বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩২ পি.এম
ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উপর যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে তেহরান। এ সংক্রান্ত তথ্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যা তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুতিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি হুতিদের কাছে তেহরানের এ অনুরোধ পৌঁছানো হয়েছে। তবে কীভাবে বার্তাটি প্রদান করা হয়েছে বা মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেয়ার আগে নাকি পরে এটি পৌঁছেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা হুতি গোষ্ঠীর কোনো মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া জানাননি।
হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের হোদেইদা ও এডেন উপসাগরসংলগ্ন উঁচু এলাকায়, বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে জাহাজে হামলার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হুতিরা। তারা এখন হামলা শুরুর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
রয়টার্স বলছে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কারণ, ইতোমধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল রফতানি পথগুলোর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কখন বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করা হবে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তেহরান কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, যদি কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার সুযোগ দেয়, তবে সেই পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'আমাদের প্রতিবেশীদের জানা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া এবং ইরানের ভূখণ্ডে হামলার সুযোগ করে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটির যথাযথ জবাব দেয়া হবে।'
একইসঙ্গে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও ভয়াবহ ও ব্যাপক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ইরান শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার একমাত্র উপায় হলো জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন করা এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিষয়ে ইরানের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বাজেটের আয়-ব্যয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘নতুন অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি জমা ৬৬০ কোটি টাকা, রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ৯৬৫ কোটি টাকা।’
‘ব্যয়ের মধ্যে আছে- রাজস্ব ব্যয় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় উন্নয়ন ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে উন্নয়ন ব্যয় ৯৬৫ কোটি টাকা, অন্যান্য ব্যয় ৭ কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ৪২৭ কোটি টাকা।’
নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা ও নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বলেও তথ্য দেন প্রশাসক।
প্রশাসক বলেন, চলতি অর্থবছরে নগরবাসীর উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় রেখে একটি যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর যথাযথ সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় সীমিত বাজেট নিয়েও ডিএনসিসি নগর উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, সফলভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সাজানো হয়েছে। এ বাজেটে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন, বাজার ও মার্কেট আধুনিকায়ন, হকারদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, বস্তিবাসীর উন্নয়ন, কোরবানির হাট আধুনিকায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন এবং খাল সংস্কারের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি উন্নত, পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতেই এ বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, ঢাকা নগরীর সব কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশনের একক আওতায় নয়; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) এ কাজে সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএনসিসি।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরবাসী সচেতন হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। ডিএনসিসি ২৪ ঘণ্টাই নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপড়ায় আন্দারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রতে সদরপুর স্লুইস বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে ভুগছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।
গত বছর থেকেই স্লুইসে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, তবে অভিযোগ রয়েছে যে স্লুইস দিয়ে পানি নামানোর কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, ওই এলাকায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা ঘেঁষা জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার জন্য হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সদরপুর তিন ভেন্টের স্লুইস নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেরিবাঁধসহ ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এদিকে, পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
স্থানীয় সোনাতলা গ্রামের জলিল মিয়া বলেন, “স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার কারণে পানি নামতে পারছে না। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ হাওলাদার জানান, “গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতোনা।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়ার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সদরপুর স্লুইসসহ উপজেলার ১২৯টি স্লুইস নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহ আলম বলেন, “ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুনর্র্নিমাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যেখানে এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজ ঘরে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। আগুন লাগানোর পর যুবক দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘরের সামনে অবস্থান করেন এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখান। এই ঘটনার কারণে এলাকায় চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলার বলদিটারি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সাথে যুক্ত যুবক শামীম, যার পিতা মৃত আনোয়ার (বিডিআর)। স্থানীয়দের মতে, শামীম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাই জানিয়েছেন যে, শামীম নিজেই তার বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। এরপর তিনি দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও শাবল নিয়ে ঘরের সামনে অবস্থান করেন। যদি কেউ তাকে আটকাতে বা আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন, তাহলে তিনি প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। ফলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী, মা ও বোনও ভয়ে তার কাছে যেতে পারেননি।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাদের আসার আগে ঘরের প্রায় সব আসবাবপত্র এবং মালামাল পুড়ে যায়। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান বলেন, ‘মাদকাসক্ত এক যুবক নিজ বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার আতাইকুলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মারা গেছে আরও একজন। এই দুর্ঘটনার পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ জনে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার সময় সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী কড়ইতলা এলাকায় ঢাকা–পাবনা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনাটির নিশ্চিততা প্রদান করেন।
তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত শিশু নাফিস (৭)-কে পাবনা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাফিস সাঁথিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।
এর আগে, রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে নাটোরে পৌঁছানোর পর সকাল ১১টার দিকে ছলিম প্রামাণিক (৬৫) নামের একজন মারা যান। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত দানেজ প্রামাণিকের ছেলে। এর আগে, সকালে দুর্ঘটনাস্থলে মারা যান সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক পাবনা পৌর শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার জামাল শেখের ছেলে রাজ শেখ (২৮) ।
এই ঘটনায় আহত দুজন ছলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০) ও নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স সাঁথিয়া উপজেলার নিজ বাড়ির উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গীর কড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ এবং লাশের সঙ্গে থাকা শিশু কেয়ার নানি বুলু খাতুন নিহত হন। সেই সময় আরো চারজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। একই সাথে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ