০২:২৫ পি.এম
দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সকল গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন এবং সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নয়, বরং কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
দেশের সড়কে প্রতিদিনই দেখা যায় গণপরিবহনের বিশৃঙ্খল চিত্র। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষির কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী ওঠানামার জন্য যেখানে-সেখানে থেমে থাকা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং স্বাভাবিক যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
এ অবস্থায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের এই উদ্যোগ জরুরি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না এবং এজন্য আরো কিছু সময় প্রয়োজন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত এবং সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ দেওয়া অথবা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য আসলে সেটি জিপিএস সংযুক্ত অবস্থায় আসতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যেন সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত রয়েছে কি না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কারও প্রয়োজন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সম্পর্কে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করার অত্যাবশ্যকতা রয়েছে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব ফল দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ, আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন