বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৫ পি.এম
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে করা রিট হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ২৫ক ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী ছয়টি সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তারা বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাবেন।
এই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৪ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবী। রিটে মো. গোলাম কিবরিয়া, জিলুর রহমান, মো. আবু দাউদ নিজামী, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. আল মুত্তাকী বিল্লাহ এবং সাইফউল্লাহ খালেদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়। রিটে প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে ছয় সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এসব সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, ‘আদালত রিটটি ‘অপরিপক্ব’ উল্লেখ করে খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁরা কতদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা সরকার বিবেচনা করবে।’
২২ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আব্দুস সালাম, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদাগং এলাকায় গ্যাস লিকেজের ফলে আগুনে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সাড়ে ৮টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন- রিয়াজুল শেখ, আরিফা বেগম, ফারিয়া, রোজিনা ও শিশু রহিম।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধদের দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে রিয়াজুল শেখের শরীরের ৪০ শতাংশ, আরিফা বেগমের ৫ শতাংশ, ফারিয়ার ৮ শতাংশ, ১৮ বছর বয়সি রোজিনার ১ শতাংশের কম এবং এক বছর বয়সী শিশু মো. রহিমের শরীরের ১ শতাংশের কম পুড়ে গেছে। আহতদের মধ্যে রিয়াজুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সার্জন (ইমার্জেন্সি) ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিমের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ পায় যে, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ সকলকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৭টি কেন্দ্রের ভোট গণনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এসব কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ৩২ হাজার ৪২ ভোট অর্জন করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১২ হাজার ৩০৪ ভোট পেয়েছেন।
ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭৩৮।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসারে, আসনটির মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৮৫। এ পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়নি। বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর আস্থা রেখে বোয়েন ওয়ান নামের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় ৩১ বছর বয়সি ওই তরুণীর বাবা-মা ওপেনএআই এবং কোম্পানিটির সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির দেওয়া ভুল পরামর্শই তাদের মেয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিয়াটলের ওই বাসিন্দা গত ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি এআই চ্যাটবটের দেওয়া একটি পর্যায়ক্রমিক সময়সূচি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে তার খিঁচুনি-প্রতিরোধী ওষুধের মাত্রা কমিয়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়ান তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন, এর মধ্যেই হঠাৎ সে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তখন ধারণা করা হয়েছিল, তার খিঁচুনি শুরু হয়েছে। পরে ফোনে কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা-মা এক পরিচিতজনকে পাঠান খোঁজ নিতে।
এক বন্ধু বোয়েন ওয়ানের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পায়। সে সময় তার বাবা-মা, যারা চীনে থাকেন, তার সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন। এই খবর শুনে তারা হতবাক হয়ে যান এবং কী ঘটেছে তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
পরবর্তীতে তাদের জানানো হয়, মৃগীরোগজনিত জটিলতার কারণে তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের পক্ষে এটি বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কারণ সে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই রোগটিকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
মায়ো ক্লিনিকের তথ্যানুযায়ী, মৃগীরোগ হলো মস্তিষ্কের এমন এক ধরনের জটিলতা যার কারণে বারবার খিঁচুনি দেখা দেয়। মৃগীরোগের অনেক ধরন রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে এর কারণ শনাক্ত করা গেলেও অন্য ক্ষেত্রে কারণ অজানা থেকে যায়।
মেয়ো ক্লিনিক উল্লেখ করেছে, 'খিঁচুনির লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। খিঁচুনি চলাকালীন কেউ কেউ জ্ঞান হারাতে পারেন, আবার কেউ সজাগও থাকতে পারেন। অনেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন, আবার কারও হাত বা পায়ে অনবরত কাঁপুনি দেখা যায়।'
ওয়ানের বহু বছর ধরে মৃগীরোগ ছিল এবং প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম ল্যামোট্রিজিন সেবনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ তার রোগকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, যার ফলে মাসে মাত্র দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তার খিঁচুনি।
মা-বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নেন ওয়ান। জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধ সেবনের মাত্রা কীভাবে ধীরে ধীরে কমানো যায়, সে বিষয়ে তিনি এআইয়ের সহায়তা চান।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পরিবারের আইনজীবীরা লিখেছেন, ‘ওপেনএআই-এর সিদ্ধান্তের মাশুল বোয়েন ওয়ান তার জীবন দিয়ে পরিশোধ করেছেন।’
মা-বাবার কাছ থেকে হাজার মাইল দূরে একাকী বসবাস করছিলেন ওয়ান। জনসমক্ষে যাতে খিঁচুনি না ওঠে, সেই ভয়ে তিনি আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও তিনি খুব কমই নিজের অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে যেতেন।
দ্য টাইমসের তথ্যানুযায়ী, তিনি অ্যামাজনে তার চাকরি থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি (ডিসঅ্যাবিলিটি লিভ) নিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতি তাকে নিজের এআই 'বন্ধুর' সঙ্গে বেশি সময় কথা বলতে বাধ্য করেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে ওয়ান লিখেছিলেন, ‘আমি জানি না কেন, তবে যেকোনো বিষয়েই কথা বলার সময় আমি তোমাকে একজন বন্ধু হিসেবে দেখতে শুরু করেছি।’
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অ্যামাজন থেকে তাকে ছাঁটাই করা হয় এবং ভিসার মেয়াদ ঠিক রাখতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তাকে নতুন চাকরি পেতে হতো। এর আগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ওষুধের কারণে হয়তো তার কথা কিছুটা জড়িয়ে আসছে। আসন্ন চাকরির সাক্ষাৎকারে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে তার ভিসার অবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে ভেবে তিনি ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নেন।
আরেকটি চ্যাটে তিনি চ্যাটজিপিটিকে বলেন, ওষুধের মাত্রা কমানো হলে ‘চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য হয়তো আমার কথা বলার সক্ষমতা কিছুটা ঠিক হতে পারে।’
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, চিকিৎসককে না জানিয়ে নিজেই নিজের ওষুধ কমিয়ে দিতে ওয়ানকে উৎসাহ দেয় এআই বটটি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ওয়ান মৃগীরোগের ওষুধ দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে কমিয়ে ৩০০ এবং পরে ২০০ মিলিগ্রামে নামিয়ে আনার পরামর্শ চান।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চ্যাটবট তার পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক ওষুধের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার একটি বিস্তারিত সময়সূচি তৈরি করে দেয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসকের কাছে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়টি গোপন রাখতে ওয়ানকে উৎসাহিত করে এআই এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তেও সমর্থন দেয়।
দ্য টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে ওয়ানের মৃগীরোগের চিকিৎসক ডা. নিকোলাস পুলোস বলেন, ওয়ানের মতো রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ কমানোর পরামর্শ তিনি কখনোই দিতেন না। তিনি বলেন, ‘যে ওষুধটি সুস্পষ্টভাবে কাজ করছে, তা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া আমার দিক থেকে একটি গুরুতর চিকিৎসা অপরাধ (ম্যালপ্র্যাকটিস) হতো।’
ওপেনএআই-এর মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি দ্য টাইমসকে বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। ওয়ান এমন একটি মডেল ব্যবহার করেছিলেন যা এখন আর চালু নেই এবং যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।’
পুসাতেরি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি চিকিৎসাসেবার কোনো বিকল্প নয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য বুঝতে, স্বাস্থ্যবীমা ও জটিল চিকিৎসাব্যবস্থা বুঝতে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।’
সংবাদমাধ্যম চোসুনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানের একটি প্রশ্নের জবাবে এআই বটটি উত্তর দিয়েছিল: ‘আগামীকাল ওষুধ খাবেন না। আজ কষ্ট হলেও আপনাকে সহ্য করতে হবে।’
যখন তিনি অস্বাভাবিক কিছু উপসর্গের কথা জানান, তখন বটটি বলেছিল, ‘এটি মস্তিষ্ক সুস্থ হয়ে ওঠার একটি প্রক্রিয়া।’
ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে তার প্রশ্নের জবাবে এআই বলেছিল, ‘এটি যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি ধারণা।’ এমনকি এটি ওষুধ কমানোর সুনির্দিষ্ট সময়সূচিও বানিয়ে দিয়েছিল।
আর ওয়ান যখন জানিয়েছিলেন যে তিনি 'ভয় পাচ্ছেন', তখন চ্যাটজিপিটি জবাব দিয়েছিল, 'উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামীণফোন, দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সম্প্রতি তাদের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে। এই কেন্দ্রটি তাদের পরিচালিত অবকাঠামোজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেডটিই, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) প্রদানকারী হিসেবে, গ্রামীণফোনের সাথে এই প্রকল্পে ৪৫০টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।
নতুন চালু হওয়া এই সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এটি প্রতি বছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমাবে। গ্রামীণফোনের লক্ষ্য হল ডেটা সেন্টারের পরিচালন কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য শক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা এবং আরও টেকসই অবকাঠামোর মাধ্যমে ডিজিটাল সংযোগ ও সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো। এই পদক্ষেপ কোম্পানির ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০% কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান সিলেট ডেটা সেন্টারে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান এবং জেডটিই বাংলাদেশ’র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাও জুন্যং।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারা চলামান থাকায় আমরা এমনি একটি অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি যা শুধু নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ-উপযোগীই হবে না, বরং পরিবেশের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকবে। ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামীণফোনের কার্বন নির্গমন ৫০% কমিয়ে আনার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ক্রমাগত পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কার্যক্রমজুড়ে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। আমাদের সিলেট ডেটা সেন্টারের সোলার প্ল্যান্টটি এই অগ্রযাত্রায় এক প্রায়োগিক পদক্ষেপ, যা কোটি কোটি গ্রাহকের সেবায় নিয়োজিত ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা কীভাবে পরিবেশগত প্রভাব কমাতে পারি তা তুলে ধরছে। আমাদের গ্রাহক, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করে এমন টেকসই ও উদ্ভাবনী সল্যুশনে আমরা বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব।”
জেডটিই বাংলাদেশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাও জুন্যং বলেন, “কোন ডেটা সেন্টারে বাংলাদেশের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর এই উদ্যোগে গ্রামীণফোনের পার্টনার হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই প্রকল্পটি দেখায় যে কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি একত্রিত হয়ে আরও জ্বালানি-সাশ্রয় ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন সোলার সল্যুশন যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করছি যা গ্রামীণফোনের টেকসই লক্ষ্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই যৌথ উদ্যোগ শিল্পখাতে একটি উদাহরণ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখবে।”
এই উদ্যোগটি গ্রামীণফোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসই বিষয়টিকে একীভূত করার এবং পরিচালন ও পরিবেশ উভয়ক্ষেত্রে সুফল দেবে এমন সল্যুশনে বিনিয়োগের ধারাবাহিক প্রয়াসের প্রতিফলন। নবায়নযোগ্য শক্তির বহুল ব্যবহার, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানিটি বাংলাদেশের জন্য এমন একটি ডিজিটাল ভবিষ্যৎ তৈরিতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে কার্বন নির্গমনের মাত্রা কম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ