০৫:০২ পি.এম
২০২২ সালের বিশ্বজয়ের গৌরব নিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উত্তর আমেরিকায় গেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে এবার ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে।
দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে রেখেই স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। এটি হতে যাচ্ছে মহাতারকার ষষ্ঠ এবং ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। মাঠের লড়াই শুরুর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড, সূচি, ফাইনালের সম্ভাব্য যাত্রাপথ, শক্তি-দুর্বলতাসহ খুঁটিনাটি সবকিছু দেখে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন: নাহরিন ইসলাম খান প্রধান তথ্য কমিশনার নিযুক্ত
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময়সূচি
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিখ্যাত ভেন্যুতে।
গ্রুপ ‘জে’-এর সবচেয়ে ফেভারিট নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখছে আর্জেন্টিনা। কাগজ-কলমে এই গ্রুপে এমন কোনো প্রতিপক্ষ নেই, যারা তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপ জয় আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যের গভীরতাকে ফুটিয়ে তোলে। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব সরাসরি পার হয়ে এবারও মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা, যার মাধ্যমে ১৯৭৪ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তারা।
এই গ্রুপে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে অস্ট্রিয়া। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কেটেছে তারা। ফুটবলের ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার অতীত বেশ সমৃদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান এবং ১৯৫৪ সালের আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপ মঞ্চে অনুপস্থিত থাকার পর, এবার একটি গোছানো দল নিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইউরোপের এই দলটি।
আরও পড়ুন: সৌর বিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক
অন্যদিকে, আলজেরিয়া এবার তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮২, ১৯৮৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ১৬-তে পৌঁছানোই ছিল দলটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গত ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার পর, এবার তারা আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন করল।
এদিকে, জর্ডান কেবল এই টুর্নামেন্টে পা রেখেই ইতিহাস তৈরি করেছে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১১ বার চেষ্টা করার পর, এবারই প্রথম নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করল দলটি।
নিঃসন্দেহে, আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ভিন্ন দুই ঘরানার ফুটবলশৈলীর লড়াই। একপক্ষে থাকছে আর্জেন্টিনার চমত্কার কম্বিনেশন প্লে বা পাসিং গেম ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আর অন্যপক্ষে থাকছে শ্বাসরুদ্ধকর হাই-প্রেসিং এবং সরাসরি শারীরিক শক্তিনির্ভর গতিশীল ফুটবল।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা ভালো করেই জানে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের আসর থেকে ছিটকে দিতে প্রতিটি প্রতিপক্ষই মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। গ্রুপ ‘জে’ থেকে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে লিওনেল মেসি ও তার দল। তবে ট্রফি নিজেদের কাছে রাখার এই সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বে তাদের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানের ওপর। গ্রুপ পর্বের সম্ভাব্য সব সমীকরণ মিলিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পথ কেমন হতে পারে, তার একটি রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের পেটালেন
গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হলে আর্জেন্টিনার সমীকরণ
গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখলে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে উরুগুয়ে। আর সেই বাধা পার হতে পারলে শেষ ১৬-এর ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে পারে তুরস্ক।
এই সমীকরণ মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে বিশ্বফুটবল পেতে পারে এক ব্লকবাস্টার লড়াই। যেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের মুখোমুখি হতে পারেন লিওনেল মেসি। ফুটবলপ্রেমীদের কাঙ্ক্ষিত সেই ‘মেসি বনাম রোনালদো’ দ্বৈরথ দেখতে পারে বিশ্বকাপ।
লিওনেল স্কালোনির দল যদি এই কঠিন পরীক্ষাগুলো পার হতে পারে, তবে সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়তে পারে ইংল্যান্ড অথবা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। আর সব বাধা পেরিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন কিংবা ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে পারে আলবিসেলেস্তেরা।
আরও পড়ুন: চীনের সহায়তায় ৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত
গ্রুপ ‘জে’ রানার্স-আপ হলে আর্জেন্টিনার সমীকরণ
যদি গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্স-আপ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, তবে নকআউট পর্বের শুরুতেই তাদের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। প্রথম পর্বের এই কঠিন বাধা পার হতে পারলে শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে কলম্বিয়া অথবা ক্রোয়েশিয়া।
এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম কিংবা টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আর্জেন্টিনার। আর এই ধাপ পেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারলে সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে ফ্রান্স অথবা জার্মানি।
এই অগ্নিপরীক্ষা পার হয়ে স্কালোনির দল যদি ফাইনালে পা রাখতে পারে, তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে তাদের শেষ বাধা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল অথবা ইংল্যান্ড।
আরও পড়ুন: ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১১৪ ফ্লাইট বাতিল, ১৭৭০১ যাত্রী বিপাকে
গ্রুপ ‘জে’-এর তৃতীয় স্থানে থেকে আর্জেন্টিনা পরের রাউন্ডে উঠলে সমীকরণ
যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের সেরা চার বা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়, তবে প্রথম রাউন্ডেই (শেষ ৩২) তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। আর সেই লড়াইয়ে জিতলে শেষ ১৬-এর ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নরওয়ে অথবা টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক মেক্সিকো।
আর্জেন্টিনার জন্য সামনের পথটা মোটেও সহজ হবে না। কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। আর সেই মহারণ পার হতে পারলে সেমিফাইনালে লড়তে হতে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে।
এই চরম কঠিন ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আর্জেন্টিনা যদি কোনোভাবে ফাইনালে উঠতে পারে, তবে নিউ জার্সির ফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে স্পেন অথবা ফ্রান্স।
আরও পড়ুন: ৪২ বছর বয়সে মারা গেলেন বিসিবির কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন
গত মে মাসের মাঝামাঝিতে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর, ২৯ মে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা কাতার বিশ্বকাপের মূল ভিত্তিকে ধরে রেখেই উত্তর আমেরিকার বিমান ধরছে। দলের ডাগআউটে মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি এবং মাঠে অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
খুব সহজ কথায়, লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং তর্কাতীতভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার। চার বছর আগে তিনি আর্জেন্টিনাকে এমন এক বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, যা ১৯৮৬ সালের পর থেকে দেশটির জন্য অধরা ছিল। এখন তার লক্ষ্য সেই মুকুট ধরে রাখা।
৩৯ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেও মেসি মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০২৫ মৌসুমে তার ২৯ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট মায়ামিকে শিরোপা জিততে বড় সাহায্য করেছিল। চলতি মৌসুমেও তিনি পারফরম্যান্স ও গোল— উভয় ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলছেন। এখন বড় প্রশ্ন হলো, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে তিনি এখনও আগের মতো শীর্ষ স্তরের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন কি না। আর্জেন্টিনা সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ না খেলায় এই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। আর এই অনিশ্চয়তা অধিনায়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল দলটির জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হতে পারে।
নজরে থাকবেন: নতুন উদীয়মান তারা নিকো পাজ
এই বিশ্বকাপটি নিকো পাজকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে চেনানোর বড় সুযোগ হতে পারে। বাঁ-পায়ের এই প্রতিভাবান প্লে-মেকার সিরি আ-তে কোমো ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম পার করেছেন। তার দারুণ পারফরম্যান্সেই দলটি লিগের শীর্ষ চারে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করে।
সেস্ক ফ্যাব্রিগাসের কোচিংয়ে পাজ একজন তরুণ নেতা হিসেবে গড়ে উঠেছেন। এখন তিনি আর্জেন্টিনা দলেরও নিয়মিত মুখ। স্বয়ং লিওনেল মেসি ২১ বছর বয়সী এই তরুণের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন। অনেকে তো তাকে মেসির উত্তরসূরি হিসেবেও ভাবছেন।
পাজ এবার মূলত বড় মঞ্চ থেকে শিখবেন। এরপর কোনো নাটকীয়তা না ঘটলে তিনি কোমো ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরবেন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তরুণ প্রতিভাকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে আনতে রিয়াল কর্তৃপক্ষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
লিওনেল স্কালোনি: ডাগআউটে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সফলতম কোচ
লিওনেল স্কালোনি ২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফিও জিতেছেন। সেসার লুইস মেনত্তি কিংবা কার্লোস বিলার্দোর মতো কিংবদন্তি কোচদের মতো আগের জৌলুস বা পরিচিতি হয়তো তার ছিল না। তবে খুব দ্রুতই তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ এবং ফুটবলারদের প্রিয় পাত্রে পরিণত হন। নিজের নম্র ব্যক্তিত্ব এবং খেলোয়াড়দের সাথে গভীর সম্পর্কের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
২০১৮ বিশ্বকাপে তিনি হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া তাকে প্রথমে প্রীতি ম্যাচের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকেই প্রধান কোচ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। স্কালোনি একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলেন। পাশাপাশি দলের প্রভাবশালী ফুটবলার মেসিরও আস্থা অর্জন করেন।
দীর্ঘ সময়ে দলকে দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন একঝাঁক যুদ্ধজয়ী ফুটবলার। আক্রমণভাগের চেনা জৌলুস ধরে রাখার পাশাপাশি স্কালোনির আর্জেন্টিনা রক্ষা বিভাগেও কোনো আপস করেনি। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের কঠিন বাছাইপর্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার (ক্লিন শিট) কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। রক্ষণ আর আক্রমণের এমন দুর্দান্ত ভারসাম্যের কারণে এবারের বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের হারানো যেকোনো দলের জন্যই ভীষণ কঠিন হবে।
ট্রফি ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জে স্কালোনির আর্জেন্টিনা
এবারের বিশ্বকাপটি হবে ভীষণ জটিল এবং কঠিন। আমাদের খেলোয়াড়দের সেভাবেই প্রস্তুত করতে হবে। সামনে বড় পরীক্ষা আসছে, কারণ আপনি সবসময় জিততে পারবেন না।
দলের ওপর তার অগাধ আস্থা আছে। তবে গত আট বছরের দুর্দান্ত চক্রে পাওয়া সাফল্য ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তা-ও তিনি ভালো করেই জানেন। এই সময়ের মধ্যে তিনটি বড় ট্রফি জেতানো কোচের চুক্তির মেয়াদ বিশ্বকাপের পর আরও বাড়তে পারে। আর্জেন্টিনা দলের ডাগআউট নিয়ে তিনি বলেন,
এই জার্সির চাপ অনেক। সমর্থকরা মাঠে সবসময় নান্দনিক ফুটবল দেখতে চায়। তবে আমরা জানি, মাঠের সেরা দলটাই যে সবসময় জিতবে, তেমন কোনো কথা নেই।
বাছাইপর্বের বাধা অবশ্য বেশ সহজেই পার হয়েছে আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে টেবিলের শীর্ষেই ছিল তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে স্পষ্ট ৯ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই যাত্রায় ব্রাজিলের মাটিতে গিয়ে তাদের হারিয়ে আসার এক ঐতিহাসিক নজিরও গড়েছে আর্জেন্টিনা।
আড়ালে থাকা নতুন ট্রাম্পকার্ড: থিয়াগো আলমাদা
থিয়াগো আলমাদা অলরেডি একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার ভূমিকা ছিল অনেকটাই নামমাত্র, খেলেছিলেন মাত্র কয়েক মিনিট। কার্লোস তেভেজের মতো বুয়েনস আইরেসের একই এলাকা ফুয়ের্তে আপাচেতে বড় হওয়া ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার এবার থাকছেন মূল ভূমিকায়। নিশ্চিতভাবেই এবারের বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান তারকা হতে যাচ্ছেন।
আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও ভেলেজ সার্সফিল্ডের এই সাবেক ছাত্র আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় চমক হতে পারেন। ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে দারুণ দক্ষ ও গতিময় ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি দূরপাল্লার জোরালো শট নিতে পারেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এবার দলে আনহেল দি মারিয়ার ছেড়ে যাওয়া জায়গাটি তিনিই পূরণ করবেন।
আর্জেন্টিনা শিবিরের মূল শক্তি যারা
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাদের আঁতুড়ঘর আর্জেন্টিনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ কিছু অসাধারণ প্রতিভার জন্ম দিয়েছে। তেমনই একজন হুলিয়ান আলভারেজ, যিনি ইউরোপীয় ফুটবলে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে আতলেতিকো মাদ্রিদে দিয়েগো সিমিওনের অধীনে নিজেকে অপরিহার্য করে তোলা আলভারেজের কাঁধে থাকবে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বড় ভরসা।
মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সব সাফল্যের অন্যতম নেপথ্য কারিগর। স্কালোনির ছকে এবারও তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে মাঠ মাতাবেন।
রক্ষণভাগেও আর্জেন্টিনার নেতার অভাব নেই। তবে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন। বিশেষ করে পেনাল্টি শুটআউটে টাইব্রেকার হিরো খ্যাত এই গোলরক্ষকের উপস্থিতি শিরোপাজয়ী দলটির জন্য সবসময়ই বড় শক্তি। রক্ষণপ্রাচীর সামলাতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সেন্টার-ব্যাক জুটিও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় ভূমিকা পালন করবে।
সবশেষে, জাদুকর লিওনেল মেসির নাম ছাড়া আর্জেন্টিনার তারকাদের তালিকা অপূর্ণ থেকে যায়। ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছরে পা রাখবেন। সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট। ২০২২ সালে অধরা ট্রফি ছুঁয়ে দেখলেও মেসির জেদ এখনো কমেনি। একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তিনি এখনো রাখেন। ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিধারী এই কিংবদন্তি এবারও আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের অভিযানে মূল কাণ্ডারি থাকবেন।
এছাড়া আনহেল দি 마ারিয়ার অবসরের পর হুলিয়ানো সিমিওনে এবং থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণরাও এবার স্কালোনির দলে বড় ভূমিকা রাখার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এমন এক দল নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে যাদের বোঝাপড়াটা একদম মুখস্থ। তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে। ক্লাবের ব্যস্ত মৌসুম শেষ করে বেশ কয়েকজন ফুটবলার চোটের ধাক্কা নিয়ে দলে যোগ দিয়েছেন। সবাই ফিট থাকলে কাতারে বিশ্বকাপ জেতা মূল দলটির ওপরেই ভরসা রাখবেন কোচ। শুধু থাকছেন না অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, যিনি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন।
টুর্নামেন্টের ধরন ও প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে কোচ লিওনেল স্কালোনি ৪-৪-২ অথবা ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে তার পরিকল্পনা মূলত ৪-৩-৩ ফরমেশন ধরে রাখা। যেখানে দুই সেন্টার-ব্যাকের সাথে আক্রমণাত্মক দুই ফুল-ব্যাক মিলে রক্ষণভাগ সামলাবেন। আর মাঝমাঠে থাকবেন পাসিংয়ে দক্ষ ও গতিময় মিডফিল্ডাররা।
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ—সবখানেই রয়েছে তারকাদের ছড়াছড়ি। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় আরও একটি সম্ভাব্য একাদশের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
রক্ষণে গোলপোস্টের নিচে প্রধান ত্রাতা হিসেবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জায়গা একদম নিশ্চিত। এই পজিশনে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো আপাতত কেউ নেই। তবে রক্ষণভাগে স্কালোনির চার ডিফেন্ডারের ছকে এবার কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সেন্টার-ব্যাক জুটি এবার শুরু থেকেই মাঠে নামতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি নামবেন বদলি হিসেবে, যেখানে বিকল্প হিসেবে মার্শেইয়ের লিওনার্দো বালেরদিও থাকবেন। আর দুই প্রান্তে ফুল-ব্যাক হিসেবে নাহুয়েল মলিনা ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো কোচের প্রথম পছন্দ থাকছেন।
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমীকরণটি বেশ আকর্ষণীয়। রদ্রিগো ডি পলের সাথে স্কালোনির ছকের অন্যতম ভরসা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলবেন নিশ্চিতভাবেই। তৃতীয় মিডফিল্ডার পজিশনটির জন্য থিয়াগো আলমাদা এবং এনজো ফার্নান্দেজের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। ২০২২ বিশ্বকাপের নায়ক এনজো সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জোরে আলমাদাকে পেছনে ফেলে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন।
আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজের থাকা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই একাদশে তাদের সঙ্গী হিসেবে লাউতারো মার্টিনেজও শুরু থেকেই মাঠে থাকার ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাসী।
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ।
বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিটি পজিশনেই ব্যাক-আপ প্রস্তুত রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কোন পজিশনে কারা থাকছেন, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
গোলরক্ষক: পোস্টের নিচে প্রধান ভরসা এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যেকোনো প্রয়োজনে ব্যাক-আপ হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন জেরোনিমো রুলি এবং হুয়ান মুসো।
রাইট-ব্যাক: ডান প্রান্তের রক্ষণ সামলাতে প্রথম পছন্দ নাহুয়েল মলিনা। তার বিকল্প হিসেবে থাকছেন কাতার বিশ্বকাপের টাইব্রেকার হিরো গঞ্জালো মন্তিয়েল।
সেন্টার-ব্যাক: রক্ষণের মূল দায়িত্বে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। বিকল্প হিসেবে দলে আছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, লিওনার্দো বালের্দি এবং ফাকুন্ডো মেদিনা।
লেফট-ব্যাক: বাম প্রান্তে প্রথম পছন্দ হিসেবে খেলবেন অভিজ্ঞ নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। প্রয়োজনে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকেও এই পজিশনে ব্যবহার করা হতে পারে।
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড: মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক ভূমিকা ও বল কেড়ে নেওয়ার কাজে প্রথম পছন্দ হতে পারেন রদ্রিগো ডি পল। ব্যাক-আপ হিসেবে থাকছেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস এবং তরুণ ভ্যালেন্টিন বার্কো।
সেন্ট্রাল মিডফিল্ড: মাঝমাঠের মূল খেলা নিয়ন্ত্রণের জন্য আছেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এছাড়াও এই পজিশনে খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন এক্সেকুয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, ডি পল, পারেদেস ও বার্কো।
রাইট উইং: ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠার মূল অস্ত্র লিওনেল মেসি। তার অনুপস্থিতিতে এই পজিশনে খেলতে পারেন থিয়াগো আলমাদা অথবা হুলিয়ানো সিমিওনে।
লেফট উইং: বাম প্রান্তের আক্রমণে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ। তার ব্যাকআপ হতে পারেন নিকোলাস গঞ্জালেস। তবে কোচের কৌশল অনুযায়ী এই পজিশনে মেসি কিংবা আলমাদাকেও দেখা যেতে পারে।
সেন্টার-ফরোয়ার্ড: গোল করার মূল স্ট্রাইকার প্রথম পছন্দ হতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। এই পজিশনে লাউতারো মার্টিনেজও আসতে পারেন। এছাড়াও অপশন হিসেবে আছেন হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ এবং লিওনেল মেসি।
বর্তমানে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো একক ফুটবলার নন; বরং কোচ লিওনেল স্কালোনি পুরো স্কোয়াডজুড়ে যে কাঠামোগত কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা গড়ে তুলেছেন, সেটাই তাদের মূল শক্তি। মিডফিল্ডের ডান প্রান্তে রদ্রিগো ডি পল একপ্রকার ঢাল হিসেবে কাজ করেন, যা মাঠে প্রতিপক্ষের জন্য স্পেস বা জায়গা কমিয়ে দেয় এবং লিওনেল মেসিকে রক্ষণাত্মক দায়িত্বের চাপ থেকে মুক্ত রাখে।
অন্যদিকে, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মাঝমাঠে ভারসাম্য বজায় রাখেন। পুরো কৌশলটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন সম্ভাব্য সাতটি ম্যাচের ধকল কাটিয়ে মেসিকে ক্লান্ত না করে তার খেলার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।
কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বের রক্ষণাত্মক পরিসংখ্যানও এই দাবির পক্ষে কথা বলে। মহাদেশীয় এই লড়াইয়ের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে শেষ করেছে আর্জেন্টিনা; যেখানে ১৮ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ১০টি, যা পুরো লাতিন আমেরিকার মধ্যে সেরা ডিফেন্সিভ রেকর্ড। এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং স্কালোনির রক্ষণভাগ কতটা সুসংগঠিত ও সুপ্রশিক্ষিত হয়ে উঠেছে, এটি তারই প্রতিফলন।
আর্জেন্টিনার দুর্বলতা
বিশ্বমানের উইঙ্গার বা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাক পজিশনগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ক্রিস্তিয়ান রোমেরো কিংবা লিসান্দ্রো মার্তিনেস যদি কোনো কারণে মাঠের বাইরে থাকেন, তবে রক্ষণভাগের সেন্ট্রাল এরিয়া তার আসল ধার হারিয়ে ফেলে।
এবার বিশ্বকাপের দল ৪৮টি। ফলে বাড়তি যুক্ত হওয়া ‘শেষ ৩২’-এর ম্যাচটি খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। ফলে আর্জেন্টিনার বয়স্ক খেলোয়াড়দের ওপর বেশি চাপ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বেশ কয়েকজন ফুটবলারের ফিটনেস জনিত সমস্যার মাঝেই ঠাসা সূচির সাথে মানিয়ে দল পরিচালনা করাটাই এখন স্কালোনির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বেশ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রীতি ম্যাচ ও বাছাইপর্ব মিলিয়ে শেষ কয়েকটি ম্যাচের ফল নিচে দেওয়া হলো:
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা মাঠে নামছে নিজেদের ১৮তম বিশ্বকাপ আসরে। বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের অতীত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন