০৮:৪৬ এম
জুলাইয়ের সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মূল্যবান সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম প্রেরণা হয়ে থাকবে, এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ যখন তিনি বক্তব্য প্রদান করছিলেন, তখন তিনি এরূপ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মূল উপলব্ধিটি হলো, আপনি সংবিধান সংশোধন করলেন, পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেন, কিন্তু দেখা গেল যে কোন এক সময় ছিদ্রপথ দিয়ে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটে গেল। তখন এই আইনগুলো আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেই তা সংবিধান থেকে মুছে ফেলেছিলেন। তাই কাগজে লেখা একটি আইন সকলেই মান্য করবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। মূল বিষয়ের কথা হলো মানুষের মানসিকতা। এটি একটি লিগ্যাল বা আইনি বিষয় নয়; বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।
আরও পড়ুন: ২ পক্ষ ১ হয়েছে, সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিবিদদের একটি সাধারণ পয়েন্টে আসতেই হবে। তারা যদি মতাদর্শগত ঝগড়া-ঝাটি বা আলোচনা-সমালোচনা করে, তাও করতে হবে, তবে আমাদের সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সেই দিকটি মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে। যদি মানসিকতার এই পরিবর্তন না ঘটে, তবে সংবিধান সংশোধন কিংবা আইন প্রণয়ন, কোনোটিই কার্যকর হবে না।
রিজভী বলেন, শুধুমাত্র ভূখণ্ড, অর্থনীতি অথবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না। বরং একটি জাতির প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর। জাতীয় স্মৃতি কোনো অতীতচারিতা নয়; এটি হচ্ছে একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি, নৈতিক চেতনার উৎস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা। যে জাতি তার ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠভাবে ধারণ করতে সক্ষম, সে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, অর্জনকে সংরক্ষণ করে এবং ভবিষ্যৎকে আরও দায়িত্বশীলভাবে নির্মাণ করে। অন্যদিকে, ইতিহাস যদি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা সাময়িক ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ক্ষণিকের আবেগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ঐক্যমত বা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে না। সুতরাং, ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা মানে শুধুমাত্র স্মরণ নয়, বরং সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মনোভাবের বিষয়ও।
রিজভী আরও বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত জীবনে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে, বরং কঠোর পরিশ্রমের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ‘লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। যদি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মনে একটি আদর্শিক বোধ থাকে, তবে রাজনৈতিক সফলতা নিশ্চিতভাবে আসবে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন