মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৯ পি.এম
সাধারণ এক রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান থেকে আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হওয়া—রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পথচলা যেন এক নাটকীয় ইতিহাস।
চড়াই-উতরাই ও নানা বাধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তিনি কীভাবে আজকের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালেন, তা জানা যাবে এই প্রতিবেদনে —
সংগ্রামী শৈশব থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ
ইস্তাম্বুলের কাসিমপাসা এলাকায় এক দরিদ্র পরিবারে এরদোগানের বেড়ে ওঠা। ছাত্রজীবনে সংসার চালাতে রাস্তায় রুটি ও লেবুর শরবত বিক্রির পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবলও খেলতেন। এর মাঝেই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১৯৭০-এর দশকে তরুণ বয়সে ইসলামপন্থী রাজনীতির যুব শাখায় যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে নিজের শক্ত উপস্থিতি জাহির করেন।
ইস্তাম্বুলের সফল মেয়র ও প্রথম চমক
১৯৯৪ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টির ব্যানারে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। মেয়র হিসেবে ইস্তাম্বুলের তীব্র পানি সংকট দূর করা, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করে নেন।
বিতর্কিত কবিতা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক মোড়
১৯৯৭ সালে এক জনসভায় একটি রাজনৈতিক ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তি করায় তুর্কি প্রশাসনের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১৯৯৮ সালে মেয়রের পদ হারানোর পাশাপাশি চার মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। তবে এই কারাভোগ তাকে দমানোর বদলে সাধারণ মানুষের চোখে এক আপসহীন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
একে পার্টি গঠন ও ২০০২ সালের ঐতিহাসিক জয়
জেল থেকে বেরিয়ে কট্টর ইসলামপন্থী ধারা থেকে সরে এসে ২০০১ সালে তুলনামূলক মধ্যপন্থী ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ গঠন করেন এরদোগান। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ২০০৩ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দশকে তিনি তুরস্কের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ান এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে আমূল পরিবর্তন আনেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি দেশটির প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন এবং সংবিধান পরিবর্তন করে সব ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।
সূত্র: ব্রিটানিকা, বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সমাবেশে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পরিবহন ব্যয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ছে।" বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কারী নজরুল ইসলাম এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহ।
বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আজিজুল হক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুল্লাহ, বাইতুল মাল সম্পাদক এমএইচ লোকমান এবং মাওলানা এ কে এম ছানাউল্লাহসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনস্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেত্রী রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর আমাদের মধ্যে নেই।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৭৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রানি মুখার্জির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করেছে। তবে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যশ রাজ ফিল্মসের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা রানি মুখার্জির মা মিসেস কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানায়।" এই কঠিন সময়ে পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
কৃষ্ণা মুখার্জিকে বিভিন্ন সময়ে মেয়ের সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। মায়ের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা রানি মুখার্জি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন।
শুধু রানি মুখার্জির মা হিসেবেই নয়, বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গেও কৃষ্ণা মুখার্জি যুক্ত ছিলেন। তিনি প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন।
মায়ের মৃত্যুর পর মুখার্জি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
রানি মুখার্জি ‘গুলাম’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘সাথিয়া’, ‘হাম তুম’ ও ‘ব্ল্যাক’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সর্বশেষ তাকে ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মারদানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আতাউর রহমানকে ফোনের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, না দিলে তার সন্তানকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অধ্যাপক আতাউর রহমান সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশুলিয়া থানায় জিডিটি (নম্বর ২৫১৯) দাখিল করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটের দিকে অধ্যাপক আতাউর রহমান কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় তার ফোনে অচেনা একটি নম্বর থেকে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘আরমান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায়, তার সন্তানকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক জিডিতে উল্লেখ করেন, ফোনদাতা অজ্ঞাতনামা। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যেকোনো সময় ওই ব্যক্তি কোনো ঘটনা ঘটিয়ে তাকে হয়রানি এবং তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন।
অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ‘সোমবার দুপুরে আমার মোবাইলে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়। না দিলে আমার সন্তানকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় আমি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই বি. এম. মেহেদী হাসান বলেন, ‘থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এটা নিয়ে কাজ শুরু করব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপে’ বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
সংলাপে অংশগ্রহণ করেন ৩০ সদস্যের একটি চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের সংলাপটি পরিচালনা করেন। তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে বিনিয়োগের সুযোগ, বাজারে প্রবেশ এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বিসিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক তুলে ধরেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি চীনের বাজারে বাংলাদেশের হোম টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, চামড়া, সামুদ্রিক খাদ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির ব্যাপক সুযোগের কথা উল্লেখ করে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এছাড়া, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য ও সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা পূরণে চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা বিদ্যমান বলে তিনি জানান।
লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জিয়ে সংলাপে ইউনানের ‘থ্রি ফ্রিজ অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই নীতির আওতায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে বন্ডেড গুদাম, প্রদর্শনী স্থান ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, লজিস্টিকস, কাস্টমস ছাড়পত্র ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
সংলাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিকস ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), সেমিকন্ডাক্টর ও লজিস্টিকস, ভবন নির্মাণ প্রযুক্তি, এলিভেটর, অ্যালুমিনিয়াম ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ব্যাংকিং, বাণিজ্য অর্থায়ন, এলপিজি ও জ্বালানি, শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
সংলাপের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজীকরণ এবং যৌথ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুযোগ চিহ্নিত করতে বিসিসিসিআই এবং চুয়াং ছি বিডি লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ