বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৫৮ পি.এম
কুমিল্লা নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা এবং ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, তবে নতুন পরিকল্পনার অধীনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশাকে বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সাথে নিবন্ধিত প্রতিটি অটোরিকশায় উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তা ফিচার সমৃদ্ধ বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
সভায় তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত যানবাহনে চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট লাগানো হবে। এসব প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, যা জালিয়াতি বা নকল প্লেট ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।
তিনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন কোনো অটোরিকশা কিংবা ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহারকারী যানবাহন নগরীতে চলতে পারবে না। যদি কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নকল প্লেট ব্যবহার করে, তবে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউসুফ মোল্লা টিপু আরও বলেন, বর্তমানে নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর ফলে প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন এবং এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনভিত্তিক অটোরিকশা পরিচালনার মাধ্যমে চালক ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও আরও কার্যকর হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কুসিক প্রশাসক বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। তিনি বলেন, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে স্বল্প দূরত্বে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরীতে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যানজট কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কুসিক।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
জানা যায়, টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি মাস খানেক আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। ফলে, প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু এলাকাবাসীদের কোনো কাজে আসছে না।
সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চীসহ ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতুর উপর দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রি ও অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা খালের ওপর প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি, ফলে সেতুটি কার্যত পানিবেষ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, বই-খাতা হাতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে, সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এখন প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। কবে সংযোগ সড়ক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না। আবার সেতুর জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘর খালে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঠিকাদার ও পিআইও অফিসকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পিআইওকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশের মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এতে রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়েই কাজ করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি রাস্তার দুই পাশে পাইলিং দিয়ে টেকসই সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলায় বন্যা প্রস্তুতির মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংগঠিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য মৌসুমি বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর ১০ দিন আগে থেকেই প্রাণ, জীবিকা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে বন্যাকালে নৌদুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
আজ দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরে বালিয়াপাড়া এলাকায় এই মহড়া হয়, যা স্টার্ট নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস)’র বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. সেলিম মিঞা। মো. সেলিম মিঞা বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবীলার জন্য আমাদের শুধুমাত্র ত্রাণের উপর নির্ভর থাকা চলবে না, বরং আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগকে সজাগ এবং কার্যকরী করতে হবে। দুর্যোগের সময়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতি এক আতঙ্ক নয়, বরং এটি হচ্ছে জনগণের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরো যোগ করলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ যত বেশি হবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই কম হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ আব্দুস। বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, টাঙ্গাইল সদরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হক, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস)’র সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জোরপূর্বক নিয়োজিত ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর বাকিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি (যাদের লাইসেন্স নম্বর যথাক্রমে আরএল-১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে বৈধ ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স (জনশক্তি ছাড়পত্র) নিয়ে ওই ৩০ কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের কাজের পরিবর্তে জোরপূর্বক যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে- এ ধরনের খবর পাওয়ার পরপরই সরকার ব্যবস্থা নেয়। গত ১৫ জুন মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি পাঠিয়ে বিপদগ্রস্ত এসব বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ৩০ জনের মধ্যে চারজন এরই মধ্যে মারা গেছেন। বাকিদের উদ্ধারকল্পে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে উচ্চ বেতনের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান এই তরুণরা। পরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পরাজয়ের পর রাজনৈতিক উথালপাথাল শুরু হয়েছে। এই পরাজয়ের পর টিএমসিতে বিদ্রোহের খবর, পদত্যাগ এবং দলত্যাগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, টলিউডে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, শাসকদল বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন ‘পদ্মশ্রী’ পদকপ্রাপ্ত টলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্মাতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।
দু’দিন আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসে প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়েছিলেন, যদিও সেখানে তিনি বেশিক্ষণ অবস্থান করেননি।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে ‘নবান্নে’ গেছেন এই অভিনেতা, যার ফলে তার উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি তিনি বিজেপির গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন? রাজনৈতিক মহলে এই গুঞ্জন বেশ জোরদার হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন সমস্যায় গুরুদায়িত্ব পালন করলেও প্রসেনজিৎকে সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে দেখা যায়নি। তবে হঠাৎ করে বিজেপির শীর্ষ মহলের সঙ্গে বৈঠক হওয়ায় সবকিছু পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এখন টিএমসির লোকসভার সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের ফলে কিছু আসন খালি হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই সেখানে ভোট হবে এবং সেই আসনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ‘পদ্মশ্রী’ পদক পাওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে এই টলি তারকার যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে আগমনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।
এর আগে, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারী ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, যে দিনের শপথ গ্রহণের মঞ্চে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ