বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৪৯ পি.এম
খুলনার ডাকাত দলের ‘খবির বাহিনী’র প্রধান খবির মোল্লা (৪৭) অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। তিনি জেলার দিঘলিয়া থানাধীন জঙ্গুশিয়া গ্রামের কাউসার মোল্লার ছেলে।
র্যাব ৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে র্যাব-৬, সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার দিঘলিয়া থানাধীন গাজীরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। একই সময়, খুলনার দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘খবির বাহিনী’র প্রধান খবির মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের সময়, আসামির কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত উপস্থিত সাক্ষিদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আসামি খবির মোল্লা একজন পেশাদার ডাকাত ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। পিসি-পিআর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে খুলনা ও নড়াইল জেলার একাধিক থানায় হত্যা, অস্ত্র, ও ডাকাতি মামলাসহ মোট ১৩টি মামলার তথ্য রয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামির বিরুদ্ধে খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা করে উদ্ধার আলামতসহ আসামিকে দিঘলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে গভীর রাতে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রাতে উপজেলা ভরপাশা ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ডের মধ্য ভরপাশা গ্রামে হালিম হাওলাদারের স্ত্রীর ঘরে সংঘবদ্ধ চোরের দল প্রবেশ করে। গৃহবধূ নাজমা বেগম বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
এসময় আহত নারীর দুই কান ছিরে কানের দুল ও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যায় দুই চোর।
৯ জুলাই সকালে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সুমন শরিফ ও জাহিদ শরিফকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় তারা চুরির ঘটনা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দিলে দুই চোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, সুমন শরিফ ও জাহিদ শরিফ মাদক সেবনও ক্রায়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা এই এলাকায় বিভিন্ন রকম অপরাধের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত।
আহত গৃহবধূকে রাতেই পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আদিল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি জুতা কারখানায় বৃহস্পতিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৮ জন।
অভিযোগ উঠেছে যে, কর্তৃপক্ষ জানান যে, জিনজিয়াং শহরের ওই কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল ও উদ্ধারকর্মীদের কয়েক ডজন সদস্য কাজ করছেন।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে (০৪০০ জিএমটি) ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের হুইতেং শুজ কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টা পরও কারখানার ভিতরে মানুষ আটকে ছিলেন। তাদের উদ্ধারে ১৮৩ জন দমকল ও উদ্ধারকর্মী এবং ৩৫টি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ ঘটনায় ‘ব্যাপক প্রাণহানির’ কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা আগুনে পুড়ে যাওয়া বহুতল ভবনে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। সেই ভবনের ভাঙা জানালা দিয়ে ঘন ধূসর ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
শোকবার্তায় শি জিনপিং বলেন, ‘অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের প্রচেষ্টার ঘাটতি রাখা যাবে না।’ এছাড়া তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ যত দ্রুত সম্ভব উদঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসায় ‘সর্বাত্মক’ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া জানিয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি এখনো কারখানার ভিতরে আটকে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
গত নভেম্বরে হংকংয়ে কয়েকটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর চীন দেশজুড়ে উঁচু ভবনগুলোতে অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান শুরু করে। এর এক মাস পর দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগার ফলে ১২ জন নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হিলিতে বিয়ের দাবিতে ৪৮ বছরের একটি নারী ৬০ বছরের বৃদ্ধ এমাজুল হকের বাড়িতে অবস্থান নেন। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে ঐ নারী এমাজুল হকের বাড়ির সামনে অবস্থান শুরু করলে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, পুলিশ নারী ও বৃদ্ধ এমাজুল হককে থানায় নিয়ে আসে।
পরে বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুই পরিবারের সদস্যদের হাতেই তাদের দুইজনকে তুলে দেয়া হয়।
হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের কাকডিমা গ্রামের রাবেয়া বেগম (৪৮) এবং এমাজুল হক (৬৫)। তারা সম্পর্কের দিক থেকে দেবর ও ভাবী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন।
আলীহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল ইমরান জানান, উভয়পক্ষের আলোচনা শেষে এক লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে দুজনের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে মেয়ের পক্ষের কোনো অভিভাবক এখনো পর্যন্ত তার কাছে আসেননি। পরে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, গত এক বছর ধরে দুজনের মধ্যে মোবাইলে কথাবার্তা হচ্ছিল। ধীরে ধীরে তা প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। পরে ঐ নারী এমাজুল হককে বিয়ের চাপ দিলে বৃদ্ধ এমাজুল রাজি হতে চাচ্ছিলেন না। এরপর ঐ নারী বৃদ্ধের বাড়ির সামনে বিয়ের দাবিতে অনশন করতে থাকেন। খবর পেয়ে হাকিমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে লোকজনের ভিড় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা দিলে পুলিশ দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত এমাজুল হক কৃষিকাজ করেন। তিনি এক সন্তানের জনক এবং ঐ নারী তিন সন্তানের জননী। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি সামাজিকভাবে সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটির সাজেকে আটকা পরা পর্যটকদের মধ্যে ৫৬১ জনের মধ্যে ১৫০ পর্যটক সেনা সহায়তায় সাজেক ছেড়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে তারা সাজেক ত্যাগ করেন।
বাঘাইহাট সেনা জোন ক্রমেই জানিয়েছে, ভারী বর্ষণজনিত কারণে সড়ক ডুবে যাওয়ার ফলে ৫৬১ জন পর্যটক সাজেকে আটকা পড়ে। তাদের মধ্যে থেকে ১৫০ পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে চলে গেছেন। তাঁদের সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকা দিয়ে পার করা হয়। এর মধ্যে ১০০ পুরুষ, ৪০ নারী এবং ১০ জন শিশু ছিলো। বাকি যারা রয়েছেন, তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন মন্তব্য করেছেন, যাদের জরুরি কাজ ছিলো, তারা অনেকেই সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সাজেক ছেড়ে গেছেন। বাকিরা তখনো সেখানে অবস্থান করছেন। সড়ক থেকে পানি সরে গেলে বাকিরা ফিরবেন, এটাই প্রত্যাশা।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, পানি কিছুটা কমে আসায় এবং যাদের জরুরি কাজ ছিলো, তাদের মধ্যে ১৫০ পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন। আমরা রিসোর্ট মালিকদের সাথে আলোচনা করে প্রথম দিনে রুম সার্ভিস বিনামূল্যে দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছি। পরে সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে তাদের থাকা-খাওয়া বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলস্বরূপ খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের কিছু স্থান ডুবে যায়, যার কারণে পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন। অতি ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসন ৭ জুলাই-এর সন্ধ্যা থেকে সাজেক ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে আটকা পড়া পর্যটকরা তার আগেই সাজেক পৌঁছেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ