০৩:০৩ পি.এম
শুধু মাঠের জাদুকরী ফুটবলই নয়, মাঠের বাইরেও নিজের কঠোর কিছু নীতি ও আদর্শের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বজুড়ে একজন গ্লোবাল আইকন হিসেবে, কখনোই অ্যালকোহল, ফাস্ট ফুড কিংবা জুয়ারের মতো নেতিবাচক বিষয়ের প্রমোশনে যুক্ত হননি তিনি।
কোটি কোটি টাকার লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলে তিনি সবসময় এসব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে, তাঁর এই অনড় অবস্থানের কারণে কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার ট্রফিতে থাকা অ্যালকোহলের লোগো ঢেকে রেখে জরিমানা গুনতে হয়েছিল।
তরুণ প্রজন্মের কাছে আদর্শ রোল মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে চান তিনি। এমবাপ্পের কারণে নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও যুবসমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলা ব্র্যান্ডগুলোর সাথেই তিনি কেবল চুক্তিবদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে
চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের হাইভোল্টেজ জয়ের ম্যাচেও তাঁর কড়া নীতির প্রতিফলন দেখা যায়। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন। টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল অ্যালকোহল স্পনসরের কোনো ব্র্যান্ডিং বা লোগো তাঁর ট্রফিতে ছিল না।
২০২৬ বিশ্বকাপে মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে ফিফা। নতুন নিয়মে স্পেশাল ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য ট্রফি ও মঞ্চ থেকে অ্যালকোহল সম্পর্কিত ব্র্যান্ডিং সরানো হচ্ছে। সাধারণত ম্যাচসেরার পুরস্কারে বিয়ার ব্র্যান্ড ‘মিশেলব আল্ট্রা’র লোগো ব্যবহৃত হলেও, মুসলিম ফুটবলারদের জন্য রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ডিজাইন, সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্র্যান্ডিং। ব্যক্তিগত নৈতিকতার খাতিরে এমবাপ্পে মুসলিমদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই নিরপেক্ষ পুরস্কারটিই গ্রহণ করেছিলেন।
এমবাপ্পে কাতার বিশ্বকাপ থেকেই এই ধারাটি বজায় রেখেছেন। সেবার ম্যাচসেরা হওয়ার পর ট্রফি হাতে ছবি তোলার সময় তিনি সচেতনভাবেই স্পনসর কোম্পানির লোগোটি হাতের আড়ালে রাখতেন। ফিফা কিংবা স্পনসরদের রোষানলে পড়ার কারণে জরিমানা গুনলেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে পিছু হটেননি।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে যখন ৬০তম মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে, এর ঠিক ৬ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফরাসিরা যখন সেমিফাইনালের টিকিট কাটছিল, ততক্ষণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমবাপ্পে তাঁর ২০তম গোলটি করে ফেলেছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন