আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
১১:১৪ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাওদা বিলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এরপর জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ২টা পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয় হাওদা বিলে। মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নঈম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানের সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান এবং মধুপুর থানার পুলিশ সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে হাওদা বিলের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চায়না দুয়ারী জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ছোট জলজ প্রাণী ও দেশীয় মাছের পোনা আটকা পড়ে। এর ফলে এ ধরনের জালের অবাধ ব্যবহার জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে, অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শতবর্ষের ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকার পরও সুন্দরবনের ঐতিহাসিক দুটি লঞ্চ ‘এম এল বনরানী’ এবং ‘এম এল বনকন্যা’ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা এই লঞ্চ দুটি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য সংরক্ষণ বা প্রদর্শনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে সুন্দরবনের শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে, মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিলামে ‘এম এল বনরানী’ বিক্রি হয়েছে ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকায় এবং ‘এম এল বনকন্যা’ ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকায়।
সুন্দরবন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে বৃহত্তর সুন্দরবনে বন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য কলকাতার খিদিরপুর ডকইয়ার্ডে বিলাসবহুল লঞ্চ দুটি নির্মাণ করা হয়। ‘এম এল বনকন্যা’ ১৯০২ সালে ৩৮ হাজার টাকায় এবং ‘এম এল বনরানী’ ১৯০৮ সালে ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকায় নির্মিত হয়। বনরানীর স্টিম ইঞ্জিনের ক্ষমতা ছিল ৩৫৪ অশ্বশক্তি।
১৯৬২ সালে লঞ্চ দুটির স্টিম ইঞ্জিন পরিবর্তন করে ডিজেল ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়, এবং পরে ২০০৪ সালে দুটিতেই দাইও ইঞ্জিন বসানো হয়। ১৯৯৩ সালে সুন্দরবন বিভাগ পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে বিভক্ত হয়ে ‘বনরানী’ পশ্চিম বন বিভাগের অধীনে এবং ‘বনকন্যা’ পূর্ব বন বিভাগের অধীনে চলে যায়।
ঐতিহাসিক এই জলযান দুটিতে বিভিন্ন সময়ে ব্রিটেনের রানি, প্রিন্স, আইরল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিলেন।
যদিও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে লঞ্চ দুটি একসময় অচল হয়ে পড়েছিল। এরপর খুলনার চানমারী এবং ফরেস্ট ঘাট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হয়। সর্বশেষ ‘বনরানী’ চালানো হয়েছিল ২০১৬ সালে।
লঞ্চ দুটি পুনরায় সচল করার জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে সংস্কার ব্যয়ের প্রাক্কলন চেয়েছিল সুন্দরবন বিভাগ। শিপইয়ার্ডের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি লঞ্চ সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল, এবং মোট ৭ কোটি টাকা লাগতো। ২০১৮ সালে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও পরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জরাজীর্ণ ও অচল লঞ্চ দুটি গত মার্চে নিলাম টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে, তবে নিলামগ্রহীতারা এখনো লঞ্চ দুটি বুঝে নেননি।
তিনি বলেন, শতবর্ষের মূল লঞ্চ দুটির আদলে প্রতিকৃতি তৈরি করা হলে নতুন প্রজন্ম সুন্দরবনের এই ইতিহাস সম্পর্কে আরো জানতে পারবে।
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, ‘বনরানী’ এবং ‘বনকন্যা’র ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লঞ্চ দুটির স্মৃতি তুলে ধরার জন্য প্রতিকৃতি তৈরির পরিকল্পনা আছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ কাজ শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের মাহমুদা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভরাডুবি ঘটেছে।
বিদ্যালয় থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী।
অর্থাৎ, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৪ জন ফেল করেছে। এ বছর বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের ফলাফলে ভরাডুবির কারণে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা প্রলয়িত হয়েছে। ৪৪ জনের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চলছে।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে ওই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়, চরনেয়ামত জনতা মডেল একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়, সুলতানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পূর্ব চরমেহার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। গত বছরের মতো এবারও এসএসসির রেজাল্টে এই ৫টি বিদ্যালয়ের পাসের হার নিম্নমুখী।
অভিভাবকরা বলছেন, একটি বিদ্যালয় থেকে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করা একটি গুরুতর বিষয় এবং এর সঠিকভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে জানা উচিত, কোন পরিচয়গুলি শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান ও মূল্যায়ন কার্যক্রম কেমন ছিল। পরীক্ষার পূর্বের প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা উচিত। প্রধান শিক্ষকসহ সকলকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি জোরালোভাবে দাবী করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জন অভিভাবক মন্তব্য করেন, ফলাফলের খারাপ হওয়ার পিছনে শিক্ষার্থীরা দায়ী হলেও শিক্ষকরা এর চেয়ে বেশি দায়ী। তারা শিক্ষা পরিবেশ তৈরীর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের দেওয়া বেতনভাতা গ্রহণ করে শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করার ফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন মো. বাবর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গতবছরেও এ ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল। এ বছরও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটকেই এ সমস্যা জন্য দায়ী করছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা হোসেন জানিয়েছেন, ফলাফলে ভরাডুবি হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের যে কোনো মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা অধিকার সংসদ ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তাবে উদ্বিগ্ন। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনটিআরসিএ)-এর পরিবর্তে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। শিক্ষা অধিকার সংসদ এই প্রস্তাবকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছে।
তাদের মতে, যোগ্যতাহীন বা অপ্রস্তুত কারো হাতে নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে।
এক বিবৃতিতে, শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের নিয়োগ শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে, বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নেই। বহু ক্ষেত্রেই এসব কমিটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিস্বার্থ এবং আত্মীয়করণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।
তাদের হাতে ক্ষমতা দিলে অযোগ্য ও কম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের পথ সুগম হবে। শিক্ষার অধিকার সংসদ এনটিআরসিএ-এর কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ম্যানেজিং কমিটির বিরোধিতা করার মানে এনটিআরসিএ-এর বর্তমান সীমাবদ্ধতাকে সমর্থন করা নয়।
শিক্ষা অধিকার সংসদ বলছে, এনটিআরসিএ দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, অস্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। তাই, শিক্ষায় দুর্নীতি কমাতে হলে এনটিআরসিএ-কে বাতিল না করে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় নিয়োগ কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলতে হবে।
পরিস্থিতি উত্তরণে শিক্ষা অধিকার সংসদ সরকারের কাছে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, তারা প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা উচিত। তৃতীয়ত, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করতে হবে। চতুর্থত, নিয়োগের মানদণ্ড, মেধাতালিকা এবং অপেক্ষমাণ তালিকা সহ সব তথ্য উন্মুক্ত করতে হবে। পঞ্চমত, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত একটি তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ষষ্ঠত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শিক্ষা অধিকার সংসদ সরকারকে জাতীয় স্বার্থ এবং শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান রক্ষা করতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নিয়োগ ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ববি হাজ্জাজ, যিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, বলেছেন যে, ঢাকার ১৩ আসনের বসতি ও জনসংখ্যার দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো বেশি মজবুত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে দুটি আলাদা থানা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বুধবার, ১২ আগস্ট, চলমান ‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মোহাম্মদপুর থানা ঢাকা শহরের অন্যতম বৃহৎ জনসংখ্যার একটি এলাকা হওয়ায় এখানে মানুষের নিরাপত্তা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই বসিলা ও রায়েরবাজারের অধিবাসীদের জন্য পৃথক দু’টি থানা প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে কার্যকর হবে।
তিনি কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানও তুলে ধরেন এবং বলেন, গত কয়েক মাসে এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এছাড়া, বসিলা ব্রিজ এলাকায় একটি শক্তিশালী বিট পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেরানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অপরাধীরা এসে বসিলা বা মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে পালাতে না পারে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি তিনি জানান, এলাকার সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়নের জন্য শিগগিরই মোহাম্মদপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষার কোনো নিয়ম নেই। যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি হবে।
তিনি আরো জানান, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর নিবন্ধন ও আইনি কাঠামোর অধীনে আনা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি জনগণের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি এবং বলেন, 'কেবল অফিসে বসে বা সংসদে কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না।' মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যা শুনতে হবে।
ঢাকা-১৩ আসনকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও আদর্শ আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তাদের আছে, যেখানে দেশের মানুষ বসবাসের স্বপ্ন দেখবে।
মতবিনিময়কালে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশসংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা তুলে ধরলে, প্রতিমন্ত্রী তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ