ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রিভিউ: সূচি, ফাইনালের যাত্রাপথ, শক্তি-দুর্বলতাসহ সম্পূর্ণ গাইড


আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রিভিউ: সূচি, ফাইনালের যাত্রাপথ, শক্তি-দুর্বলতাসহ সম্পূর্ণ গাইড

২০২২ সালের বিশ্বজয়ের গৌরব নিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উত্তর আমেরিকায় গেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে এবার ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে রেখেই স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। এটি হতে যাচ্ছে মহাতারকার ষষ্ঠ এবং ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। মাঠের লড়াই শুরুর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড, সূচি, ফাইনালের সম্ভাব্য যাত্রাপথ, শক্তি-দুর্বলতাসহ খুঁটিনাটি সবকিছু দেখে নেওয়া যাক।

আরও পড়ুন: নাহরিন ইসলাম খান প্রধান তথ্য কমিশনার নিযুক্ত

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময়সূচি

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিখ্যাত ভেন্যুতে।

গ্রুপ ‘জে’-এর সবচেয়ে ফেভারিট নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখছে আর্জেন্টিনা। কাগজ-কলমে এই গ্রুপে এমন কোনো প্রতিপক্ষ নেই, যারা তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপ জয় আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যের গভীরতাকে ফুটিয়ে তোলে। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব সরাসরি পার হয়ে এবারও মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা, যার মাধ্যমে ১৯৭৪ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তারা।

এই গ্রুপে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে অস্ট্রিয়া। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কেটেছে তারা। ফুটবলের ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার অতীত বেশ সমৃদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান এবং ১৯৫৪ সালের আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপ মঞ্চে অনুপস্থিত থাকার পর, এবার একটি গোছানো দল নিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইউরোপের এই দলটি।

আরও পড়ুন: সৌর বিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

অন্যদিকে, আলজেরিয়া এবার তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮২, ১৯৮৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ১৬-তে পৌঁছানোই ছিল দলটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গত ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার পর, এবার তারা আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন করল।

এদিকে, জর্ডান কেবল এই টুর্নামেন্টে পা রেখেই ইতিহাস তৈরি করেছে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১১ বার চেষ্টা করার পর, এবারই প্রথম নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করল দলটি।

নিঃসন্দেহে, আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ভিন্ন দুই ঘরানার ফুটবলশৈলীর লড়াই। একপক্ষে থাকছে আর্জেন্টিনার চমত্কার কম্বিনেশন প্লে বা পাসিং গেম ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আর অন্যপক্ষে থাকছে শ্বাসরুদ্ধকর হাই-প্রেসিং এবং সরাসরি শারীরিক শক্তিনির্ভর গতিশীল ফুটবল।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা ভালো করেই জানে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের আসর থেকে ছিটকে দিতে প্রতিটি প্রতিপক্ষই মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। গ্রুপ ‘জে’ থেকে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে লিওনেল মেসি ও তার দল। তবে ট্রফি নিজেদের কাছে রাখার এই সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বে তাদের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানের ওপর। গ্রুপ পর্বের সম্ভাব্য সব সমীকরণ মিলিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পথ কেমন হতে পারে, তার একটি রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের পেটালেন

গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হলে আর্জেন্টিনার সমীকরণ

গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখলে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে উরুগুয়ে। আর সেই বাধা পার হতে পারলে শেষ ১৬-এর ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে পারে তুরস্ক।

এই সমীকরণ মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে বিশ্বফুটবল পেতে পারে এক ব্লকবাস্টার লড়াই। যেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের মুখোমুখি হতে পারেন লিওনেল মেসি। ফুটবলপ্রেমীদের কাঙ্ক্ষিত সেই ‘মেসি বনাম রোনালদো’ দ্বৈরথ দেখতে পারে বিশ্বকাপ।

লিওনেল স্কালোনির দল যদি এই কঠিন পরীক্ষাগুলো পার হতে পারে, তবে সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়তে পারে ইংল্যান্ড অথবা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। আর সব বাধা পেরিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন কিংবা ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে পারে আলবিসেলেস্তেরা।

আরও পড়ুন: চীনের সহায়তায় ৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

গ্রুপ ‘জে’ রানার্স-আপ হলে আর্জেন্টিনার সমীকরণ

যদি গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্স-আপ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, তবে নকআউট পর্বের শুরুতেই তাদের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। প্রথম পর্বের এই কঠিন বাধা পার হতে পারলে শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে কলম্বিয়া অথবা ক্রোয়েশিয়া।

এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম কিংবা টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আর্জেন্টিনার। আর এই ধাপ পেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারলে সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে ফ্রান্স অথবা জার্মানি।

এই অগ্নিপরীক্ষা পার হয়ে স্কালোনির দল যদি ফাইনালে পা রাখতে পারে, তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে তাদের শেষ বাধা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল অথবা ইংল্যান্ড।

আরও পড়ুন: ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১১৪ ফ্লাইট বাতিল, ১৭৭০১ যাত্রী বিপাকে

গ্রুপ ‘জে’-এর তৃতীয় স্থানে থেকে আর্জেন্টিনা পরের রাউন্ডে উঠলে সমীকরণ

যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের সেরা চার বা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়, তবে প্রথম রাউন্ডেই (শেষ ৩২) তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। আর সেই লড়াইয়ে জিতলে শেষ ১৬-এর ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নরওয়ে অথবা টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক মেক্সিকো।

আর্জেন্টিনার জন্য সামনের পথটা মোটেও সহজ হবে না। কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। আর সেই মহারণ পার হতে পারলে সেমিফাইনালে লড়তে হতে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে।

এই চরম কঠিন ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আর্জেন্টিনা যদি কোনোভাবে ফাইনালে উঠতে পারে, তবে নিউ জার্সির ফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে স্পেন অথবা ফ্রান্স।

আরও পড়ুন: ৪২ বছর বয়সে মারা গেলেন বিসিবির কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন

গত মে মাসের মাঝামাঝিতে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর, ২৯ মে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা কাতার বিশ্বকাপের মূল ভিত্তিকে ধরে রেখেই উত্তর আমেরিকার বিমান ধরছে। দলের ডাগআউটে মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি এবং মাঠে অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি।

খুব সহজ কথায়, লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং তর্কাতীতভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার। চার বছর আগে তিনি আর্জেন্টিনাকে এমন এক বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, যা ১৯৮৬ সালের পর থেকে দেশটির জন্য অধরা ছিল। এখন তার লক্ষ্য সেই মুকুট ধরে রাখা।

৩৯ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেও মেসি মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০২৫ মৌসুমে তার ২৯ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট মায়ামিকে শিরোপা জিততে বড় সাহায্য করেছিল। চলতি মৌসুমেও তিনি পারফরম্যান্স ও গোল— উভয় ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলছেন। এখন বড় প্রশ্ন হলো, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে তিনি এখনও আগের মতো শীর্ষ স্তরের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন কি না। আর্জেন্টিনা সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ না খেলায় এই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। আর এই অনিশ্চয়তা অধিনায়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল দলটির জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হতে পারে।

নজরে থাকবেন: নতুন উদীয়মান তারা নিকো পাজ

এই বিশ্বকাপটি নিকো পাজকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে চেনানোর বড় সুযোগ হতে পারে। বাঁ-পায়ের এই প্রতিভাবান প্লে-মেকার সিরি আ-তে কোমো ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম পার করেছেন। তার দারুণ পারফরম্যান্সেই দলটি লিগের শীর্ষ চারে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করে।

সেস্ক ফ্যাব্রিগাসের কোচিংয়ে পাজ একজন তরুণ নেতা হিসেবে গড়ে উঠেছেন। এখন তিনি আর্জেন্টিনা দলেরও নিয়মিত মুখ। স্বয়ং লিওনেল মেসি ২১ বছর বয়সী এই তরুণের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন। অনেকে তো তাকে মেসির উত্তরসূরি হিসেবেও ভাবছেন।

পাজ এবার মূলত বড় মঞ্চ থেকে শিখবেন। এরপর কোনো নাটকীয়তা না ঘটলে তিনি কোমো ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরবেন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তরুণ প্রতিভাকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে আনতে রিয়াল কর্তৃপক্ষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

লিওনেল স্কালোনি: ডাগআউটে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সফলতম কোচ

লিওনেল স্কালোনি ২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফিও জিতেছেন। সেসার লুইস মেনত্তি কিংবা কার্লোস বিলার্দোর মতো কিংবদন্তি কোচদের মতো আগের জৌলুস বা পরিচিতি হয়তো তার ছিল না। তবে খুব দ্রুতই তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ এবং ফুটবলারদের প্রিয় পাত্রে পরিণত হন। নিজের নম্র ব্যক্তিত্ব এবং খেলোয়াড়দের সাথে গভীর সম্পর্কের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

২০১৮ বিশ্বকাপে তিনি হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া তাকে প্রথমে প্রীতি ম্যাচের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকেই প্রধান কোচ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। স্কালোনি একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলেন। পাশাপাশি দলের প্রভাবশালী ফুটবলার মেসিরও আস্থা অর্জন করেন।

দীর্ঘ সময়ে দলকে দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন একঝাঁক যুদ্ধজয়ী ফুটবলার। আক্রমণভাগের চেনা জৌলুস ধরে রাখার পাশাপাশি স্কালোনির আর্জেন্টিনা রক্ষা বিভাগেও কোনো আপস করেনি। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের কঠিন বাছাইপর্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার (ক্লিন শিট) কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। রক্ষণ আর আক্রমণের এমন দুর্দান্ত ভারসাম্যের কারণে এবারের বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের হারানো যেকোনো দলের জন্যই ভীষণ কঠিন হবে।

ট্রফি ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জে স্কালোনির আর্জেন্টিনা

এবারের বিশ্বকাপটি হবে ভীষণ জটিল এবং কঠিন। আমাদের খেলোয়াড়দের সেভাবেই প্রস্তুত করতে হবে। সামনে বড় পরীক্ষা আসছে, কারণ আপনি সবসময় জিততে পারবেন না।

দলের ওপর তার অগাধ আস্থা আছে। তবে গত আট বছরের দুর্দান্ত চক্রে পাওয়া সাফল্য ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তা-ও তিনি ভালো করেই জানেন। এই সময়ের মধ্যে তিনটি বড় ট্রফি জেতানো কোচের চুক্তির মেয়াদ বিশ্বকাপের পর আরও বাড়তে পারে। আর্জেন্টিনা দলের ডাগআউট নিয়ে তিনি বলেন,

এই জার্সির চাপ অনেক। সমর্থকরা মাঠে সবসময় নান্দনিক ফুটবল দেখতে চায়। তবে আমরা জানি, মাঠের সেরা দলটাই যে সবসময় জিতবে, তেমন কোনো কথা নেই।

বাছাইপর্বের বাধা অবশ্য বেশ সহজেই পার হয়েছে আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে টেবিলের শীর্ষেই ছিল তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে স্পষ্ট ৯ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই যাত্রায় ব্রাজিলের মাটিতে গিয়ে তাদের হারিয়ে আসার এক ঐতিহাসিক নজিরও গড়েছে আর্জেন্টিনা।

আড়ালে থাকা নতুন ট্রাম্পকার্ড: থিয়াগো আলমাদা

থিয়াগো আলমাদা অলরেডি একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার ভূমিকা ছিল অনেকটাই নামমাত্র, খেলেছিলেন মাত্র কয়েক মিনিট। কার্লোস তেভেজের মতো বুয়েনস আইরেসের একই এলাকা ফুয়ের্তে আপাচেতে বড় হওয়া ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার এবার থাকছেন মূল ভূমিকায়। নিশ্চিতভাবেই এবারের বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান তারকা হতে যাচ্ছেন।

আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও ভেলেজ সার্সফিল্ডের এই সাবেক ছাত্র আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় চমক হতে পারেন। ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে দারুণ দক্ষ ও গতিময় ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি দূরপাল্লার জোরালো শট নিতে পারেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এবার দলে আনহেল দি মারিয়ার ছেড়ে যাওয়া জায়গাটি তিনিই পূরণ করবেন।

আর্জেন্টিনা শিবিরের মূল শক্তি যারা

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাদের আঁতুড়ঘর আর্জেন্টিনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ কিছু অসাধারণ প্রতিভার জন্ম দিয়েছে। তেমনই একজন হুলিয়ান আলভারেজ, যিনি ইউরোপীয় ফুটবলে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে আতলেতিকো মাদ্রিদে দিয়েগো সিমিওনের অধীনে নিজেকে অপরিহার্য করে তোলা আলভারেজের কাঁধে থাকবে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বড় ভরসা।

মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সব সাফল্যের অন্যতম নেপথ্য কারিগর। স্কালোনির ছকে এবারও তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে মাঠ মাতাবেন।

রক্ষণভাগেও আর্জেন্টিনার নেতার অভাব নেই। তবে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন। বিশেষ করে পেনাল্টি শুটআউটে টাইব্রেকার হিরো খ্যাত এই গোলরক্ষকের উপস্থিতি শিরোপাজয়ী দলটির জন্য সবসময়ই বড় শক্তি। রক্ষণপ্রাচীর সামলাতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সেন্টার-ব্যাক জুটিও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় ভূমিকা পালন করবে।

সবশেষে, জাদুকর লিওনেল মেসির নাম ছাড়া আর্জেন্টিনার তারকাদের তালিকা অপূর্ণ থেকে যায়। ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছরে পা রাখবেন। সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট। ২০২২ সালে অধরা ট্রফি ছুঁয়ে দেখলেও মেসির জেদ এখনো কমেনি। একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তিনি এখনো রাখেন। ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিধারী এই কিংবদন্তি এবারও আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের অভিযানে মূল কাণ্ডারি থাকবেন।

এছাড়া আনহেল দি 마ারিয়ার অবসরের পর হুলিয়ানো সিমিওনে এবং থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণরাও এবার স্কালোনির দলে বড় ভূমিকা রাখার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এমন এক দল নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে যাদের বোঝাপড়াটা একদম মুখস্থ। তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে। ক্লাবের ব্যস্ত মৌসুম শেষ করে বেশ কয়েকজন ফুটবলার চোটের ধাক্কা নিয়ে দলে যোগ দিয়েছেন। সবাই ফিট থাকলে কাতারে বিশ্বকাপ জেতা মূল দলটির ওপরেই ভরসা রাখবেন কোচ। শুধু থাকছেন না অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, যিনি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন।

টুর্নামেন্টের ধরন ও প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে কোচ লিওনেল স্কালোনি ৪-৪-২ অথবা ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে তার পরিকল্পনা মূলত ৪-৩-৩ ফরমেশন ধরে রাখা। যেখানে দুই সেন্টার-ব্যাকের সাথে আক্রমণাত্মক দুই ফুল-ব্যাক মিলে রক্ষণভাগ সামলাবেন। আর মাঝমাঠে থাকবেন পাসিংয়ে দক্ষ ও গতিময় মিডফিল্ডাররা।

আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ—সবখানেই রয়েছে তারকাদের ছড়াছড়ি। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় আরও একটি সম্ভাব্য একাদশের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

রক্ষণে গোলপোস্টের নিচে প্রধান ত্রাতা হিসেবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জায়গা একদম নিশ্চিত। এই পজিশনে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো আপাতত কেউ নেই। তবে রক্ষণভাগে স্কালোনির চার ডিফেন্ডারের ছকে এবার কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সেন্টার-ব্যাক জুটি এবার শুরু থেকেই মাঠে নামতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি নামবেন বদলি হিসেবে, যেখানে বিকল্প হিসেবে মার্শেইয়ের লিওনার্দো বালেরদিও থাকবেন। আর দুই প্রান্তে ফুল-ব্যাক হিসেবে নাহুয়েল মলিনা ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো কোচের প্রথম পছন্দ থাকছেন।

মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমীকরণটি বেশ আকর্ষণীয়। রদ্রিগো ডি পলের সাথে স্কালোনির ছকের অন্যতম ভরসা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলবেন নিশ্চিতভাবেই। তৃতীয় মিডফিল্ডার পজিশনটির জন্য থিয়াগো আলমাদা এবং এনজো ফার্নান্দেজের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। ২০২২ বিশ্বকাপের নায়ক এনজো সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জোরে আলমাদাকে পেছনে ফেলে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন।

আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজের থাকা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই একাদশে তাদের সঙ্গী হিসেবে লাউতারো মার্টিনেজও শুরু থেকেই মাঠে থাকার ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাসী।

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ।

বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিটি পজিশনেই ব্যাক-আপ প্রস্তুত রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কোন পজিশনে কারা থাকছেন, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

গোলরক্ষক: পোস্টের নিচে প্রধান ভরসা এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যেকোনো প্রয়োজনে ব্যাক-আপ হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন জেরোনিমো রুলি এবং হুয়ান মুসো।

রাইট-ব্যাক: ডান প্রান্তের রক্ষণ সামলাতে প্রথম পছন্দ নাহুয়েল মলিনা। তার বিকল্প হিসেবে থাকছেন কাতার বিশ্বকাপের টাইব্রেকার হিরো গঞ্জালো মন্তিয়েল।

সেন্টার-ব্যাক: রক্ষণের মূল দায়িত্বে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। বিকল্প হিসেবে দলে আছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, লিওনার্দো বালের্দি এবং ফাকুন্ডো মেদিনা।

লেফট-ব্যাক: বাম প্রান্তে প্রথম পছন্দ হিসেবে খেলবেন অভিজ্ঞ নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। প্রয়োজনে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকেও এই পজিশনে ব্যবহার করা হতে পারে।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড: মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক ভূমিকা ও বল কেড়ে নেওয়ার কাজে প্রথম পছন্দ হতে পারেন রদ্রিগো ডি পল। ব্যাক-আপ হিসেবে থাকছেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস এবং তরুণ ভ্যালেন্টিন বার্কো।

সেন্ট্রাল মিডফিল্ড: মাঝমাঠের মূল খেলা নিয়ন্ত্রণের জন্য আছেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এছাড়াও এই পজিশনে খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন এক্সেকুয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, ডি পল, পারেদেস ও বার্কো।

রাইট উইং: ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠার মূল অস্ত্র লিওনেল মেসি। তার অনুপস্থিতিতে এই পজিশনে খেলতে পারেন থিয়াগো আলমাদা অথবা হুলিয়ানো সিমিওনে।

লেফট উইং: বাম প্রান্তের আক্রমণে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ। তার ব্যাকআপ হতে পারেন নিকোলাস গঞ্জালেস। তবে কোচের কৌশল অনুযায়ী এই পজিশনে মেসি কিংবা আলমাদাকেও দেখা যেতে পারে।

সেন্টার-ফরোয়ার্ড: গোল করার মূল স্ট্রাইকার প্রথম পছন্দ হতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। এই পজিশনে লাউতারো মার্টিনেজও আসতে পারেন। এছাড়াও অপশন হিসেবে আছেন হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ এবং লিওনেল মেসি।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো একক ফুটবলার নন; বরং কোচ লিওনেল স্কালোনি পুরো স্কোয়াডজুড়ে যে কাঠামোগত কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা গড়ে তুলেছেন, সেটাই তাদের মূল শক্তি। মিডফিল্ডের ডান প্রান্তে রদ্রিগো ডি পল একপ্রকার ঢাল হিসেবে কাজ করেন, যা মাঠে প্রতিপক্ষের জন্য স্পেস বা জায়গা কমিয়ে দেয় এবং লিওনেল মেসিকে রক্ষণাত্মক দায়িত্বের চাপ থেকে মুক্ত রাখে।

অন্যদিকে, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মাঝমাঠে ভারসাম্য বজায় রাখেন। পুরো কৌশলটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন সম্ভাব্য সাতটি ম্যাচের ধকল কাটিয়ে মেসিকে ক্লান্ত না করে তার খেলার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।

কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বের রক্ষণাত্মক পরিসংখ্যানও এই দাবির পক্ষে কথা বলে। মহাদেশীয় এই লড়াইয়ের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে শেষ করেছে আর্জেন্টিনা; যেখানে ১৮ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ১০টি, যা পুরো লাতিন আমেরিকার মধ্যে সেরা ডিফেন্সিভ রেকর্ড। এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং স্কালোনির রক্ষণভাগ কতটা সুসংগঠিত ও সুপ্রশিক্ষিত হয়ে উঠেছে, এটি তারই প্রতিফলন।

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা

বিশ্বমানের উইঙ্গার বা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাক পজিশনগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ক্রিস্তিয়ান রোমেরো কিংবা লিসান্দ্রো মার্তিনেস যদি কোনো কারণে মাঠের বাইরে থাকেন, তবে রক্ষণভাগের সেন্ট্রাল এরিয়া তার আসল ধার হারিয়ে ফেলে।

এবার বিশ্বকাপের দল ৪৮টি। ফলে বাড়তি যুক্ত হওয়া ‘শেষ ৩২’-এর ম্যাচটি খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। ফলে আর্জেন্টিনার বয়স্ক খেলোয়াড়দের ওপর বেশি চাপ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বেশ কয়েকজন ফুটবলারের ফিটনেস জনিত সমস্যার মাঝেই ঠাসা সূচির সাথে মানিয়ে দল পরিচালনা করাটাই এখন স্কালোনির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বেশ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রীতি ম্যাচ ও বাছাইপর্ব মিলিয়ে শেষ কয়েকটি ম্যাচের ফল নিচে দেওয়া হলো:

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা মাঠে নামছে নিজেদের ১৮তম বিশ্বকাপ আসরে। বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের অতীত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া

শুক্রবার ভোর পর্যন্ত, ইউক্রেন ও রাশিয়া পাল্টাপালটি ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। ইউক্রেন তেল শোধনাগার ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া রেল স্টেশন ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আক্রমণ করেছে।

কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় তাতারস্তানের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে তিনজন আহত হয়েছেন। একই সাথে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে একজন রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার বৃহৎ বিমান হামলার পর এই সমস্ত হামলা ঘটছে।

অন্যদিকে, কিয়েভ রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে তাদের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে ক্রিমিয়া ও অন্যান্য স্থানে জ্বালানির অভাব দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা রাতের বেলা তাতারস্তানের নিজনেকামস্ক শহরে অবস্থিত তাতনেফটের তেল শোধনাগার টানেকোতে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শোধনাগার, যার বার্ষিক নকশা ক্ষমতা ১৬ মিলিয়ন টনেরও বেশি বলে জানা যাচ্ছে।

টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরো জানানো হয়েছে, তারা নিজনেকামস্কের তাইফ-এনকে শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে এবং উভয় শোধনাগারে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সদ্য তাতারস্তানের আঞ্চলিক প্রধান বলেছিলেন যে, তাতারস্তানের শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আবার রিপোর্ট করেছে যে, তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের তোলিয়াত্তি শহরের টোগলিয়াটিকাউচুক উদ্ভিদ কারখানায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই কারখানাটি সিন্থেটিক রাবার উৎপাদনে বিশেষায়িত এবং এটি ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

সামারা অঞ্চলের গভর্নর পূর্বে জানিয়েছেন যে, মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থানকারী ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত টোলিয়াটি শহরেও ড্রোন হামলা হয়েছে। এছাড়াও, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ব্রায়ানস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলে ইউক্রেনের আরেকটি হামলায় দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানানো হয়েছিল ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক গভর্নর দ্বারা।

সংবাদ সংস্থাগুলো রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়া রাতারাতি ২৩১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। উভয় পক্ষই, রাশিয়া এবং ইউক্রেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘উকরজালিজনিৎসিয়া’ প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, রাশিয়ার ড্রোন উত্তরাঞ্চলীয় সুমি ওব্লাস্ট অঞ্চলের একটি রেল স্টেশন, বৈদ্যুতিক সংকেত কেন্দ্র এবং সাবস্টেশনে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন রেলকর্মী নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এদের আগে বৃহস্পতিবার রাতের সেমিনারের পর একই অঞ্চলের কোনোটপ শহরে হামলায় একজন রেলকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া ১১৭টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ১০২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাইকোলাইওভ গত রাতে একটি ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হয়েছে এবং ১৪টি ব্যক্তিগত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আরো জানান, শুক্রবার ভোরে আরেকটি হামলায় একজন ব্যক্তি আহত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটপাতেও ব্যবহার করতে হবে বাংলা কিউআর: গভর্নর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


ফুটপাতেও ব্যবহার করতে হবে বাংলা কিউআর: গভর্নর

ডিজিটাল লেনদেনকে সহজতর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে বাংলা কিউআর ফুটপাতেও ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল বেলায় রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তুলে ধরেন, ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা যাচ্ছে এবং ফুটপাতেও এর ব্যবহার করতে হবে।

এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, যারা টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। এ জন্য ১০টি এজেন্সি কাজ করছে। অনেক দেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে এবং এটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাচারকারীরা বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি ট্রান্সফার করে ফেলছে। কিন্তু আমরা পাচারকারীদের পিছু ছাড়ব না।

গভর্নর আরও বললেন, গত ১৭ বছর জ্বালানিতে আমরা সমুদ্র বিজয় দেখেছি। কিন্তু যেসব জায়গায় গ্যাস পাওয়া যেতে পারে সেগুলোতে খুঁজে দেখেনি। এটি পুরোপুরি আমদানি নির্ভরতায় চলেছে।

বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে। ব্লকগুলো না পাওয়া পর্যন্ত এই উদ্যোগ চলবে। এছাড়া, রফতানি বাড়াতে সোলারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লিখিত করেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে অন্য সূত্র থেকে জ্বালানি ক্রয় করতে হচ্ছে। এভাবে জ্বালানি নিশ্চয়তায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করা হয়েছে।

গভর্নর বলেন, বিদ্যুৎ খাত হিসাববিহীনভাবে চলছে। এখানে ব্যয় বেশি, আয় নেই। বড় ঘাটতি ছিল। ৫৬ হাজার কোটি টাকা আইপিবিতে বকেয়া পেমেন্ট সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সময় এসে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের ফলে ইরানের ৫০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


যুদ্ধের ফলে ইরানের ৫০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলা চালানোর ফলে ইরানের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদরদফতর, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলায় ইরানের যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

সবশেষ গত মঙ্গলবার এবং বুধবার রাতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা ঘটে। একই সময়ে ইসরাইল এবং ইরানও একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুত এবং ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

যদিও এক মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের বিমানবাহিনীও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।’

তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অঞ্চলের স্যাটেলাইট চিত্রের প্রাপ্যতা সীমিত করার চেষ্টা করছে। মার্চ মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশ সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্ল্যানেট জানায়, তাদের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও ন্যাটো অংশীদারদের সামরিক বা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করতে না পারে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফুটবল: কোন তারকা কোন দলের সমর্থক?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


বিশ্বকাপ ফুটবল: কোন তারকা কোন দলের সমর্থক?

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে উন্মাদনা শুরু হলে বাংলাদেশ যেন রঙে রঙে ভাগ হয়ে যায়। দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলে প্রিয় দল নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক এবং সমর্থনের প্রকাশ।

এই আবেগ থেকে দূরে নন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। কেউ ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের ভক্ত, আবার কেউ আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির প্রেমে মুগ্ধ। অন্যদিকে কয়েকজন তারকা ইউরোপের দলগুলোকেও সমর্থন করেন।

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের মধ্যে মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, আসিফ আকবর, অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী এবং বিদ্যা সিনহা মিম ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

নিজের পছন্দের দল নিয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব বলেন, ‘ব্রাজিলের খেলার মধ্যে একটা ছন্দ আছে। একটু অন্য রকম খেলে। খুব পছন্দ করি। দলটির জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।’

একই অনুভূতির কথা জানিয়েছেন বিদ্যা সিনহা মিম। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল আমার পছন্দের দল। ফুটবলের জাদুকর পেলের দেশ ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকেই ওদের খেলা পছন্দ করি। এবারের বিশ্বকাপে প্রিয় দল ভালো করবে, সেই প্রত্যাশা করছি।’

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। এই তালিকায় রয়েছেন জাহিদ হাসান, রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা, পরীমনি, চঞ্চল চৌধুরী, মেহজাবীন চৌধুরী, আব্দুন নূর সজল, মামনুন ইমন, পূজা চেরী, খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, জায়েদ খান এবং তানজিকা আমিনসহ আরও অনেকে।

চঞ্চল চৌধুরী নিজের সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। বুঝতে শেখার পর থেকেই এই দলের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মেছে। আমি যেমন আর্জেন্টিনা সমর্থন করি, আমার পুত্রও তাই করে। দুজনের পছন্দের দল এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করুক—এটাই প্রত্যাশা।’

অভিনেতা আব্দুন নূর সজল বলেন, ‘অনেক কারণেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যারাডোনা। খুব ছোটবেলায় প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার স্মৃতি আজও মনে পড়ে।’

রাফিয়াথ রশীদ মিথিলাও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে বলেন, ‘শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা। বিশ্বকে ওরা নান্দনিক খেলা উপহার দিয়ে যাচ্ছে বহু বছর ধরে। আমি ম্যারাডোনার খেলা যেমন ভালোবাসি, মেসির খেলাও ভালোবাসি। এই বিশ্বকাপে প্রিয় দল ভালো কিছু করুক, রেকর্ড করুক, সেটাই চাওয়া।’

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বাইরে অন্য দেশের সমর্থকও রয়েছেন শোবিজ অঙ্গনে। অভিনেতা সিয়াম আহমেদের পছন্দের দল স্পেন।

তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থন করলেও আমার পছন্দের দল স্পেন। ওদের খেলা খুব ভালো লাগে। খুব উপভোগ করি। অন্য রকম ছন্দ নিয়ে খেলে ওরা, যা আমাকে মুগ্ধ করে। এবার কোন দল জিতবে কেউ জানি না, কিন্তু আমার প্রত্যাশা স্পেন ভালো কিছু করুক।’

বিশ্বকাপের সময় দলভেদে মতপার্থক্য থাকলেও একটি জায়গায় সবাই একমত—ফুটবল যেন উপহার দেয় স্মরণীয় সব মুহূর্ত, আর প্রিয় দল যেন নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভক্তদের আনন্দিত করতে পারে সে প্রত্যাশাই সবার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%