০৩:২৩ পি.এম
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে তিনি দাবি করেছেন, রায় ঘোষণার পরেও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিরাপত্তা চেয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় তার নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নুসরাতের মা।
শিরিন আক্তার জানান, "নুসরাতকে হত্যার পর অনেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল।" তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ড। এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীনবরণ ও একাডেমিক ফেস্ট’২৬ অনুষ্ঠিত
তবে তিনি রায়ের পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা চান।
দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এখনও বহাল রয়েছে।
নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
আরও পড়ুন: তারুণ্যের সাড়ে চার কোটি মানুষের শক্তি এক হলে বাংলাদেশে পরিবর্তন আসবে এনসিপি নেতা অপু ঠাকুর
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।
খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, কামরুন নাহার মনি ও আরও একজন আসামি।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা এই রায় ঘোষণা করেন। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ধরে রায় পড়া হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা রায়ের মূল অংশ পড়ে শোনান।
রায় ঘোষণার সময়ে আদালতের এজলাসে আসামি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সাজেকবাসীর দাবির সমর্থনে বাঘাইছড়িতে ছাত্র-জনতার মশাল মিছিল
যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে:
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা তুলে না নেওয়ায়, একই বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
আরও পড়ুন: খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর তৃতীয় এলসিটির লঞ্চিং সম্পন্ন
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিলে করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন