বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১৩ পি.এম
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা ঘটে।
এটি বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন পৌরসভার নন্দীগ্রাম (গাছ মার্কেট) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তুর ভাঙ্গারির দোকানের সামনের পাকা রাস্তার কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ ছৈয়দুল আমিন (৫০)। তিনি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানার ৩ নম্বর ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোদাই বাড়ির মৃত আবদুল উদুদের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ সাদ্দাম হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছৈয়দুল আমিন চতুরতার সাথে পালানোর চেষ্টাকালে আটক হন। পরে তার দেহ তল্লাশি করার সময় ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (মামলা নং-৯, তারিখ: ০৫/০১/২০২৫ইং) রয়েছে।
উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শেকল ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরেরও বেশি সময় পরে, দেশকে বারবার শেকল পরানো হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে যেন আর কেউ রাষ্ট্রকে শেকল পরাতে না পারে, এমন লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ নামক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের বয়স ৫৫ বছরের অধিক, কিন্তু এখনও শেকল ভাঙতে হচ্ছে। দেশকে বারবার শেকল পরানো হয়েছে। এর ফলে জাতি কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছাতে পারেনি। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ দেশের ওপর শেকল পরাতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, শেকল ভাঙার পর রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফাতেই তুলে ধরা হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শেকলমুক্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়তে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সেটিরই প্রতিধ্বনি করছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনায় ২৩ জন লেখক লিখেছেন। বইটির লেখা ও আলোকচিত্রগুলো আবেগের সঙ্গে জুলাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সংকলিত হয়েছে। জুলাইকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও প্রকাশনা ও তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেরুজালেমের পবিত্র স্থান রক্ষার জন্য মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এটি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নথিবদ্ধ করতে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ।
বুধবার জর্ডানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর গৃহীত যৌথ ঘোষণায় এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উপাসনাকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলো প্রচারের জন্য একটি গণমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বৈশ্বিক জনমতের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের মধ্যে জেরুজালেমবিষয়ক আরব মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির সদস্যরা, আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত এবং তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জেরুজালেম এবং সেখানকার পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের পদক্ষেপ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের ডাক দেন।
জলবায়ুর ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, জেরুজালেমের আরব, ইসলামি ও খ্রিষ্টান স্বকীয়তা এবং শহরটির আইনগত ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসরাইলের নীতির নিন্দা করা হয়। এসব পদক্ষেপকে অবৈধ বলে অভিহিত করা হয়।
এছাড়া, ঘোষণায় বলা হয়, জেরুজালেম বর্তমানে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শহরটির ইসলামি ও খ্রিষ্টান পবিত্র স্থানগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় গতিতে বেশি হুমকির সম্মুখীন। অভিযোগ করা হয়, ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ দখল আরো শক্তিশালী করছে। নতুন বসতি নির্মাণ, ভূমি দখল, সম্পত্তি জব্দ, ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জেরুজালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগও নাকি গ্রহণ করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডেরও নিন্দা জানাচ্ছেন।
তারা অভিযোগ করেন যে, এসব জায়গার ঐতিহাসিক এবং আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
যৌথ ঘোষণায় আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদ লক্ষ্য করে ইসরাইলের ধারাবাহিক এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। এর ফলে মসজিদটির ইসলামি পরিচয় এবং ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা চলছে। নির্দেশনায় জোর দিয়ে বলা হয়, পুরো আল-আকসা প্রাঙ্গণই মুসলমানদের একান্ত ইবাদতের স্থান।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান প্রবেশ, মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ, জেরুজালেম ওয়াক্ফ ও আল-আকসা মসজিদবিষয়ক বিভাগের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, এবং পবিত্র স্থানটির নিচে ও আশপাশে চলমান খননকাজের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হবে।
একই সঙ্গে, জেরুজালেমের খ্রিষ্টান পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও ইসরাইলের পদক্ষেপের নিন্দা করা হয়। এর মধ্যে চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারে প্রবেশে বাধা দেওয়া, গির্জার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, গির্জার প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং ধর্মযাজক, উপাসনাকারী ও ধর্মীয় প্রতীকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের উগ্রপন্থিদের সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে, ইসরাইলের প্রণীত আইনের মাধ্যমে গির্জার অর্থ ও জমি দখলের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সময় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং আরব লীগের যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই বৈঠকে জেরুজালেম এবং এর পবিত্র স্থানগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে দূতাবাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। এরপর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এই দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জনগণের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উজবেকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর, ভাইস-রেক্টর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ‘ইয়ুথ অ্যাজ অ্যা চেঞ্জ মেকার ইন অ্যা চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উজবেকিস্তানের টিআইএফটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর আজিজ নাদিরোভ, সারবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর মোজাফ্ফর জালালোভ, উজবেকিস্তান ইকোনমিক অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট মুক্তার ওমরোভ এবং তাসখন্দ টাইমসের প্রধান সম্পাদক আকবর ইউসুপভ।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ ও ছাত্রসমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ প্রসঙ্গে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও পটভূমির ওপর আলোকপাত করে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের সাহস, সংগ্রাম ও সংকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়নের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্যোগ, পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো গতিশীল এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি তরুণ সমাজের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন।
বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ঔষধ, টেক্সটাইল, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি খাতসমূহের। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, এসব খাতে দু’দেশের তরুণ সম্প্রদায় পারস্পরিক স্বার্থে একসাথে কাজ করতে সক্ষম।
বক্তারা বাংলাদেশ-উজবেকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে বর্ণনা করে এই বন্ধনকে আরো শক্তিশালীকরণের জন্য তরুণদের ভূমিকার ওপর আলোচনা করেন।
তারা জানান, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছাতে তরুণ সমাজ আরো সক্রিয় ও অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে নতুন রুট নির্ধারণে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে কৌশলগত জলপথটি যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। বুধবার এই তথ্যটি তেহরান থেকে জানানো হয়েছে।
তেহরান জানাচ্ছে, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান।
এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপির মাধ্যমে এই খবরটি তেহরান থেকে জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ তেহরান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি, তারা অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চাচ্ছে। তবে, ইরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে।’ তাও উল্লেখ করেন যে, তৃতীয় কোনো পক্ষ যদি বাধা সৃষ্টি না করে, তবে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা এবং খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান যে, ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রগতির দিকে। কিন্তু সমঝোতা হলে এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।
বাকাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর উপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’
এই ঝুঁকির প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায় যে, জাহাজ এবং নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি ছিল অষ্টম ও নবম হামলা।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুরের কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সাথে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে, তিনি জানান যে, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।
বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’
হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।
তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এই পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যে হামলার মুখে পড়ছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে টোল আদায় করতে চায়, যেটি যুদ্ধের আগে তারা করতো না।
সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে জানান যে, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ