বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে গোপন বৈঠক হওয়ার বিষয়টি সৌদি আরব স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। এই তথ্যটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের চ্যানেল ১৪ জানায়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সৌদি প্রতিনিধিরাও supposedly অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই খবরটি আমিরাতের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে যে, নেতানিয়াহুর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই গোপন বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই, আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলি এই বৈঠকের আড়ালে পুরো বিষয়টি সংগঠিত করার দায়িত্বে ছিলেন।
তবে সৌদি কর্মকর্তার এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রচারিত গোপন বৈঠকের খবরটি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সদর উপজেলায় দুই উদ্যোক্তাকে তেল ভাঙানোর মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেলের উৎপাদন এবং স্থানীয়ভাবে সরিষার তেলের বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে।
আজ বুধবার সকালে ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের হাতে মেশিন দুটি তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম উপস্থিত থেকে ফাড়াবাড়ী এলাকার দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের উদ্যোক্তা হারুনুর রশিদ ও শিবগঞ্জ এলাকার মিলন সরকারের কাছে মেশিন দুটি হস্তান্তর করেন।
এ সময় সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল মুজাহিদ, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন রায়সহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ মৌসুমে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ২ হাজার ৬৩০ জন কৃষককে সরিষার বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ১৫ হাজার কৃষককে এ প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। জেলায় হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন হিসাবে এবার মোট ১১ হাজার ৩১ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে।
শুধু সদর উপজেলাতেই উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন সরিষা, যা এ অঞ্চলে সরিষা উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, সরিষার এই বাম্পার উৎপাদন স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে ভোক্তাদের কাছে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর সরিষার তেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পের আওতায় জেলায় ছয়টি এবং সদর উপজেলায় দুটি তেল ভাঙানোর মেশিন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজারে ভেজাল ভোজ্য তেলের বিস্তার এবং সাম্প্রতিক সময়ে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষার তেল ভোক্তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সরিষা প্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তাদেরও আর্থিক সাশ্রয় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের সময় ভাষাশহীদ আবদুস সালাম বুকে গুলি নিয়ে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ঘটিয়েছিলেন। সালামের বাড়ি দাগনভূঞায় অবস্থিত। যদিও আমরা সালামকে নিয়ে গর্বিত, তবে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে সালামের আত্মত্যাগের ইতিহাস অনেকাংশে অনুপস্থিত রয়েছে। কিছু পাঠ্যপুস্তকে সালামের নাম উল্লেখ থাকলেও তা ইতিহাসের পূর্ণতা পায়নি। এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক এবং লজ্জাজনক বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার দুপুর ১২টার সময় দাগনভূঞার ফাজিলেরঘাট রোডে ভাষাশহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর, সবুজ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. নুর করিম নোবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, কলেজের প্রভাষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের পরিবেশ মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্ব, আধিপত্যের লড়াই এবং রক্তাক্ত সংঘর্ষের ভয়ের গল্পে ভরা। এখানে অপরাধের জগতে কার রাজত্ব থাকবে এবং কে পালাবে, তা নিয়ে চলে নাটক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও থেমে থাকে না। তবে মাদকের কারবার রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয় না।
এক সময়ের গডফাদার ইশতিয়াকের হাত ধরে অপরাধের জগতে প্রবেশ করে রাজা, যিনি ‘পিচ্চি রাজা’ নামে পরিচিত। পুলিশে সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরে সে ক্যাম্পের আতঙ্ক হয়ে ওঠে এবং শীর্ষ মাদকসম্রাটে পরিণত হয়।
গত ১৯ মে, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার পর পিচ্চি রাজাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় মামলার সংখ্যা ২৯টি, যার মধ্যে তিনটি হত্যা, সাতটি হত্যাচেষ্টা, চারটি বিস্ফোরক এবং ১৩টি মাদকের মামলা অন্তর্ভুক্ত। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ঢাকার আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপর থেকে পিচ্চি রাজা ফের আলোচনায় এসেছে।
গ্রেফতারের পর পিচ্চি রাজা পুলিশের কাছে তার অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ার কাহিনী বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শুরুতে তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। আয় কম হওয়ায় পরে একটি গ্যাস পাম্পে চাকরি নেন। সেখানে তার আয় ছিল প্রায় তিন হাজার টাকা। কিন্তু এক ঘটনায় চাকরি হারানোর পর আবার ক্যাম্পে ফিরে আসেন। ২০১৮ সালে পুলিশি অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়। ওই অভিযানে তার কাছ থেকে কিছু না পেলেও তার বিরুদ্ধে ৫১ পিস ইয়াবার মামলা দেওয়া হয়। এটি ছিল তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে মাদক বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে অল্প পরিমাণ মাদক কিনে বিক্রি করতেন এবং এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা আয় হতো। পরে আবার কারাগারে গেলে অপরাধীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। বেরিয়ে এসে মাদক কারবারে যুক্ত হন। পিচ্চি রাজা পুলিশকে বলেন, এক পর্যায়ে সে নিজেই মাদক ব্যবসা শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের পর অল্প বয়সেই ক্যাম্পের মাদক কারবারি ইশতিয়াকের সঙ্গে যুক্ত হন রাজা। একই সময় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। ফলে ক্যাম্পের অপরাধজগতের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ তৈরি হয়। ২০২০ সালে করোনায় ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর ক্যাম্পের একটি অংশের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে আসে।
পিচ্চি রাজা একপর্যায়ে টেকনাফ থেকে মাদকের চালান এনে ক্যাম্পে সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে পিচ্চি রাজার সঙ্গে বুনিয়া সোহেলসহ কয়েকটি গ্রুপের বিরোধ তীব্র হয়। মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ, এলাকার লাইনম্যান নিয়োগ, অর্থ আদায় এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। পিচ্চি রাজা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পের সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে ‘রাজত্ব’ নিতে চেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। ক্যাম্পে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বুনিয়া সোহেলের নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে পিচ্চি রাজার বক্তব্যে। বুনিয়া সোহেল এমন অবস্থান চেয়েছিলেন যেখানে ক্যাম্পে তার ওপর আর কেউ থাকবে না। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, বুনিয়া সোহেলের ওপর হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের পর ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পিচ্চি রাজার প্রভাব বাড়ে। গত বছর অক্টোবরে বুনিয়া সোহেলের আস্তানায় হামলা ও লুটপাটের সময় পিচ্চি রাজাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে প্রভাব বিস্তারের কথা বলতে শোনা গেছে। পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ-সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার শ্বশুর খোরশেদ, শালা নয়ন এবং ফুফাতো ভাই রনিসহ কয়েকজন আত্মীয় এ অর্থের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তার ২৫ থেকে ৩০টি সিএনজিচালিত অটো এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি রয়েছে।
পিচ্চি রাজার সঙ্গে মাদক কারবার ও অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে আদি, নবাব, শাহজাদা, ফাইজান, বেলুন, রুবেল, রনি, নাটা সুমন, সুজন, ব্যাটারি কামরান, হীরা ও মঈন পিচ্চিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তারা মাদক সরবরাহ, অর্থ আদায়, দখল নিশ্চিত করা এবং প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর কাজে যুক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অপরাধী সোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে পরে সেই পরিচয়কে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে। ফলে একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তার জায়গায় আরেকজনের উত্থান ঘটে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘কে আমাদের সোর্স আর কে আমাদের সোর্স নয়, এটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। তিনি অপরাধী কি না, সেটাই আমাদের কাছে প্রধান বিষয়।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পের সব অপরাধীকে গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
পিচ্চি রাজার খোঁজে থানায় মামলা
যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর জানান, দুদিন পার হলেও খোঁজ নেই পিচ্চি রাজার। এ ঘটনায় গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন জানান, থানার উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ মজুমদার বাদী হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে কোনাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি পিচ্চি রাজা। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে দেশে পূর্বে প্রচলিত ছিল কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর সেই ‘ক্রসফায়ার’ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময় অপরাধীরা ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয়ে আতঙ্কিত থাকত। যদিও এটি ছিল বিতর্কিত। তখন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে অপরাধের পরিমাণ বেড়ে গেছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আর আগের মতো ভয় পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষও পুলিশকে আস্থায় নিতে পারছে না। এর ফলে বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। যদি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে না আসে, তবে অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ মতামত প্রকাশ করেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে শক্ত হাতে অপরাধ দমনের প্রস্তাব দেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনে নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে গোটা বাহিনীকে সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিরা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে জামিন পাচ্ছে।
মাদকের বিস্তার রোধে সভায় অতিরিক্ত আইজিপিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশিং জোরদার করার এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। সভায় সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম) এবং ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
অপর এক সভায় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের যে কোনোভাবেই হোক আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। সূত্র জানায়, আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে মর্নিং মিটিংয়ে বলা হয়, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, আইনি বাধ্যবাধকতা ও তদন্তে দুর্বলতার কারণেই আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছে। ওই অতিরিক্ত আইজিপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। অপর একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, বর্তমানে ক্রসফায়ার বন্ধ রয়েছে। তাই অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়া উচিত।
বৈঠকে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো, অপরাধীদের জামিন রোধে আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের মর্নিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, পুলিশি সেবার মূল ভিত্তিই হলো জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব যেমন-কটি ছিনতাই, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড হলো অথবা কজন ধরা পড়ল-এসব দিয়ে জনগণের আস্থা ফেরানো যাবে না। বর্তমানে পুলিশ কোন অবস্থানে আছে এবং এ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ কতটুকু সেবা দেওয়া যায় তার একটি নিবিড় পর্যালোচনাও প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি মানুষের ভুল বোঝাবুঝি বা অসন্তোষ দূর করতে হলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে হবে। সম্পর্কের উন্নয়ন ও কাজের প্রতি স্বচ্ছতা এলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে।
একজন অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে বর্তমানে নানা বিষয়ে দ্বিধা বা ‘কনফিউশন’ কাজ করছে। বাইরের নানা গুঞ্জন, অডিও-ভিডিও প্রচার এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে বাহিনীর সদস্যদের মনোবলের ওপর প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে গোটা পুলিশ বাহিনীকে ‘স্ট্রিমলাইনিং’ বা সুসংগঠিত করা জরুরি। তার মতে, হঠাৎ বা একদিনের চেষ্টায় ‘ফেরেশতা’ হওয়ার মতো কোনো অলৌকিক পরিবর্তন আসবে না। এজন্য দরকার একটি ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস। কার্যকর পরিবর্তনের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পলিসি লেভেলের সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
সভা সূত্রে আরও জানা যায়, চাঁদাবাজিসহ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রোপার্টিজে সশস্ত্র হামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, আদাবরে আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টা, ২৫ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পলায়ন, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যা, মিরপুর এলাকায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ ও নাটোরে বড় ধরনের সংঘর্ষ ইত্যাদি।
বৈঠকে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আসামিরা আদালত থেকে সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে আসামির জামিনের অধিকার তৈরি হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং সেশন কোর্টে ৩৬০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল (বিচার) শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয় না। ফলে এ সুযোগে আসামিরা জামিন পেয়ে যায়।
বর্তমানে ‘ক্রসফায়ার’ না থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে অপরাধীদের ‘ডিটেনশন’-এ নেওয়ার প্রস্তাব দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রেলওয়ে পুলিশপ্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, ঢালাওভাবে আটক না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিটেনশন দেওয়া উচিত। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) পুলিশের প্রত্যক্ষ কমান্ড বা অধীনে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, সব অপরাধের মূল মাদক। পুলিশ মাদক নিয়ে কাজ করে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদকই বেশির ভাগ অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। তাই যে কোনো মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ দমনে পুরোনো প্রথা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ফারুক আহমেদ। পুলিশ আসামি গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও অপরাধীরা খুব দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি প্রধান করিম। ডিটেনশন দেওয়া একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে বলে একমত পোষণ করেন সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।
বিভিন্ন ইউনিটপ্রধানদের সঙ্গে সভা শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) যোগ দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। তিনি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান। এ সময় সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে ছিলেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী রয়েছে কিনা তা উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ