কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে। আর সেখানে কৃষ্ণ ব্রজবাসীদের সাথে আটদিন অবস্থান করেন।
রথের রশি ছুঁয়ে রথ টানা মাত্র নয়, বেশির ভাগ মানুষ রথের রশি যতটুকু পারে ছিঁড়েও নেন। টুকরো টুকরো রথের রশির সুতো মাদুলি করে ছোট ছেলে-মেয়েদের হাতে ও গলায় পরিয়ে দেন। বড়রাও পরেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিশ্বাস, এই মাদুলি সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে তাদের রক্ষা করবে। অসুখ-বিসুখ হলেও তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠা যাবে। অনেকেই রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন। ঘুমের ঘোরে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এ রকম কারও মাথায় রশির টুকরো অংশ ছুঁইয়ে দিলে কিংবা তার বালিশের নীচে রেখে ঘুমালে দুঃস্বপ্ন আসে না, এমনটাও বিশ্বাস করেন তারা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই, জগন্নাথ হচ্ছে জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীব রূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
৯ দিনব্যাপী এ উৎসব উপলক্ষে নওগাঁ শহরের শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে গ্রামীণ মেলা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রথাযাত্রা উৎসব দেখতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের আগমন ঘটছে। এছাড়া, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এসেছে এ অনুষ্ঠান দেখতে।
এ রথযাত্রা শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ।
শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন বাসস’কে বলেন, রথযাত্রার আগে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামানায় গীতা পাঠ করা হয়। প্রায় ৬০ বছর আগে থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। ৯ দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলায় বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও বিনোদনের জন্য একইসাথে বিভিন্ন রাইডস রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি, তামিমকে আইসিসি দ্বারা নবগঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণা বুধবার স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
নতুন এই উপকমিটি আইসিসি বোর্ডের অনুমোদনে গঠন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা এবং নীতিগত দিক-নির্দেশনা প্রদান করা।
তামিমের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে ক্রিকেট নামিবিয়ার রুডি ভ্যান ভুরেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দেবজিৎ সাইকিয়া, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের রিচার্ড গোল্ড এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার টড গ্রিনবার্গও রয়েছেন।
তবে আইসিসি এখনো কমিটির কার্যপরিধি, দায়িত্বের মেয়াদ কিংবা প্রথম বৈঠকের সময়সূচি প্রকাশ করেনি।
এছাড়া একই সভায় তামিম ইকবালকে বিসিবির নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও আইসিসির পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তামিম আইসিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, নবনিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রভাব, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে মামলা তদন্ত এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ৪২তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরপরাধ, বিপন্ন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে আইজিপি আলী হোসেন ফকির ৫০০ প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (লজিস্টিকস) শুভ কুমার ঘোষ।
বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে শাহরিয়ার হাসান সিজান (পিএ-৪২৩১২) ‘বেস্ট ক্যাডেট’, সাইফুল ইসলাম (পিএ-৪২৮০৬) ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক’, তৌকির আহমেদ (পিএ-৪২৩২৪) ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’, আশরাফুল ইসলাম (পিএ-৪২৫০৩) ‘বেস্ট সুইমার’ এবং কামরান শেখ (পিএ-৪২৩৩৯) ‘বেস্ট শুটার’ নির্বাচিত হন।
মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫০০ জন ক্যাডেট এসআই দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার জন্য জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের যে কোন ধরনের অস্থিরতার মধ্যে দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করা উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুসারে, এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তেলের মজুত সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিন করা হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তারপর তা ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়াসহ বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করে চলেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা বিদ্যমান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭১ দিনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
জ্বালানি বিভাগ জানায়, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুত করার বিধান আছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত থাকায় কোনো সংকট প্রকটিত হয়নি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘জ্বালানি নীতিতে ৬০ দিনের কৌশলগত মজুতের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় আমরা ধাপে ধাপে এটি ৯০ দিনে উন্নীত করবো। এই বিষয়ে কাজ চলছে। তবে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।’
বার্ষিক চাহিদা ও বর্তমান সক্ষমতা:
জ্বালানি বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যা মাসিক গড় ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের চাহিদা ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের চাহিদা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন।
বর্তমানে বিপিসি’র আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ ছয়টি কোম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে। বর্তমানে বিপিসি’র নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুত রয়েছে। এই সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ব্যবহারে:
জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে।
সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহার করতে চায়। এছাড়া বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার সংস্কার করে পরিচালনায় আনা হবে।
জ্বালানি সচিব বলেন, ‘সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ভাড়ার বিষয়ে আলোচনা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ে এবং বিআরটিসি রয়েছে। এসব বিকল্প সুযোগ মাথায় রেখে নিজস্ব অবকাঠামো বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ডিজেলের ক্ষেত্রে বিপিসি’র বর্তমান কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৫৭ দিনের। তবে বিদ্যুৎ ও রেলওয়ের মতো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ৩ মাসের তেল কিনে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মজুত রাখে, সেক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রকল্প ছাড়া দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মজুত আরও ১২ থেকে ১৩ দিন বৃদ্ধি পাবে।’
মজুত বৃদ্ধিতে আসছে যেসব কর্মসূচি:
বিপিসি জানায়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় গত জুনে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ট্যাংক চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মজুত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৩৭ টন বেড়েছে। ফলে বিপিসি’র মোট মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০৩ টন হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পার্বতীপুরে আরও চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও কুমিল্লায় বিদ্যমান অটোমেটেড ডিপো এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে আরও ছয়টি ডিপো নির্মাণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে ১১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি নতুন ট্যাংক এবং ফতুল্লার আলীগঞ্জ ডিপোতে ১৩ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরও দুটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে গোদনাইলে ১ হাজার ৪৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি এইচওবিসি ট্যাংক নির্মাণাধীন রয়েছে।
বিপিসি জানায়, এর পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির প্রধান স্থাপনাগুলোর খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা অয়েলের ৯ হাজার ৫০০ টনের দুটি ট্যাংক, মেঘনা অয়েলের ১০ হাজার টনের তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলের সাড়ে ৫৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন ট্যাংক রয়েছে।
সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে ২ হাজার ১৬৫ টনের পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণকাজ চলছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরার ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।
বিপিসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত জুনে পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হওয়ায় মজুত সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার টন বেড়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পার্বতীপুরে আরও চারটি এবং কুমিল্লায় ছয়টি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে উদ্বৃত্ত ট্যাংকগুলো ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। এর সাথে সাথে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’
আরও পড়ুন
জুলাইয়ের ১৪ দিনে দেশে ১৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন জমি অধিগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে অচল ট্যাংক সচল করা, কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেলে রূপান্তর সহ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রেলওয়ের অব্যবহৃত ট্যাংক ব্যবহার করা হলে দ্রুত মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাদের মতে, এটি সরকারের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক-বর্তমান সভাপতিসহ তিন ছাত্রনেতা পদ পেয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় ৩০ সদস্য বিশিষ্ট সেক্রেটারিয়েট এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে ১৩ জন সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
কমিটিতে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক পদে আবু নাছির মো. ত্বোহা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকারী পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাকৃবি শাখা শিবিরের বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন।
মো. ফখরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাকৃবি শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবু নাছির মো. ত্বোহা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাকৃবি শাখা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০২৬ সালের ষাণ্মাসিক হালনাগাদকৃত কার্যকরী পরিষদে ১৩ জন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন নির্বাচিত হওয়া তা ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে। এর আগে তিনি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ