০৪:৪২ পি.এম
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি কড়া সমালোচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফুটবল বিশ্লেষক ফিল ম্যাকনালটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ প্রতিপক্ষ স্পেন নয়, বরং আর্জেন্টিনার নিজেদের কৌশল ও আচরণ। প্রতিবেদনের শিরোনামেই উল্লেখ করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা যেন মেসির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা তাদের স্বাভাবিক ফুটবল থেকে সরে গিয়ে অতিরিক্ত শারীরিক ও আক্রমণাত্মক কৌশলের ওপর নির্ভর করে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দলের আক্রমণ সাজানোর পরিবর্তে তিনি দীর্ঘসময় কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।
বিবিসির মতে, বয়স বেড়ানোর সাথে সাথে মেসি নিজেকে বারবার নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু ফাইনালে সতীর্থদের খেলার ধরন তাকে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়নি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে কি কোনো প্রভাব পড়বে
প্রতিবেদনে যেটি বলা হয়েছে, স্পেনের জয় ছিল ফুটবলের জয়। কারণ, পুরো ম্যাচে স্প্যানিশরা বলের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা বারবার ফাউল, শারীরিক লড়াই এবং উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছিল।
বিবিসি আরও উল্লেখ করেছে, ম্যাচের শুরুতে স্পেনের দানি ওলমোর ওপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি কঠিন ফাউলের পরও কঠোর শাস্তি না হওয়ায় গ্যালারিতে থাকা স্প্যানিশ সমর্থকেরা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নাম বলে ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় আসে।
প্রথম হলুদ কার্ড পেতে আর্জেন্টিনার ৪০ মিনিট সময় লেগে যাওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিবিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের একাধিক কঠিন ফাউল অনেকের কাছে বিস্ময়কর ছিল।
মেসিও এক পর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। স্পেনের মার্ক কুকুরেয়ার আচরণের বিরুদ্ধে রেফারির কাছে অভিযোগ জানাতে দেখা যায় তাকে। তবে প্রতিবেদনে মূল সমালোচনা ছিল দলের সামগ্রিক মানসিকতা নিয়ে।
আরও পড়ুন: জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৭ নিহত
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের অপ্রয়োজনীয় ফাউল এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েই হারের মুখ দেখে।
পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শটই নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। অপরদিকে স্পেন গোলমুখে ১২টি শট নেয়। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে আর্জেন্টিনার সফল পাস ছিল মাত্র আটটি, অথচ তাদের ফাউল ছিল নয়টি।
ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়। লিয়ান্দ্রো পারেদেস এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিবিসির মতে, একটি অসাধারণ বিশ্বকাপের সমাপ্তি এমনভাবে হওয়া উচিত ছিল না।
তবে সমালোচনার মাঝেও মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে এটি যদি সত্যিই তার শেষ ম্যাচ হয়ে থাকে, তবে তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে মনে রাখা হবে।
আরও পড়ুন: রিয়াদে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মো. শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা
সূত্র: বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন