হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:২৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। আর সেই মামলার কার্যক্রম আটকে থাকায় দুদকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আদালত। এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আদালতে লিখিতভাবে ব্যাখা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা।
দূর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপ সহকারি পরিচালক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের জমা দেয়া কপি থেকে জানা গেছে, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক । তবে মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিদের করা পৃথক দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। সে কারনে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত শহিদুল ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায়, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেন। যার মামলা নম্বর-০৩/২০২৩ ও মামলা নম্বর-০৬/২০২৪। আদালতের ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়।
লিখিত ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, প্রথম মামলাটি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও থেকে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় দায়ের করা হয়। মামলায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারি এবং বর্তমানে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে তদন্ত চলাকালে শহীদুল ইসলাম মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর-৩১০/২০২৪ দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেন এবং দুদকের নোটিশসহ স্পেশাল মামলা নম্বর-০৩/২০২৩-এর সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৃথক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
অপরদিকে দ্বিতীয় মামলাটি ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর একই আইনে দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর-০৬/২০২৪ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দ্বিতীয় মামলার তদন্তও স্বাভাবিক নিয়মে চলছিল। পরে কামরুন নাহারও মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর-১৫০৫৮/২০২৪ দায়ের করেন। এরপর থেকে দ্বিতীয় মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করেন, দুটি মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়মিতভাবে মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ৩১ মার্চ মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন), দুদক প্রধান কার্যালয় বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকা মামলাগুলোর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিটগুলোর নিষ্পত্তি এবং কমিশনের অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ডিসি অফিসের শহিদুল সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সরকারি কাজের জমি অধিগ্রহনে কমদামে জমি ক্রয় করেন। আর সেই জমি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন। এছাড়াও টিসিবির পণ্যের টাকা লুটপাট ও অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
এভাবেই মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যান কর্মচারি শহিদুল। শহরে গড়ে তোলেন আলিসান বাড়ি। হঠাৎ করেই এত সম্পদের মালিক হওয়ায় শহরজুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। তারপরেও শাস্তি না হওয়ায় এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
এই দুই মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত আছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
দুদকের আইনজীবী এমএম অ্যাডভোকেট সফিউজ্জামান সুমন বলেন, মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা হলেই কার্যক্রম চালানো যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাত জন, রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুই জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়িতে কোনও আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছেন না বলে সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক।
দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৮৪৯ জন গৃহহীন মানুষ অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গত সাতটি জেলাসহ সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউ টিনসহ গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই সাথে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও বিশেষ আর্থিক সহায়তা (প্রতি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে) দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : পিএমও
সরকার পূর্বের নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া প্রতি বছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস আলাদাভাবে পালিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশের সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার ১৩তম বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস এবং ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস একত্রে ১২ আগস্ট উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এর ফলে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো দু’টি দিবস একই দিনে পালিত হয়।
তবে বর্ষাকালে একসঙ্গে দুই দিবস উদযাপন করা কারণে যুব র্যালি, যুব সমাবেশ ও যুবমেলার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে যুব উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, জাতীয় যুব দিবস ছাড়া অন্য সময়ে যুবমেলার আয়োজন করলে কাঙ্ক্ষিত জনসম্পৃক্ততা ও বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না। অন্যদিকে জাতীয় যুব দিবস সরকারি অর্থায়নে উদযাপিত হলেও আন্তর্জাতিক যুব দিবস সাধারণত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় পালন করা হয়।
এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে, মন্ত্রিসভা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস একত্রে ১২ আগস্ট উদযাপনের পরিবর্তে পৃথকভাবে ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস এবং ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। আলোচনা সভার শুরুতে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনে সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনেজাত ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের এই ত্যাগ আমাদের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং আমাদের মুক্তি দিয়েছে। আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত একদিনে ঘটে না; দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল ২০০৯ সাল থেকে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তৎকালীন সরকার ১৫ বছর ধরে ব্যাপক অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচার চালিয়েছে। তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত হিংস্র।’
সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তৎকালীন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে, তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং কারাবন্দি করে হয়রানি করেছে। সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই বিপ্লবে অংশ নিতে পাঠিয়েছেন। আবু সাঈদের মতো তরুণ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছে ‘গুলি কর’। এটিই ছিল বীরত্বের এক অনন্য নিদর্শন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার এবং আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এ সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ