০১:১৫ এম
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি উল্লেখ করেন, 'সবচেয়ে বড় কথা যেটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেটা হলো—আমরা সবাই মিলে যে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।' মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, 'জুলাই সনদ, যেটিতে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে, সেটিও অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।'
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় ও নৈশভোজের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী: আমানউল্লাহ আমান
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় ও নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'এই আয়োজন ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান রাজনৈতিক সংগ্রামকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করবে।'
বৈঠকের পরিবেশকে আবেগঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে অনেক নেতাকর্মী কারা বরণ করেছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিই বৈঠককে আবেগঘন করে তুলেছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে উপস্থিত প্রত্যেক নেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন। একই সঙ্গে শরিক রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ তাদের অবদান চিরকাল স্মরণ রাখবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততা ও অগ্রাধিকারমূলক কাজের কারণে সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে সব শরিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের জন্য আগামীতে আরও নিয়মিতভাবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি এবং 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচি পুনরায় চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের পাশাপাশি সরকারকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছেন।'
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ এবং আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, যা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা ঐক্যের ধারাবাহিকতাকেই প্রতিফলিত করে।
আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা বনানী থেকে গ্রেফতার
এসময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন