১১:২৭ পি.এম
টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে বিধ্বস্ত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। যদিও পানি নামতে শুরু করেছে, বহু পরিবার এখনো অর্থনৈতিকভাবে সঙ্কটে রয়েছে। কোথাও কাদায় ঢাকা রয়েছে বসতঘর, কোথাও রান্নার চুলা এখনো জ্বলেনি, আবার কোথাও কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। দলের সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আয়োজন করা হয়েছে এই ত্রাণ কার্যক্রমের। এর সমন্বয় করছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়। এই ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, আলু, শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাটিয়ারী, সলিমপুর ও জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেন। পৃথক কর্মসূচিতে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বাড়বকুণ্ড কাকলি ক্লাব, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও কুমিরা ইউনিয়নের প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী।
ত্রাণ বিতরণকালে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সকল বিপন্ন মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, যে তারা দলের ওপর নির্ভরশীল না হোক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো, সীতাকুণ্ডের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যেন একজন মানুষও সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে,
তিনি আরও বলেন, বাঁশবাড়িয়া জেলেপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। সুতরাং দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন জানান, বন্যার শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলেপাড়া ও ত্রিপুরা পল্লীসহ দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোন পরিবার বাদ না পড়ে।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামতুল্লাহ, সদস্য সচিব মো. মোরসালিন, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহররম আলী, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, আবুল বশর ভূঁইয়া, ইদ্রিস মেম্বার, মুনসুর মেম্বার ও ত্রাণ কার্যক্রম কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যানসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর জানান, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় দুর্যোগের শুরু থেকেই নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন।
ত্রাণ গ্রহণকারী একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের অনেকেই খাদ্যসংকটে ছিলেন। ত্রাণসামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একটি বাসিন্দা জানান, বিপদের সময় যারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়, মানুষ তাদের কথা মনে রাখে। অন্য একটি বাসিন্দা বলেছেন, তারা শুধু ত্রাণই দেননি, আমাদের খোঁজখবর নিয়েও সাহস জুগিয়েছেন। এই কারণে আসলাম চৌধুরী প্রশংসায় ভাসছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করেছে। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম দুর্গত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা ও আস্থার সঞ্চার করেছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার পরও কি জাগবে প্রশাসন? বরিশালে প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন