০৮:৪৯ পি.এম
ঢাকঢোলের বাদ্য বাজছে। সেই সুরের তালে বৈঠা চালাচ্ছেন একদল নারী। সবার পরনে হলুদ শাড়ি। নৌকার এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে অষ্টক গান, অন্য প্রান্তে নারী মাঝিদের উচ্ছ্বাস। বৈঠার ছন্দে কাজলা নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলেছে নৌকাগুলো। এই ব্যতিক্রমী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের এগারোখান এলাকায় কাজলা নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে।
যশোর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রতিবেশী জেলা থেকেও অনেকে আসেন নৌকাবাইচ দেখতে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নদীর দুই পাড় হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
আরও পড়ুন: প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নারীদের এই ব্যতিক্রম নৌকা বাইচ দেখতে যশোর থেকে এসেছেন সুমি ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে অনেক নৌকা বাইচ দেখেছি। এক সময় সুলতান মেলায় চিত্রা নদীতে নৌকা বাইচ দেখতে যেতাম। বাড়ির কাছাকাছি নৌকা বাইচ হওয়ায় পরিবার সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বেশ ভালোই লাগছে। নারীদের অংশগ্রহণে এমন নৌকা বাইচ আগে কখনও দেখিনি। প্রতিবছর এ কাজলা নদীতে বাইচ অনুষ্ঠিত হোক আয়োজকদের কাছে এটাই দাবি।’
নৌকাবাইচ ঘিরে নদীর পাড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকান। ঢাকঢোলের শব্দ, গান আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
বাঁশ ও বেতের চালুনি, ঝুড়ি ও থামা নিয়ে নদীর কূলে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ষাটোর্ধ নারী রুমি রানি। তিনি বলেন, ‘থামা, কুলা ও ডালা বিক্রি করি। অনেকেই কিনে নিচ্ছেন।
শনিবার বিকেল চারটায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে এবং অলকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বাস্তবায়নে দুই দিনব্যাপী ‘জাতীয় নারী নৌকাবাইচ, সাংস্কৃতিক উৎসব ও ফ্রি হেলথ ক্যাম্প-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ১৬টি মতুয়া নারী দলের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের (শুক্রবার) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লিংকন বিশ্বাস, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম, নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানের আয়োজক, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম বলেন, নড়াইলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন বাড়ানো এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিকত করাও উৎসবের লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, নারীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের নৌকাবাইচ নড়াইলের লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন বিকাশ ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন