ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কোম্পানীগঞ্জে একরাতে তিন বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি


কোম্পানীগঞ্জে একরাতে তিন বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিনটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। পরপর তিনটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মন্জুর আহমেদ। এর আগে, রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়ের টেক এলাকার মাসুদ মিয়ার নতুন বাড়ি, বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকার মান্নানের বাড়ি এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান পন্ডিত বাড়িতে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত প্রায় ২টার দিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান পন্ডিত বাড়িতে আবুধাবি প্রবাসী জনির বিল্ডিংয়ের লোহার দরজার লক ভেঙে ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়ের টেক এলাকায় কাতার প্রবাসী আব্দুল হাই মাসুদের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। একই রাতে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকার মান্নানের বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা ৬ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

মন্জুর আহমেদ আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তিনটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার

বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া বড় এক ধাক্কা খেয়েছে। চোটের কারণে এই সিরিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে দলের গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিনকে।

ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য পারফর্মার ছিলেন গ্রিন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে ঝুঁকি নিতে চায়নি দলের মেডিকেল বিভাগ ও টিম ম্যানেজমেন্ট। এই কারণে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে গ্রিনকে দেখা যাবে না।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্বল্প সময়ের পুনর্বাসন ও প্রস্তুতির জন্য গ্রিনকে পার্থে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেখানে চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিও নিতে পারবেন তিনি।

তবে গ্রিনের পরিবর্তে নতুন কোন ক্রিকেটার স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেনি অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ট্রাভিস হেডের বদলি হিসেবে দলের বাইরে নিখিল চৌধুরীকে ডাকা হয়েছিল।

বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হেরে কিছুটা চাপের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের আস্থা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে তারা। বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আগামী ১৭ জুন থেকে শুরু হবে। বাকি দুটি ম্যাচ ১৯ ও ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আটকে আছে ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প, অবরুদ্ধ হাজারো জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


আটকে আছে ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প, অবরুদ্ধ হাজারো জীবন

অর্থ সংকটে আটকে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প। ২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা চূড়ান্ত হলেও মেলেনি কোনো বড় বিনিয়োগকারী।

অন্যদিকে, প্রায় ৮ বছর আগে জমি অধিগ্রহণের তালিকায় থাকা ঘরবাড়িতে রেল কর্মকর্তাদের দেয়া লাল নম্বরের কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। সব ধরনের সংস্কার ও জমি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখনো তাৎক্ষণিকভাবে মেলেনি ক্ষতিপূরণের টাকা। ফলে থমকে গেছে পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সাথে যুক্ত করার মহাপরিকল্পনা।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলপথটি বরিশাল জেলার গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল বিমানবন্দর, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এবং মহানগরীর সাগরদী ও টিয়াখালী এলাকা ছুঁয়ে কীর্তনখোলা নদী অতিক্রম করবে। এরপর এটি দপদপিয়া হয়ে বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দিকে এগিয়ে গিয়ে শেষ হবে কুয়াকাটায়। এই রুট ম্যাপের আওতায় বরিশাল নগরীর টিয়াখালী ও দক্ষিণ সাগরদীসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকার হাজারো বাসিন্দা এখন এক প্রকার অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন।

রেললাইনের জমিতে নাম ওঠায় শেষ বয়সে বিপাকে পড়েছেন মহানগরীর টিয়াখালী এলাকার বৃদ্ধ সুলতান খান। তিনি বলেন, '৮ বছর আগে তার একতলা ভবনের দেয়ালে লাল রঙ দিয়ে নম্বর লিখে দিয়েছে রেলের লোকেরা। বলা হয়েছে, এখানে নতুন কোনো স্থাপনা করা যাবে না, বাড়ি মেরামত বা বিক্রিও করা যাবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'শেষ বয়সে এসে সন্তানদের সাথে ঢাকায় থাকতে চান। তাই প্রয়োজন হলে নিজের বসতভিটাসহ পাঁচ শতাংশ জমি বিক্রি করতে চাইলেও তা পারছেন না।'

একই সংকটে পড়া টিয়াখালী আরেক বাসিন্দা গৃহিণী রাবেয়া বেগম বলেন, 'বর্ষায় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। রেলের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকা বা টেকসই কোনো সংস্কার করতে পারছি না।'

দক্ষিণ সাগরদীর বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মচারী মো. আমজাদ হোসেন জানান, মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য পৈতৃক জমির ১৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রেতারা এসে যখনই দেখে ঘরবাড়িতে লাল রংয়ের নম্বর দেয়া, তখনই ফিরে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ধার করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

ফরিদপুরের ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৫ হাজার ৬০০ একর জমির মহাপরিকল্পনায় ১৯টি স্টেশন ও ১টি জংশন সমৃদ্ধ এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে বার্ষিক ভিত্তিতে কাজ ঝুলে থাকায় এই ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

সরকারি বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, 'যেকোনো মেগা প্রকল্প দীর্ঘায়িত হলে তার প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় আর ঠিক থাকে না। মুদ্রাস্ফীতি, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাড়ার কারণে এই ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল।'

প্রকল্পের এরকম ধীরগতি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, 'পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য লাইফলাইন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, 'মানুষকে আশার বাণী শুনিয়ে অর্থ সংকটের অজুহাত দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ তাদের নিজেদের জমি ব্যবহার করতে পারছে না, এটি চরম অন্যায়। আমরা দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত অর্থ সংস্থান করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক, না হলে লাল নম্বর তুলে দিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সুযোগ করে দেয়া হোক।'

রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই রেলপথটি নির্মাণ কাজ ২০২২ সালে শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৯ সালে। তবে ২১৫ কিলোমিটারের এই বিশাল প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বড় কোনো অর্থ সহায়তা বা ঋণের ওপর। উন্নয়ন সহযোগী না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। তবে এটি একটি বিশাল বাজেটের মেগা প্রকল্প। বর্তমানে অর্থ সংকটে প্রকল্পটি আটকে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়া দিকে হচ্ছে। আগামী ২১ ও ২২ জুন, দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সফরের ঘটনা ঘিরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশায় বুক বাঁধছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকারের গঠন পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য মালয়েশিয়া হচ্ছে প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য। আগামী ২১ জুন থেকে প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুরে দুই দিনের সফরে উপস্থিত হবেন। সরকার প্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরের কারণে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

দেশটির প্রধান শহরগুলোতে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ প্রবাসী গুলি প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সংশ্লিষ্টরাbusy সময় কাটাচ্ছেন। অনেকের মতে, এই সফর হবে ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ ছাড়াও, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উন্নয়ন, প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যা সমাধান এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবার ৩ বিয়ে করায় ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


বাবার ৩ বিয়ে করায় ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে হত্যা

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ তিন বিয়ে করা এক বৃদ্ধ বাবাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একজন নারীকে ব্যবহার করে বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

নিহত মুজিবুর রহমান পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তার বসবাস চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায়। তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সাথে দুই ছেলে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর সাথে একটি করে মেয়ে রয়েছে। জীবন শেষে তিনি তার দুই মেয়ের সাথে ছিলেন এবং নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে তাদের জন্য খরচ করতেন। এর ফলে প্রথম পক্ষের দুই ছেলের মাঝে ক্ষোভ জন্ম নেয়। তারা একপর্যায়ে বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

তদন্তে জানা গেছে, বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই নারী নিয়মিত ফোনে কথা বলে মুজিবুর রহমানের সাথে একটি সখ্য গড়ে তোলেন। তাকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বাবাকে নিজের বাসায় ডেকে নেন।

পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জুন মুজিবুর রহমান ওই নারীর বাসায় যান, যা পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ ছিল। সেখানে তাকে আপ্যায়নের সময় কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। ওই ওষুধের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন, তারপর বেলাল ও তার বড় ভাই আবদুল জলিল সেখানে আসেন। পরে মুজিবুর রহমানকে অসুস্থ রোগী পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। হত্যার জন্য নির্জন স্থান খুঁজতে খুঁজতে তারা হালিশহরের আউটার লিংক রোড এলাকায় পৌঁছান। সন্ধ্যা বেলায় মাইক্রোবাসের ভিতরে গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন বেলাল এবং জলিল। এর ফলে মুজিবুর রহমানের মৃত্যু ঘটে।

পরে মরদেহ রাস্তার পাশে ঝোপে ফেলে চলে যান তারা। ঘটনার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল ফোন বেলালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।

মামলা হওয়ার পর বেলাল আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কক্সবাজারে অবস্থান করেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যার দুই দিন পর হালিশহর এলাকার একই স্থান থেকে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই লাশের গলায় গামছা এবং পরনের পোশাকের বর্ণনা আসামিদের সাক্ষ্যের সঙ্গে মেলে। পুলিশ ধারণা করছে, সেটি মুজিবুর রহমানের লাশ।

মুজিবুরের মরদেহ নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

পিবিআই এসপির দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই নয়াত ছেলে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%