০৩:০৭ পি.এম
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ তিন বিয়ে করা এক বৃদ্ধ বাবাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একজন নারীকে ব্যবহার করে বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
নিহত মুজিবুর রহমান পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তার বসবাস চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায়। তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সাথে দুই ছেলে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর সাথে একটি করে মেয়ে রয়েছে। জীবন শেষে তিনি তার দুই মেয়ের সাথে ছিলেন এবং নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে তাদের জন্য খরচ করতেন। এর ফলে প্রথম পক্ষের দুই ছেলের মাঝে ক্ষোভ জন্ম নেয়। তারা একপর্যায়ে বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
তদন্তে জানা গেছে, বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই নারী নিয়মিত ফোনে কথা বলে মুজিবুর রহমানের সাথে একটি সখ্য গড়ে তোলেন। তাকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বাবাকে নিজের বাসায় ডেকে নেন।
পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জুন মুজিবুর রহমান ওই নারীর বাসায় যান, যা পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ ছিল। সেখানে তাকে আপ্যায়নের সময় কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। ওই ওষুধের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন, তারপর বেলাল ও তার বড় ভাই আবদুল জলিল সেখানে আসেন। পরে মুজিবুর রহমানকে অসুস্থ রোগী পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। হত্যার জন্য নির্জন স্থান খুঁজতে খুঁজতে তারা হালিশহরের আউটার লিংক রোড এলাকায় পৌঁছান। সন্ধ্যা বেলায় মাইক্রোবাসের ভিতরে গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন বেলাল এবং জলিল। এর ফলে মুজিবুর রহমানের মৃত্যু ঘটে।
পরে মরদেহ রাস্তার পাশে ঝোপে ফেলে চলে যান তারা। ঘটনার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল ফোন বেলালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।
মামলা হওয়ার পর বেলাল আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কক্সবাজারে অবস্থান করেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যার দুই দিন পর হালিশহর এলাকার একই স্থান থেকে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই লাশের গলায় গামছা এবং পরনের পোশাকের বর্ণনা আসামিদের সাক্ষ্যের সঙ্গে মেলে। পুলিশ ধারণা করছে, সেটি মুজিবুর রহমানের লাশ।
মুজিবুরের মরদেহ নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
পিবিআই এসপির দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই নয়াত ছেলে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত নেতার গণজোয়ারের দাবি, নির্বাচনে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের আশাবাদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন