১১:৪৭ পি.এম
খুলনার পাইকগাছায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বৃষ্টি উপকূলীয় নিম্নচাপের প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে শুক্রবারও (১০ জুলাই) অব্যাহত রয়েছে। একটানা বর্ষনে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমেছে, তবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া, রাস্তাঘাটের জলমগ্ন অবস্থা এবং জনজীবনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও মৎস্যজীবীসহ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর সদর, বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি সহ বিভিন্ন বাজারের সড়কে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ব্যস্ত বাজার ও সড়কগুলোতে এক ধরনের নীরবতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি বাজারে বৃষ্টির পানিতে কংক্রিটের সাথে কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ এবং খোলা আকাশের নিচে অধিকাংশ শ্রমনির্ভর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সরল গ্রামের দিনমজুর কবিরুল বলেন, "টানা বৃষ্টিতে কোনো কাজ করতে পারিনি। সংসারের বাজার কীভাবে করব, সেটাই এখন বড় চিন্তা।" ভ্যানচালক সবির জানান, "যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় সারাদিন ভিজে থেকেও কাঙ্ক্ষিত আয় হচ্ছে না।" একই ধরনের সংকটের কথা জানান দৈনিক শ্রমিক রেজাউল। তিনি বলেন, "একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। সেখানে এত দিনের বৃষ্টিতে কাজ নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।" বৃষ্টিতে কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী স্বপ্না জানান, "স্কুল-কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।" বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও মৎস্যঘেরে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম বলেন, "টানা বৃষ্টিতে বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। কেনাবেচা অনেক কমে গেছে।" তবে কৃষকদের একাংশের মন্তব্য, "আষাঢ়ের এই বৃষ্টি আমন চাষের জন্য উপকারী।" যদিও অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আমনের বীজতলা ও কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, "অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও যাতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।" সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন