ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে: মির্জা ফখরুল


সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি উল্লেখ করেন, 'সবচেয়ে বড় কথা যেটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেটা হলো—আমরা সবাই মিলে যে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।' মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, 'জুলাই সনদ, যেটিতে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে, সেটিও অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।'

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় ও নৈশভোজের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী: আমানউল্লাহ আমান

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় ও নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, 'এই আয়োজন ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান রাজনৈতিক সংগ্রামকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করবে।'

বৈঠকের পরিবেশকে আবেগঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে অনেক নেতাকর্মী কারা বরণ করেছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিই বৈঠককে আবেগঘন করে তুলেছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে উপস্থিত প্রত্যেক নেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন। একই সঙ্গে শরিক রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ তাদের অবদান চিরকাল স্মরণ রাখবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততা ও অগ্রাধিকারমূলক কাজের কারণে সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে সব শরিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

তবে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের জন্য আগামীতে আরও নিয়মিতভাবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি এবং 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচি পুনরায় চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের পাশাপাশি সরকারকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছেন।'

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ এবং আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, যা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা ঐক্যের ধারাবাহিকতাকেই প্রতিফলিত করে।

আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা বনানী থেকে গ্রেফতার

এসময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধের সমাধান নেই কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৯ এম


দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধের সমাধান নেই কেন?

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তেজনা দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান, এবং এর পিছনের ইতিহাসও যথেষ্ট জটিল। সম্প্রতি দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে এই অঞ্চল সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে মানচিত্র, প্রাচীন কম্পাস এবং ইতিহাসের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পেয়েছে। মূলত, এই বিরোধটি বর্তমান সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর শিকড় ইতিহাসের প্রমাণে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের প্রায় এক দশক হয়ে যাওয়ার পরও দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধে কোনও স্থায়ী সমাধান আসেনি। হেগের সালিশি আদালত পূর্বেই পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিতর্কিত জলসীমায় চীনের ঐতিহাসিক অধিকারের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তা সত্ত্বেও, অঞ্চলটির বিভিন্ন দাবিদার দেশগুলো নিজেদের পক্ষে জনমত ও ঐতিহাসিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চীন এখানে নিজেদের পক্ষে শক্তিশালী ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ তৈরি করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশটির বহু জাদুঘর এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত স্কুলগুলোর পাঠ্যপুস্তকে প্রাচীন সময় থেকেই এই সমুদ্রের ওপর চীনের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের কথা প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি, প্রাচীন রাজবংশের আমল থেকে এই অঞ্চলে চীনা মৎস্যজীবীদের নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য তুলে ধরে নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকারের দাবি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের মতো অন্যান্য দাবিদার দেশের কৌশল ভিন্ন। ফিলিপাইন সাধারণত সমুদ্রপথে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে, যার মাধ্যমে তারা বিতর্কিত অঞ্চলে চীনের যেকোনো আক্রমণাত্মক বা জোরপূর্বক কার্যকলাপকে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করে। অপরদিকে, ভিয়েতনাম প্রকাশ্যে সংঘর্ষে না গিয়ে নীরব কূটনীতি এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো কাদের আগে এই অঞ্চলে উপস্থিত হওয়ার প্রমাণ। চীন প্রাচীন সময়ের বিভিন্ন মানচিত্র, কম্পাস ব্যবহারের তথ্য এবং রাজকীয় নথিপত্রকে নিজেদের পক্ষে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, শত শত বছর আগে থেকেই তাদের পূর্বপুরুষরা এই জলপথ এবং এর দ্বীপগুলো আবিষ্কার করেছেন এবং সেখানে নিয়মিতভাবে যাতায়াত করতেন।

তবে অন্যান্য ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই দাবির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তাদের মতে, প্রাচীন মানচিত্র বা কম্পাসের ব্যবহার আধুনিক সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি হতে পারে না। জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন কনভেনশন অনুযায়ী আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর যে একচ্ছত্র বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা জলসীমার অধিকার রয়েছে, সেটির সাথে প্রাচীন ঐতিহাসিক উপকথা বা দাবির সবসময় মিল থাকে না।

এমন অবস্থায়, দক্ষিণ চীন সাগরের এই দ্বীপ এবং জলপথগুলো কৌশলগত এবং অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, দেশগুলো সহজে পিছু হঠছে না। সাগরের তলদেশে আছে তেল, গ্যাস, সহ প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ, এবং এর উপর দিয়ে বিশ্বের একটি বৃহৎ অংশের বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া যায়। ফলস্বরূপ, অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে প্রতিটি পক্ষই নিজেদের ঐতিহাসিক দলিল ও মানচিত্রসমূহকে সঠিক হিসেবে প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, দক্ষিণ চীন সাগরের এই সংঘাত কেবল আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং এটি এখন এক ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ ও মানচিত্রের লড়াইতে পরিণত হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিক প্রচারণার চেয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বেশি অগ্রাধিকার না দেবে, ততদিন এই জটিল ভূরাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান আসা অত্যন্ত কঠিন বলেই বিশ্লেষকদের ধারনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যা: নিরপরধদের অব্যাহতি ও প্রকৃত খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে বড়চারাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৩ এম


কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যা: নিরপরধদের অব্যাহতি ও প্রকৃত খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে বড়চারাবাসী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত অটোরিকশা চালকের পুত্র জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে হত্যা কাণ্ডের ঘটনাস্থ বড়চারা গ্রামের ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত খুনীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপর দিকে মামলায় কিছু নিরপরাধ ব্যক্তিকে জড়ানো হয়েছে দাবী করে এদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবীও জানানো হয়েছে।

গত ২০ জুলাই রোববার বাদ আছর উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার বড়চারা নতুন বাজার রাস্তার ওপর "১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সর্বস্থরের জনগন' ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বড়চারা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামছুল আলম ওরুফে এলেম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. ইমরান খান ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনের ভাই শাহ্ আলমের নেতৃত্বে বড়চারা ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান তোলে "সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুটিয়ে দাও, খুনিদের ঠিকানা বড়চারা হবেনা, জুয়েল হত্যার বিচার চাই-বিচার চাই, নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি চাই-মুক্তি চাই।"

মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামছুল আলম উরুফে এলেম জুয়েল হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবী করে বলেন, দুইদিন আগে কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে জুয়েল হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার নকল তুলে জানতে পারেন এ মামলায় তাকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী ছেলে তৌকিকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ভাতিজা ছায়িম মিয়াকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে এবং নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. সানিকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৯ নং আসামি সোহান মিয়া ঢাকায় ছিলেন এমন দাবী করেন। তারা কেউ জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত নয় দাবী করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ মামলা থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানান তিনি।

মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. নাদিরুজ্জামান খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহুল হক খোকা, বিএনপি নেতা মো. সেলিম মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন ও ইউনিয়ন তরুণ দলের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম আনোয়ার সহ বড়চারা ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এসময় বক্তারা "জুয়েলকে যারা খুন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি করে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এর আগের দিন শনিবার বাদ আছর একই স্থানে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে ও বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা জুয়েল হত্যার ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবী জানান।

এরও আগে গত ১৩ জুলাই সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার লক্ষ্মীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর ‘ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্মীপুরের জনগণ’ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তার ওপর বাঁশ বেঁধে ও শুয়ে এবং টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। "কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত করা যাবে না।

এর আগে গত ১১ জুলাই শনিবার জুয়েল মিয়ার জানাজা শেষে লাশ দাফনের আগে খাটিয়া কাঁধে নিয়ে শত শত মানুষ লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বুধাইবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ সত্ত্বেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে আসছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত সেটির গতি রোধ করে। তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করে চলে যায়। এসময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করায় নিহতের পিতা মো. কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা গ্রামের মৃত ছাবুদ আলীর ছেলে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে মো. সানি (২২), মৃত ইসমাইল মাষ্টারের ছেলে উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামছুল আলম উরুফে এলেম (৫৫), এলেমের ছেলে মো. তৌকি মিয়া (২০) ও এলেমের ভাই মো. আসাদ উল্লাহ'র ছেলে মো. ছায়িম মিয়া (২০), আনসার বিডিপি কমান্ডার মো. জামান এর ছেলে মো. আসিফ মিয়া (২২), মো. হুমায়ুনের ছেলে মো. রনি (২১), মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. সাকিব মিয়া (২১), মো. জামাল মিয়ার ছেলে মো. সালমান মিয়া (২২), মো. ইব্রাহিমের ছেলে মো. সোহান মিয়া (২১), মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. জিদনী মিয়া (২২), ইছু মিয়ার ছেলে মো. টুকুল মিয়া (২২) ও সবুজ মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের নামে আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং- ২ কিশোরগঞ্জে একটি মোকদ্দমা দাখিল করেন।

বাদী কুদ্দুস মিয়ার দাবি, রহস্যজনক কারণে পুলিশ প্রথমে মামলা না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অন্যদিকে, সাধারণ গ্রামবাসীর অভিযোগ-একটি প্রভাবশালী মহল আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেকোনো প্রভাব ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘাতকদের গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলায়-এখন এটিই কুলিয়ারচরের সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার ফলে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিটি মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে।

গত সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ট্রাম্প এই কঠিন হুঁশিয়ারি দিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনসহ অন্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। শিগগিরই, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে যাবেন।

জানা গেছে, জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং ইরাকে ভূপাতিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে অপর এক সেনার মৃত্যু ঘটেছে। গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। এই সেনা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটিকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে মার্কিন বাহিনী এখন ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্রদের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরান।

পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান পাঠাতে শুরু করেছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, খার্গ দ্বীপের তেল কেন্দ্র এবং মাটির নিচের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও বড়সড় আকারে হামলা চালানো হবে।

প্রায় এই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের পথ পরিষ্কার করতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। এদিকে, চলমান এই যুদ্ধ ও এর বিপুল আর্থিক ব্যয় সম্পর্কে মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মামদানির হুমকির পর নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


মামদানির হুমকির পর নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

নিউইয়র্কের মেয়রের হুমকির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে শক্ত অবস্থান নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। যদিও পোস্টে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নাম সরাসরি উল্লেখ নেই, তাও তিনি ইরান যুদ্ধে সহায়তার জন্য ইসরায়েলের প্রশংসা করেন।

এর আগে শনিবার এক সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখছে তার আইনি দল। তিনি মন্তব্য করেন, "আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী।" প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান নেতানিয়াহু। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায়ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মেয়রের এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। রোববার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা মামদানির সমালোচনা করে আইসিসিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ভুয়া বলে আখ্যা দেয়।

প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়। ইসরায়েল শুরুর থেকেই এই অভিযোগ ও আদালতের এক্তিয়ার অস্বীকার করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%