১০:০৬ এম
রাজনৈতিক এবং আইনি ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দেশের অধিক্ষেত্রের মধ্যে নিজেদের স্বর্ণের রিজার্ভ ছড়িয়ে রাখছে। কিন্তু এখনও স্বর্ণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি বেশি আস্থা দেখাচ্ছে তারা।
গোল্ডম্যান স্যাক্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ সংরক্ষণে লন্ডন এবং নিউইয়র্কের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, উত্তরদাতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ৫৭ শতাংশের কিছু স্বর্ণ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে জমা রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিদেশি কাস্টোডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক ফেড ১৪ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়া, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস এবং ব্যাংক দ্য ফ্রান্সও স্বর্ণ সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। চীনও বিকল্প কাস্টোডি কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সামনে রেখে পাইকগাছায় পুলিশের অভিযান, ৯ জন আটক
লন্ডন এবং নিউইয়র্কের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হল উচ্চ তারল্য। এসব কেন্দ্রে রাখা স্বর্ণ প্রধান নিষ্পত্তি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকে। এর ফলে, রিজার্ভ ব্যবস্থাপকদের জন্য স্বর্ণের বার পুনর্ব্যবহার না করেই দ্রুত বাজারে ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এভাবে, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোয়াপের মাধ্যমে ডলারের তারল্য পেতে পারে। তাছাড়া, নিজেদের স্বর্ণের মজুত লিজ দিয়ে আয় করার সুযোগও থাকে। কিন্তু বিদেশে স্বর্ণের মতো মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।
রাজনৈতিক বা আইনি বিরোধের কারণে কোনো দেশের রিজার্ভ জব্দ হতে পারে অথবা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এই প্রেক্ষিতে, গোল্ডম্যান স্যাক্স ২০১৮ সালে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে ভেনিজুয়েলার রাখা স্বর্ণকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত বিরোধের উদাহরণ দিয়েছে।
অন্যদিকে, যদি সব স্বর্ণের রিজার্ভ নিজ দেশে রাখা হয়, তাহলে তারও আলাদা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে ভৌত নিরাপত্তা, নিরীক্ষা এবং বীমার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। তদুপরি, স্থানীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলোর মোকাবিলা করতেও তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করতে হয়।
আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের
এই কারণে একাধিক বিদেশি কাস্টোডিয়ান ব্যবহার করে কোনো একটি দেশের বা আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো যেতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাক্সের হিসাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো জুন মাসে ৫৭ টন স্বর্ণ কিনেছে। ২০২২ সালের পূর্ববর্তী মাসগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গড় মাসিক ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১৭ টন। শনাক্তযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কিনেছে চীন, যেটি জুন মে ৪০ টন স্বর্ণ ক্রয় করেছে।
অতীতে, জুনে ৩২ টন স্বর্ণ লন্ডনে প্রবেশের তথ্যও নথিভুক্ত করেছে গোল্ডম্যান। সংস্থাটি মনে করছে, এটি পরিকল্পিত বিক্রির পরিবর্তে কাস্টোডিয়ান পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখানো যেতে পারে। কারণ ওই মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে বিদেশি কর্মকর্তাদের স্বর্ণের মজুত ৯৮ টন বেড়ে গেছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার বৈদেশিক রিজার্ভ হিমায়িত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশে স্বর্ণের রিজার্ভ ছড়িয়ে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাক্স এই রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণ আগামী কিছুবছর ধরে চলতে থাকবে বলে বিশ্বাস করে।
আরও পড়ুন: হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
এদিকে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস গোল্ডম্যান স্যাক্স অপরিবর্তিত রেখেছে। এই পূর্বাভাসের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। চলতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গড়ে প্রতি মাসে ৫০ টন করে স্বর্ণ ক্রীত করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে গোল্ডম্যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন