ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৌদি আরবকে ১৯৬ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র


সৌদি আরবকে ১৯৬ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১৯৬ কোটি ডলার মূল্যের 'প্রিসিশন-গাইডেড' রকেট সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফরেন মিলিটারি সেল’ (এফএমএস) প্রক্রিয়ার আওতায় সৌদি আরবের কাছে এই উন্নত সমরাস্ত্র ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই চুক্তির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে মূলত ১০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ এয়ার-টু-এয়ার গাইডেন্স সেকশন এবং আরও ১০ হাজার ‘এপিকেডব্লিউএস-টু’ এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গাইডেন্স সেকশন ক্রয়ের জন্য অনুরोध জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও জানাচ্ছে, এই প্রস্তাবিত বিক্রয় প্রক্রিয়ায় অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে— এলএইউ-১৩১ এ/এ লঞ্চার, এমকে-১৫২ হাই এক্সপ্লোসিভ ওয়ারহেড, এমকে৬৬ রকেট মোটর, প্রক্সিমিটি ফিউজ, ডব্লিউটিইউ-১/বি প্র্যাকটিস ওয়ারহেড এবং ইনার্ট এমকে৬৬ রকেট মোটর।

এছাড়াও, চুক্তির আওতায় টেস্ট সাপোর্ট সরঞ্জাম, লঞ্চ ও এমপ্লয়মেন্ট সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ ও মেরামত সরঞ্জাম, প্রকাশনা ও কারিগরি নথিপত্র (ডকুমেন্টেশন), সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। একই সময়ে মার্কিন সরকার এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল ও লজিস্টিক সাপোর্ট সার্ভিসসহ লজিস্টিকস ও প্রোগ্রাম সাপোর্টের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ছাত্রদলের স্মরণসভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


শাবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ছাত্রদলের স্মরণসভা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, শাবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকালে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক সালমা ইসলামও ছিলেন।

এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

স্মরণসভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বক্তব্যে বলেন, "ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, সেই সাম্য ও ন্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল লক্ষ্য। ফ্যাসিবাদের দোসররা যাতে পুনরায় কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রদলকে সর্বদা সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"

এ সময় জুলাইয়ে হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐতিহাসিক একটা গৌরব রয়েছে। সেই গৌরবকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, ছাত্রদল সততা ও আদর্শকে ধারণ করবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও কর্মধারা দেখছেন। তিনি একজন রোল মডেল। তিনি আচরণে বিনয়ী এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদেরও ভালো কাজ করতে হবে। আপনাদের কোনো ভালো আইডিয়া থাকলে অবশ্যই আমাদের জানাবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে পারে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে এবং একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া সুহি মাইলস্টোন কলেজের ছাত্রী নন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া সুহি মাইলস্টোন কলেজের ছাত্রী নন

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি’ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি বর্তমানে মাইলস্টোন কলেজের ছাত্রী নন, এমন তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মাইলস্টোন কলেজের সিকিউরিটি অফিসার মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জিডিটি করতে যান। জিডিতে উল্লেখ করা হয় যে, রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাইলস্টোন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রী ছিলেন। শৃঙ্খলাজনিত কারণে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়। এ কারণে বর্তমানে তিনি কলেজটির শিক্ষার্থী নন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহারেরও কোনো অধিকার তার নেই।

জিডিতে আরো বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সুহিকে মাইলস্টোন কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। কলেজের দাবি, শিক্ষার্থী না হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং কলেজের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার কাছে আবেদন জানিয়েছে মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২২ পি.এম


জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত এবং সকল আন্দোলনকারীর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে|
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়|
স্মরণ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন|
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মামুন আর রশিদ মামুন| আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম আব্দুর রাজ্জাক| সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট| সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক মিলন|
সভায় বক্তারা গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন| অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ছাত্রনেতা, শিক্ষক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন|

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা: ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা: ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে, আর সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

এই অবস্থায় গঠন করা হয়েছে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সমঝোতা স্মারক, যা গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু বর্তমানে এই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। উভয় দেশই জানিয়েছে, ওই সমঝোতা আর কার্যকর নয়। তবে এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেনি।

মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান দুই পক্ষকে মানসিক শান্তি ফিরিয়ে এনে হামলা বন্ধ করার এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি দাবি করেছেন, “স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য সংলাপ, কূটনীতি ও ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই।”

যদিও প্রকাশ্যে দুই দেশের নেতারা আপসের বিষয়ে অনাগ্রহী অবস্থান দেখাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরান শান্তিচুক্তির জন্য মরিয়া হলেও তিনি তেহরানের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না।

অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্তিত্বের লড়াইয়ে রয়েছে। তাই শান্তি চুক্তি মেনে চলার আর কোনো কারণ নেই।”

এখন প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আদৌ কার বেশি?

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান একটি দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর নতুন করে বড় আঘাত হেনেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দেশের তেল রফতানি, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ এবং বিদেশে থাকা সম্পদ ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরেই সীমাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

ফলস্বরূপ ২০১২ সালের মাথাপিছু জিডিপি যেখানে প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার ছিল, তা ২০২৪ সালের মধ্যে নেমে এসেছে প্রায় ৫ হাজার ডলারে। একই সময়ে দৈনিক তেল রফতানি ২২ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ব্যারেলে।

গত জুনে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হওয়ার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এটির ইতিবাচক প্রভাবে ইরানি রিয়ালের মূল্য একদিনেই প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে আবারও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করায় ইরানের অর্থনীতি নতুন করে অবনতি ঘটেছে।

এছাড়া, যুদ্ধের প্রথম ধাপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ড্রোনের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহৃত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জানা গেছে।

অন্যদিকে আঞ্চলিক সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৯টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটি বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত।

ইরান দাবি করছে, তারা কেবল মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে বাস্তবে কিছু হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো যৌথভাবে সামরিক তথ্য আদান-প্রদান ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে।

জন্ম নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও চাপ। যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের বিভিন্ন দিক থেকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের অবরোধের ফলে সেই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে জনসমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য এই যুদ্ধ বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন জরিপে ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ এখনও সংকটজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও সম্প্রতি তা দ্রুত কমছে। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রায় সাত ধরনের অস্ত্রের মধ্যে অন্তত চারটির অর্ধেকের বেশি মজুদ প্রথম দফার যুদ্ধেই শেষ হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চলাকালে ইতোমধ্যে ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হয়েছে বলে সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলম সালেহের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও ইরান এই যুদ্ধকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। তিনি বলেছেন, “প্রায় ৪৭ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরান টিকে আছে। তাই শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের নতি স্বীকার করানো সহজ নয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরান দুর্বলতার বার্তা দিতে চাইছে না। তাই তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া নতুন কোনও চুক্তিতে আগ্রহী হবে না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দুই পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে, এবং কূটনৈতিক আলোচনা ফেরার চাপ উভয়ের ওপরও বাড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%