বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০০ পি.এম
কমলনগরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগণের চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান হলো কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে, এই সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে সেবা, যা চার লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য।
টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতালের কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের দুটি এক্স-রে মেশিন। এর ফলে দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত এক্স-রে সেবা চালুর জন্য টেকনিশিয়ান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে করইতলা এলাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, যাতে প্রান্তিক জনগণের চাহিদা পূরণ করা যায়।
২০০২ সালে হাসপাতালের প্রথম এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু, ২০০৭ সালে টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
করোনা মহামারির সময়, ২০২০ সালের শেষের দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল এক্স-রে’ মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। যদিও মেশিনটি যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না পাওয়ার কারণে নতুন ডিজিটাল ও পুরানো এনালগ—দুটি এক্স-রে মেশিনই বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
হাসপাতালে ভাঙা পা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দিদার ও আবু সায়েদ জানান, দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর ডাক্তার এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের মেশিন বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়েছে। যেখানে নামমাত্র খরচে এক্স-রে করানো সম্ভব ছিল, সেখানে বাইরে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারা বলেন, "হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও আমরা সুবিধা পাচ্ছি না।"
চরপাগলা এলাকা থেকে আসা রোগী সৈয়দ আহাম্মদও একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "দুর্ঘটনায় বুকে আঘাত পেয়েছি। হাসপাতালে আসলে এক্স-রে লাগবে বলে চিকিৎসক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। যদি এই হাসপাতালে এক্স-রে সুবিধা থাকতো, তাহলে এমন দুর্ভোগ হতো না।"
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "এক্স-রে মেশিন আছে। কিন্তু টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে আবারও ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখা হচ্ছে। বুধবার দুপুরে হলের গেটে নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু করে হল প্রশাসন।
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী জানালেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লিখিত কোনো আবেদন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখিত আবেদন আমাদের কাছে নেই। মৌখিকভাবে বারবার এসে তারা আমাদের বিরক্ত করছে। অভিভাবকেরা বিভ্রান্ত হন। তাদের সার্টিফিকেটে এক নাম, আর বলা হচ্ছে আরেক নাম। এখন শুধু শেখ মুজিবুর রহমান হল লেখা হবে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের মূল ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ওই নাম পরিবর্তন করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ডাকসু নেতারা।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার সুপারিশ করা হয়।
তবে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। এ সময় প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে গোপন বৈঠক হওয়ার বিষয়টি সৌদি আরব স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। এই তথ্যটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের চ্যানেল ১৪ জানায়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সৌদি প্রতিনিধিরাও supposedly অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই খবরটি আমিরাতের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে যে, নেতানিয়াহুর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই গোপন বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই, আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলি এই বৈঠকের আড়ালে পুরো বিষয়টি সংগঠিত করার দায়িত্বে ছিলেন।
তবে সৌদি কর্মকর্তার এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রচারিত গোপন বৈঠকের খবরটি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সদর উপজেলায় দুই উদ্যোক্তাকে তেল ভাঙানোর মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেলের উৎপাদন এবং স্থানীয়ভাবে সরিষার তেলের বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে।
আজ বুধবার সকালে ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের হাতে মেশিন দুটি তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম উপস্থিত থেকে ফাড়াবাড়ী এলাকার দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের উদ্যোক্তা হারুনুর রশিদ ও শিবগঞ্জ এলাকার মিলন সরকারের কাছে মেশিন দুটি হস্তান্তর করেন।
এ সময় সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল মুজাহিদ, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন রায়সহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ মৌসুমে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ২ হাজার ৬৩০ জন কৃষককে সরিষার বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ১৫ হাজার কৃষককে এ প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। জেলায় হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন হিসাবে এবার মোট ১১ হাজার ৩১ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে।
শুধু সদর উপজেলাতেই উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন সরিষা, যা এ অঞ্চলে সরিষা উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, সরিষার এই বাম্পার উৎপাদন স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে ভোক্তাদের কাছে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর সরিষার তেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পের আওতায় জেলায় ছয়টি এবং সদর উপজেলায় দুটি তেল ভাঙানোর মেশিন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজারে ভেজাল ভোজ্য তেলের বিস্তার এবং সাম্প্রতিক সময়ে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষার তেল ভোক্তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সরিষা প্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তাদেরও আর্থিক সাশ্রয় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের সময় ভাষাশহীদ আবদুস সালাম বুকে গুলি নিয়ে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ঘটিয়েছিলেন। সালামের বাড়ি দাগনভূঞায় অবস্থিত। যদিও আমরা সালামকে নিয়ে গর্বিত, তবে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে সালামের আত্মত্যাগের ইতিহাস অনেকাংশে অনুপস্থিত রয়েছে। কিছু পাঠ্যপুস্তকে সালামের নাম উল্লেখ থাকলেও তা ইতিহাসের পূর্ণতা পায়নি। এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক এবং লজ্জাজনক বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার দুপুর ১২টার সময় দাগনভূঞার ফাজিলেরঘাট রোডে ভাষাশহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর, সবুজ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. নুর করিম নোবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, কলেজের প্রভাষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ