০১:২৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন দেশকে ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন’ রাখার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের দেশটাকে সুন্দর ও নিরাপদ, বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সকলে মিলে চেষ্টা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের ঘর এবং দেশকে নিজেদের পরিচ্ছন্ন না রাখি, তখন এই দেশ পুঃনঃপদার্পণ হবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিচ্ছন্ন করে দিয়ে যাবে না। দেশটাকে সুন্দর করতে হলে সকলকেই মিলেমিশে চেষ্টা করতে হবে।’
আজ (সোমবার) সকালে বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খাল পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এ সহযোগিতা চান।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে অনুরোধ জানাব, আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে। আমাদের ব্যবহৃত জিনিস, বিশেষ করে পানির খালি বোতল, আমরা যেখানে-সেখানে ফেলবো না। ধরুন, কোনো প্যাকেটে করে কিছু নিয়ে যাচ্ছি। জিনিসটা বের করার পর প্যাকেটের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে সেটি যত্রতত্র ফেললে পরিবেশের ক্ষতি হবে। আর যদি পরিবেশ নষ্ট হয়, তাহলে পরে আমাদের সন্তানেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
নিজের ব্যবহৃত টিস্যু নিজের পকেটেই রেখে দেওয়ার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পকেটে হাত দিলে টিস্যু বের হবে। আমি একটু আগে মাটি ধরে হাত ধুয়ে ব্যবহার করেছি এই টিস্যু, ওটাই পকেটেই রেখে দিয়েছি। যদি এখানে টিস্যুটা ফেলতাম, তাহলে আপনাদের যা বলছি আমি নিজেই তো সেটা মেনে চললাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি অভ্যাস করে নিয়েছি, যখনই আমি টিস্যু ব্যবহার করি, সেটি পকেটে রেখে দিই। আমার যেকোনো প্যান্টের পকেটে হাত দিলে ব্যবহৃত টিস্যুটি বের হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সারাদিনে ব্যবহৃত সব টিস্যুই অনেক সময় প্যান্টের পকেটে জমা হয়। রাতে বাসায় ফিরে সেগুলো ডাস্টবিনে অথবা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি। এই কাজটি সবসময় করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই আস্তে আস্তে আমার মধ্যে এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।’
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমরা আজ থেকে চেষ্টা করি, সকলে মিলে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবো। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি দেশ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে পরিবেশও সুন্দর হবে। সেই দেশ দেখে সবাই প্রশংসা করবে। দেশবাসী যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি বিদেশিরাও বলবে, বাংলাদেশ একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ, যেখানে মানুষ নিজেদের দেশ গুছিয়ে রেখেছে, পরিচ্ছন্ন রেখেছে।’
ছবি : পিএমও
গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দুটি প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে লক্ষ্য করেন। তিনি এ বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এই দেখুন, খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল ভাসছে। আপনি যদি আপনার বাড়িতে পাঁচ-সাতজন মানুষ থাকেন, তার মধ্যে একজন যদি সারাদিন বাড়ি পরিষ্কার করে আর বাকি সবাই ময়লা করে, তাহলে ওই বাড়ি পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। গুছিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দেশটাও তো ঘরের মতো। মাত্র কয়েকজন যদি পরিষ্কার করে আর সবাই নোংরা করে, তাহলে দেশের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা অসম্ভব। আমাদের সকলকে মিলেই পরিষ্কার রাখতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমরা চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ময়লা ফেলি; এক দিকে দেখতে খারাপ লাগবে, অন্য দিকে পরিবেশও নোংরা হবে। যখন আপনারা বাসে করে বিভিন্ন জায়গায় যান, বরিশাল সদরে বা ঢাকায়, তখন দেখবেন বাজার এবং দোকানের চারপাশে নানা ধরনের আবর্জনায় ভরা। ময়লা দেখতে কার ভালো লাগে? তাছাড়া পরিবেশ নোংরা হয়ে যায়, দূষণও বাড়ে। এবং এসব দূষণে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হয়। তাই আসুন আমরা সকলেই মিলে চেষ্টা করি দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলি।’
আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর, সুস্থ দেশ গড়তে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের বৃক্ষরোপণের দিনে, আমরা সকল মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে, প্রত্যেকটি মানুষ নিজ অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করবে। আমাদের আশপাশের পরিবেশের প্রতি যত্ন নেব। আমরা চেষ্টা করব আশপাশের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট যতটুকু সম্ভব পরিচ্ছন্ন রেখে পরিবেশটাকে রক্ষা করতে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন