১১:২৪ এম
নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে, যা হচ্ছে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার অধীনে নতুন ভোটার হতে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীদের পিতা-মাতার পাশাপাশি ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্যও জমা দিতে হবে।
বাংলানিউজ২৪ এর এক প্রতিবেদনে ইসি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সাধারণত এনআইডি পাওয়ার জন্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। ১৬-১৭ বছর বয়সীদের ভোটার না হলেও একই ফরম পূরণ করতে হয়। বর্তমানে ফরমে কেবল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পিতা ও মাতার এনআইডির তথ্য দিতে হয়। তবে আগামীতে পরিবারের অন্য সদস্য, অর্থাৎ ভাই-বোনের তথ্যও দিতে হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মায়ানমার থেকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ ফরমের মাধ্যমে ভোটার বা এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ফলে চট্টগ্রাম এলাকা থেকে তাদের এনআইডি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণে রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও মাঝে মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি হাতিয়ে নেয়। অনেকে বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে থাকেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
কেবল পিতা-মাতার এনআইডির তথ্য নেওয়ায় দালালরা সহজেই তথ্য সংগ্রহ করে দেয়। ওই পথে আরও কঠিনতা আনতে ভাই-বোনের এনআইডির তথ্যও নেয়া হবে, যা মাধ্যমে ভোটার হতে আসলে সবার তথ্য সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করে যাচাই করা যাবে।
এদিকে দেশের নাগরিকরাও অনেকসময় অনৈতিক কারণে পিতা-মাতার নাম বা তথ্য পরিবর্তন করার আবেদন করেন। এতে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়ে থাকে। ভাই-বোনের এনআইডির তথ্য নেয়া হলে সেই অনৈতিকতা আর করা সম্ভব হবে না। কারণ, ভাই-বোনের এনআইডিতে পিতা-মাতার নাম ও তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। ফলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই ধরনের কাজ হবে।
প্রথমত, বিদেশিদের এনআইডি হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমবে। অন্যদিকে, দেশের নাগরিকদের জালিয়াতিও রোধ হবে। ইসির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবারের সকল তথ্য একসাথে থাকলে এনআইডি সংশোধনের হার কমে যাবে এবং মুহূর্তেই সবার তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই ব্যক্তির পরিচয় আরও সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করতে পারবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ তৈরির পরিকল্পনা চলছে। আবেদনকারী যখন আসবে, তখন তার পিতা-মাতা, কয়জন ভাই-বোন আছে, তাদের এনআইডির তথ্য দিতে হবে। এতে এনআইডি জালিয়াতির হার কমবে এবং পরিবারের সবার তথ্য একসাথে পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে এবং শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
অনেকে সনদের সঙ্গে ভাই-বোনের এনআইডিতে উল্লেখিত পিতা-মাতার নামের মিল নেই। এমন পরিস্থিতিতে ভোটার হতে আসলে সমাধানের জন্য আবেদন করা হবে। সচিব বলেন, ভাই-বোনদের মধ্যে পিতা-মাতার নামের বানানে যদি মিল না থাকে, তবে তারা সবাই মিলে মিল করার জন্য আবেদন করবেন। এ থেকে কোন অসুবিধা হবে না।
তিনি আরও জানান, সকল এনআইডিতে একই রকম তথ্য থাকা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে অনিয়ম কমবে এবং এনআইডি সংশোধনের আবেদনের হারও কমবে।
ভোটার হয়ে এনআইডি পাওয়ার জন্য সাধারণত নাম, পিতা-মাতার এনআইডির কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পাসপোর্ট, জন্মসনদ, ইউটিলিটি বিল, বিবাহিতদের জন্য স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএন নম্বর, ফোন নম্বর, রক্তের গ্রুপসহ অন্যান্য তথ্য দিতে হয়।
এনআইডি সংশোধনের জন্য হলফনামা, শিক্ষাসনদ, পরিবারের সদস্যদের এনআইডি, তালাকনামা, কাবিননামা, বাড়ির দলিল, ইউটিলিটি বিল, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জন্য পাসপোর্টের কপি, তিনজন এনআইডিধারী নাগরিকের প্রত্যয়ন, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। সেইসাথে প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসীরা দেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারেন।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫৬টি উপজেলা/থানার জন্য বিশেষ তথ্য ফরম, শিক্ষাসনদ, পিতা-মাতার এনআইডি, মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন, নিকাহনামা, স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি, বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র এবং বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হয়।
বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন নাগরিকের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।
এছাড়া, ইসি কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠান নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসির সার্ভার থেকে যাচাই সেবা নেয়। ‘ফ্যামিলি ট্রি’ কার্যক্রম চালু হলে পরিবারের সবার তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন