প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শতবর্ষের ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকার পরও সুন্দরবনের ঐতিহাসিক দুটি লঞ্চ ‘এম এল বনরানী’ এবং ‘এম এল বনকন্যা’ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা এই লঞ্চ দুটি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য সংরক্ষণ বা প্রদর্শনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে সুন্দরবনের শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে, মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিলামে ‘এম এল বনরানী’ বিক্রি হয়েছে ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকায় এবং ‘এম এল বনকন্যা’ ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকায়।
সুন্দরবন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে বৃহত্তর সুন্দরবনে বন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য কলকাতার খিদিরপুর ডকইয়ার্ডে বিলাসবহুল লঞ্চ দুটি নির্মাণ করা হয়। ‘এম এল বনকন্যা’ ১৯০২ সালে ৩৮ হাজার টাকায় এবং ‘এম এল বনরানী’ ১৯০৮ সালে ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকায় নির্মিত হয়। বনরানীর স্টিম ইঞ্জিনের ক্ষমতা ছিল ৩৫৪ অশ্বশক্তি।
১৯৬২ সালে লঞ্চ দুটির স্টিম ইঞ্জিন পরিবর্তন করে ডিজেল ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়, এবং পরে ২০০৪ সালে দুটিতেই দাইও ইঞ্জিন বসানো হয়। ১৯৯৩ সালে সুন্দরবন বিভাগ পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে বিভক্ত হয়ে ‘বনরানী’ পশ্চিম বন বিভাগের অধীনে এবং ‘বনকন্যা’ পূর্ব বন বিভাগের অধীনে চলে যায়।
ঐতিহাসিক এই জলযান দুটিতে বিভিন্ন সময়ে ব্রিটেনের রানি, প্রিন্স, আইরল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিলেন।
যদিও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে লঞ্চ দুটি একসময় অচল হয়ে পড়েছিল। এরপর খুলনার চানমারী এবং ফরেস্ট ঘাট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হয়। সর্বশেষ ‘বনরানী’ চালানো হয়েছিল ২০১৬ সালে।
লঞ্চ দুটি পুনরায় সচল করার জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে সংস্কার ব্যয়ের প্রাক্কলন চেয়েছিল সুন্দরবন বিভাগ। শিপইয়ার্ডের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি লঞ্চ সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল, এবং মোট ৭ কোটি টাকা লাগতো। ২০১৮ সালে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও পরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জরাজীর্ণ ও অচল লঞ্চ দুটি গত মার্চে নিলাম টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে, তবে নিলামগ্রহীতারা এখনো লঞ্চ দুটি বুঝে নেননি।
তিনি বলেন, শতবর্ষের মূল লঞ্চ দুটির আদলে প্রতিকৃতি তৈরি করা হলে নতুন প্রজন্ম সুন্দরবনের এই ইতিহাস সম্পর্কে আরো জানতে পারবে।
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, ‘বনরানী’ এবং ‘বনকন্যা’র ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লঞ্চ দুটির স্মৃতি তুলে ধরার জন্য প্রতিকৃতি তৈরির পরিকল্পনা আছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ কাজ শুরু হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন