ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সিএনএন এর বিশ্লেষণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: তেহরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই নির্ধারিত হতে পারে যুদ্ধের পরিণতি


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: তেহরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই নির্ধারিত হতে পারে যুদ্ধের পরিণতি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে নাকি সমঝোতার দিকে অগ্রসর হবে, এ বিষয়ে দেশটির ক্ষমতাসীনদের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে সিএনএন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে বাস্তববাদী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দ্রুত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, কট্টরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রয়েছে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ছয় মাসের যুদ্ধের পর ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি দুই পক্ষের দ্বন্দ্বকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রথম পক্ষের নেতারা দাবি করছেন, যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যে শক্তিশালী অবস্থান থেকে এখনই সমঝোতায় যাওয়া উচিত। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চলতি মাসে বলেছেন, "যুদ্ধ কোনো না কোনো সময় শেষ করতেই হবে।" তাঁর মতে, ইরান যখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে রয়েছে এবং বিশ্ব তাদের বিজয় স্বীকার করছে, তখনই যুদ্ধ শেষ করা উচিত।

আরও পড়ুন: শাহবাগে এনসিপির চার দফা দাবিতে গণবিক্ষোভ আজ

কিন্তু কট্টরপন্থীদের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বস্ত মনে করে এবং বিশ্বাস করে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করা। তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেও ইরান নিরাপদ থাকবে না।

লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, কট্টরপন্থীরা মনে করছে, যুদ্ধে পরাজিত না হওয়াই তাদের জয়। তারা শুধু ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ভালো চুক্তি আদায়ের চেষ্টা করছে না, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী করতেও চাইছে।

কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে দুর্বল নেতা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে অতিরঞ্জিত করে জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দিকে ঠেলে দিতে চাইছেন। এমনকি সরকারের কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সমঝোতার বিরোধিতাকারীরা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তির উদাহরণও সামনে আনছে। পরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান। কট্টরপন্থীদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইরান অতীতেও প্রতারিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কিমের বিরোধ হঠাৎ কেন তুঙ্গে?

পার্লামেন্টে কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা কামরান গাজানফারি সমঝোতাপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, "তারা জনগণকে একটি চুক্তি ও অপমানজনক শান্তি মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছে।" তাঁর দাবি, ইরান যত ছাড়ই দিক, যুক্তরাষ্ট্র কখনো সন্তুষ্ট হবে না এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ চাইবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী অবস্থানও ইরানের কট্টরপন্থীদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সানাম ভাকিল বলেন, "ট্রাম্প একদিকে ইরানকে আবার মহান করার কথা বলছেন, অন্যদিকে পরের পোস্টেই হুমকি দিচ্ছেন।" এতে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে অবিশ্বাস আরও বাড়ছে।

কট্টরপন্থীদের প্রভাব শুধুমাত্র রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদপত্র, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, রাজপথের বিক্ষোভকারী এবং সামরিক বাহিনীর একটি অংশের ওপরও তাদের প্রভাব রয়েছে। তাদের ধারণা, ট্রাম্প কূটনীতিকে ব্যবহার করে আরেকটি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো কোনো পক্ষের হয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি। বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে কোনো একটি পক্ষকে সমর্থন করলে তাঁর নিজের অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সময়ে তিনি নিজের নেতৃত্বের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘আপনি দেখতে জঘন্য’

শুক্রবার মোজতবা খামেনি সরকারের চাপ মোকাবিলার প্রশংসা করলেও কর্মকর্তাদের দেশের দুর্বলতা নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি আলোচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে ইরানের শত্রুরা উৎসাহিত হতে পারে এবং মিত্রদের মনোবল দুর্বল হতে পারে।

সূত্র:

সিএনএন

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে কিশোরীর জামার নিচে হাত ঢুকিয়ে ‘কাজের অফার’ বাংলাদেশি চিকিৎসক গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ৭৫ রোগী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ৭৫ রোগী

হবিগঞ্জে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের নির্ধারিত হাম ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসার জন্য জায়গা না পেয়ে মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২০ শয্যার একটি পৃথক ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৭৫ জন রোগী। এর ফলে জায়গার সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত মোট ২ হাজার ৪০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৩০৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯২ জন রোগীকে সিলেট ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে বিপুলসংখ্যক রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর চাপে ওয়ার্ডের মেঝেতে জায়গা নেই। অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজনদের শিশুদের নিয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। একজন রোগীর স্বজন বলেন, “এত কষ্ট করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পড়ে রয়েছি। অথচ হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।”

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই সিলেট অথবা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহবুব রহমান নামে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশু হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধ দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


নেপালের দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধ দম্পতি

অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার সময় পেরিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের বৃদ্ধ দম্পতি অনুকূল পোদ্দার এবং রেবা রায় পোদ্দার নেপাল থেকে ফিরে এসেছেন। তারা রবিবার ভোরে বিহার হয়ে ট্রেনে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছান। পরে সরকারি উদ্যোগে পুলিশের গাড়িতে করে তাদের বসিরহাটের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর বসিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল ফুল দিয়ে দম্পতিকে স্বাগত জানান। এরপর তাদের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর দম্পতি বাড়ি ফিরলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

বসিরহাটের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনুকূল পোদ্দার এবং তার স্ত্রী রেবা পোদ্দার গত ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে কৈলাস মানসরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। একটি পর্যটন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় অন্যদের সঙ্গে নেপাল হয়ে তাদের যাত্রা করার কথা ছিল। তবে নেপালে পৌঁছানোর পর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের সেই যাত্রা থেমে যায়।

দুর্যোগের দিন সকালে কাঠমান্ডু থেকে রসুয়ার দিকে রওনা দিয়েছিলেন তারা। প্রায় তিন ঘণ্টা যাওয়ার পর বাসচালক সামনে হড়পা বানের খবর পেয়ে গাড়ি থামিয়ে দেন। পরিস্থিতি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটতে দেখা যায়। পরে চালকের পরামর্শে বাস থেকে নেমে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন তারা।

অনুকূল পোদ্দার বলেন, “হঠাৎ দেখলাম চারদিক থেকে মানুষ দৌড়ে উঁচু জায়গায় উঠছে। পরে দেখি নদীর ওপর দিয়ে সাদা মেঘের মতো কিছু ধেয়ে আসছে। চালক তখন জানায়, এখান থেকে ফিরে যেতে হবে। নইলে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে আর ফেরা যাবে না। এরপর আমরা কাঠমান্ডুতে ফিরে আসি।”

দুর্যোগের কারণে কৈলাস মানসরোবর যাত্রা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয় তাদের। তবে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরতে পারাকে বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন অনুকূল পোদ্দার। তার ভাষায়, “এটা হয়তো উপরওয়ালার ইচ্ছা ছিল। না হলে আমরাও বিপদের মধ্যে পড়ে যেতে পারতাম।”

নেপালে দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বসিরহাটে থাকা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দ্রুত ভারতে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাঠমান্ডু থেকে বিমানে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে অনুকূল ও রেবা পোদ্দার তাদের সঙ্গে যাওয়া দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ট্রেনে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

অনুকূল পোদ্দার জানান, কাঠমান্ডু ও সেখান থেকে ফেরার পথ স্বাভাবিক থাকায় তারা দলের সঙ্গেই ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে নেপাল থেকে বিহার হয়ে ট্রেনে তারা হাওড়ায় পৌঁছান।

বসিরহাটে ফিরে প্রতিবেশী দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, "আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। তারা যেন সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসেন, সে জন্য প্রার্থনা করছিলাম। এখন তাদের ফিরে আসায় স্বস্তি পেয়েছি।"

তবে অনুকূল ও রেবা পোদ্দার নিরাপদে ফিরলেও একই এলাকার আরেক দম্পতি স্বপন মণ্ডল ও তার স্ত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তারা অন্য একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন। কাঠমান্ডুতে তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল পোদ্দার দম্পতির। তবে ২৬ আগস্ট নেপালে দুর্যোগের দিন সকালে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানোর পর থেকে স্বপন মণ্ডল ও তার স্ত্রীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অনুকূল পোদ্দার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী স্বামীর টাকা-সোনা নিয়ে উধাও গৃহবধূ, পরে মিলল ‘নতুন তথ্য’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


প্রবাসী স্বামীর টাকা-সোনা নিয়ে উধাও গৃহবধূ, পরে মিলল ‘নতুন তথ্য’

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে তিন সন্তান রেখে এক প্রবাসীর স্ত্রী চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই নারীর শাশুড়ি নুর জাহান বেগম টঙ্গিবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারী নুর জাহান বেগম উপজেলার আমতলী গ্রামের মৃত সামেদ শিকদারের স্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) প্রবাসী দ্বীন ইসলাম শিকদারের মা।

নুর জাহান বেগমের অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার ধীপুর গ্রামের মো. আলম শেখের দ্বিতীয় মেয়ে সিনথিয়া বেগমের (২৮) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ছেলে দ্বীন ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ৩১ জুলাই সকালে তিন সন্তানকে রেখে সিনথিয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। এ সময় তিনি প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ও সাড়ে চার ভরি সোনা সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন শাশুড়ি। পরে তাকে ফিরিয়ে আনতে তার বাবার বাড়িতে গেলে সিনথিয়া আর সংসারে ফিরবেন না বলে জানান।

নুর জাহান বেগম আরও বলেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সিনথিয়া তার ছেলে দ্বীন ইসলামকে তালাক দিয়েছেন।

ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরীফ হোসেন মাকসুদ বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সিনথিয়া স্বামীর সংসার করতে রাজি হননি।’

অভিযোগের বিষয়ে সিনথিয়ার বাবা মো. আলম শেখ বলেন, ‘আমার মেয়েকে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় ড্রেন সংস্কারের সময় মিলল ৩৪০ রাউন্ড গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


বগুড়ায় ড্রেন সংস্কারের সময় মিলল ৩৪০ রাউন্ড গুলি

বগুড়া মহানগরের সাতমাথা এলাকায় ড্রেন থেকে ৩৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে কাদা-পানির মধ্যে গুলিগুলো দেখতে পেয়ে শ্রমিকেরা পুলিশকে খবর দেয়।

রবিবার বেলা ১২টার দিকে বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সাতমাথা এলাকায় ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছিল। এ সময় শ্রমিকেরা কাদা-পানির মধ্যে গুলি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ গুলিগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, উদ্ধার হওয়া ৩৪০ রাউন্ড গুলির মধ্যে চায়নিজ রাইফেল, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল ও এসএমজির গুলি রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকালে বগুড়া সদর থানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সদর থানার অস্ত্রাগার থেকে প্রায় ৮ হাজার রাউন্ড গুলি লুট করা হয়েছিল। ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো ওই সময় লুট হওয়া গুলির অংশ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লুটের পর কেউ গুলিগুলো ড্রেনের মধ্যে ফেলে রেখে যেতে পারেন। তবে সেগুলো আসলেই সদর থানার অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া গুলির অংশ কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%