ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নবম পে স্কেল কার্যকর, গেজেট প্রকাশের পর মিলবে বর্ধিত বেতন


নবম পে স্কেল কার্যকর, গেজেট প্রকাশের পর মিলবে বর্ধিত বেতন

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারী চাকরিজীবীদের জন্য কার্যকর হয়েছে নবম জাতীয় পে স্কেল। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও বাড়তি বেতন কবে থেকে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, সেই বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গেজেট প্রকাশ এবং হিসাব সমন্বয়ের ওপরেই নির্ভর করছে বর্ধিত বেতন পাওয়ার সময়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পে স্কেল কার্যকরের দিন শুরু হলেও প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ, সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয় এবং বেতন বিল প্রস্তুতের কারণে বর্ধিত অর্থ হাতে পেতে সময় লাগতে পারে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, গেজেট জারির পর বকেয়াসহ নতুন হারে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একই বেতন কাঠামোর অধীনে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবম পে কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বিভিন্ন স্তরে মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নে সব সুপারিশ হুবহু থাকবে কিনা, তা সরকারের অনুমোদিত গেজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি আলাদা ধাপে কার্যকর করার চিন্তাভাবনা ছিল। তবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় কারিগরি জটিলতা এড়াতে মূল বেতন এক ধাপে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সংশোধন পরবর্তী ধাপে কার্যকর হতে পারে। সরকার নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যবহার হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী অবস্থান করছেন। তাদের বেতন ও পেনশন খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিলেও অর্থনীতিবিদদের নজর এখন আর্থিক প্রভাবের দিকে। তাদের মতে, বেতন বৃদ্ধি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, তবে বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে বাড়তি চাহিদার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চমক দেখাতে চায় বসনিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চমক দেখাতে চায় বসনিয়া

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এবার নকআউট পর্বের কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠের স্বস্তি কাজে লাগিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে চায়। অন্যদিকে, সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে ওঠা বসনিয়া নতুন আরেকটি চমক দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গ্রুপ পর্বে দারুণ সূচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট নিশ্চিত করে। যদিও শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে তারা শেষ বত্রিশে পৌঁছে গেছে মরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা।

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের নকআউট অভিজ্ঞতা মোটেও কম নয়। ১৯৩০ সালে তারা তৃতীয় স্থান, ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ সালে শেষ ষোলোতে উপস্থিত ছিল। এবারের আসরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিকরা।

অন্যদিকে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নকআউটে উঠাটাই একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের পর তারা ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, কিন্তু এবারে গ্রুপ পর্বে কানাডার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে, সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হয়। তবে, শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে পরাজিত করার মাধ্যমে তারা চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসাবে শেষ বত্রিশে প্রবেশ করে।

এই দুই দলের মধ্যে এর আগে তিন বার দেখা হয়েছে এবং সবগুলোই ছিল প্রীতি ম্যাচ। তবে, প্রতিযোগিতামূলক আসরে এই প্রথমবার তারা মুখোমুখি হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে সংঘটিত হওয়া দুই দলের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১-০ গোলে বিজয়ী হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র শিবিরে কয়েকজন ফুটবলারের চোট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ক্রিস্টিয়ান রোলদান, মার্ক ম্যাকেঞ্জি ও অস্টন ট্রাস্টির খেলা নিয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, সের্জিনিও ডেস্ট, ক্রিস রিচার্ডস এবং ফুলারিন বালোগুনকে নিয়ে একাদশ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি গোল করা বালোগুন আক্রমণের প্রধান ভরসা বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বসনিয়ার দলে আমার ডেডিচের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে, সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে লাল কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকা তারিক মুহারেমোভিচ দলে ফিরছেন। দলের আক্রমণে অভিজ্ঞ অধিনায়ক এদিন জেকো হিসেবে থাকবেন। যদিও ৪০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এখনও বিশ্বকাপে কোনো গোল করতে সক্ষম হননি, তবে দেশের হয়ে তার নামের পাশে ৭৩টি গোল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একাদশ: ফ্রিজ; ফ্রিম্যান, রিম, রিচার্ডস, রবিনসন; অ্যাডামস, টিলম্যান; ডেস্ট, ম্যাককেনি, পুলিসিচ; বালোগুন।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: ভাসিল; ডেডিচ, কাতিচ, মুহারেমোভিচ, কোলাশিনাচ; বাইরাকতারেভিচ, শুনইচ, বাসিচ, আলাইবেগোভিচ; জেকো, দেমিরোভিচ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতির শর্ত চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নয়: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


যুদ্ধবিরতির শর্ত চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নয়: ইরান

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার পরিকল্পনা নেই। মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কোনো পরিকল্পনা গৃহীত হয়নি।

এই অবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই প্রসঙ্গে, ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলি সম্পূর্ণরূপে চূড়ান্ত করতে হবে আগে। এরপরেই পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য জটিল বিষয়গুলোর আলোচনা শুরু হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, প্রাথমিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান।

প্রস্তাবিত কাঠামোর অনুযায়ী, কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা পরিকল্পনার কথাও রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এই সফরকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যদিও ইরান এবং স্বাগতিক দেশ কাতার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা সরাসরি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালাবেন। কাতার জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন এবং তিনি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরো কিছু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে কিছুদিন বিঘ্ন ঘটার পর, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে, বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হতো। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই জলপথ পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে, অর্থাৎ আগস্টের মাঝামাঝি থেকে, এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, "হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার ইরান ও ওমানের।" এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে বলেছেন, "আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না।" 'দ্য মাইকেল নোলস শো'তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে ইরানকে অর্থ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তিনি আরও দাবী করেন যে, তেল পরিবহন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং তা যুদ্ধের আগের অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

যুদ্ধের অনিশ্চয়তা থাকলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর উপর হামলা চালায়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) মঙ্গলবার জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে চাপ কিছুটা কমলেও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোতে এখনো খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জ্বালানি বিক্রেতাদের পেট্রোলের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী এই চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর মিত্র এবং লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি, লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া পৃথক একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামোর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ এবং জটিল হয়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজের ৫০ দিন পর রান্নাঘরের মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


নিখোঁজের ৫০ দিন পর রান্নাঘরের মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার মরদেহ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিখোঁজের ৫০ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মরদেহটি পাওয়া গেছে বাড়ির পাশে অবস্থিত এক আত্মীয়ের রান্নাঘরের মাটির নিচে।

বুধবার (১ জুলাই) ভোরে, সিরাজদিখান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আওলাদ হোসেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের সন্তান।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মে থেকে আওলাদ হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৩ মে তার ভাই আব্দুল আউয়াল শেখ সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পরিবার সদস্যরা সম্ভাব্য নানা স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিখোঁজের খবর প্রচার করেন। কিন্তু তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওলাদ হোসেনের ভায়রা খায়ের ব্যাপারীর বাড়ির রান্নাঘরের মাটির গভীর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত জীবনে আওলাদ হোসেন দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং পারিবারিকভাবে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন চাইনপাড়া গ্রামের কায়কোবাদ ব্যাপারীর ছেলে মানিক ব্যাপারী (৪০), মৃত হাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে বিন আমিন (৩৬), মমিন আলীর ছেলে রিপন (৩০) এবং রংপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত গাফফার মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৮)।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক চারজনকে পুলিশ রেখেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। বিস্তারিত জানানো হবে তদন্ত শেষে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোটার নিবন্ধনে আসছে নতুন বিধান, প্রয়োজন হবে যেসব তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


ভোটার নিবন্ধনে আসছে নতুন বিধান, প্রয়োজন হবে যেসব তথ্য

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে, যা হচ্ছে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার অধীনে নতুন ভোটার হতে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীদের পিতা-মাতার পাশাপাশি ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্যও জমা দিতে হবে।

বাংলানিউজ২৪ এর এক প্রতিবেদনে ইসি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সাধারণত এনআইডি পাওয়ার জন্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। ১৬-১৭ বছর বয়সীদের ভোটার না হলেও একই ফরম পূরণ করতে হয়। বর্তমানে ফরমে কেবল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পিতা ও মাতার এনআইডির তথ্য দিতে হয়। তবে আগামীতে পরিবারের অন্য সদস্য, অর্থাৎ ভাই-বোনের তথ্যও দিতে হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মায়ানমার থেকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ ফরমের মাধ্যমে ভোটার বা এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ফলে চট্টগ্রাম এলাকা থেকে তাদের এনআইডি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণে রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও মাঝে মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি হাতিয়ে নেয়। অনেকে বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে থাকেন।

কেবল পিতা-মাতার এনআইডির তথ্য নেওয়ায় দালালরা সহজেই তথ্য সংগ্রহ করে দেয়। ওই পথে আরও কঠিনতা আনতে ভাই-বোনের এনআইডির তথ্যও নেয়া হবে, যা মাধ্যমে ভোটার হতে আসলে সবার তথ্য সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করে যাচাই করা যাবে।

এদিকে দেশের নাগরিকরাও অনেকসময় অনৈতিক কারণে পিতা-মাতার নাম বা তথ্য পরিবর্তন করার আবেদন করেন। এতে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়ে থাকে। ভাই-বোনের এনআইডির তথ্য নেয়া হলে সেই অনৈতিকতা আর করা সম্ভব হবে না। কারণ, ভাই-বোনের এনআইডিতে পিতা-মাতার নাম ও তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। ফলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই ধরনের কাজ হবে।

প্রথমত, বিদেশিদের এনআইডি হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমবে। অন্যদিকে, দেশের নাগরিকদের জালিয়াতিও রোধ হবে। ইসির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবারের সকল তথ্য একসাথে থাকলে এনআইডি সংশোধনের হার কমে যাবে এবং মুহূর্তেই সবার তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই ব্যক্তির পরিচয় আরও সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করতে পারবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ তৈরির পরিকল্পনা চলছে। আবেদনকারী যখন আসবে, তখন তার পিতা-মাতা, কয়জন ভাই-বোন আছে, তাদের এনআইডির তথ্য দিতে হবে। এতে এনআইডি জালিয়াতির হার কমবে এবং পরিবারের সবার তথ্য একসাথে পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে এবং শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।

অনেকে সনদের সঙ্গে ভাই-বোনের এনআইডিতে উল্লেখিত পিতা-মাতার নামের মিল নেই। এমন পরিস্থিতিতে ভোটার হতে আসলে সমাধানের জন্য আবেদন করা হবে। সচিব বলেন, ভাই-বোনদের মধ্যে পিতা-মাতার নামের বানানে যদি মিল না থাকে, তবে তারা সবাই মিলে মিল করার জন্য আবেদন করবেন। এ থেকে কোন অসুবিধা হবে না।

তিনি আরও জানান, সকল এনআইডিতে একই রকম তথ্য থাকা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে অনিয়ম কমবে এবং এনআইডি সংশোধনের আবেদনের হারও কমবে।

ভোটার হয়ে এনআইডি পাওয়ার জন্য সাধারণত নাম, পিতা-মাতার এনআইডির কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পাসপোর্ট, জন্মসনদ, ইউটিলিটি বিল, বিবাহিতদের জন্য স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএন নম্বর, ফোন নম্বর, রক্তের গ্রুপসহ অন্যান্য তথ্য দিতে হয়।

এনআইডি সংশোধনের জন্য হলফনামা, শিক্ষাসনদ, পরিবারের সদস্যদের এনআইডি, তালাকনামা, কাবিননামা, বাড়ির দলিল, ইউটিলিটি বিল, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়।

প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জন্য পাসপোর্টের কপি, তিনজন এনআইডিধারী নাগরিকের প্রত্যয়ন, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। সেইসাথে প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসীরা দেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারেন।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫৬টি উপজেলা/থানার জন্য বিশেষ তথ্য ফরম, শিক্ষাসনদ, পিতা-মাতার এনআইডি, মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন, নিকাহনামা, স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি, বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র এবং বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হয়।

বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন নাগরিকের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।

এছাড়া, ইসি কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠান নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসির সার্ভার থেকে যাচাই সেবা নেয়। ‘ফ্যামিলি ট্রি’ কার্যক্রম চালু হলে পরিবারের সবার তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%