ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের হামলার পাল্টা জবাবে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইসরাইলের


ইরানের হামলার পাল্টা জবাবে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইসরাইলের

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। তেহরানের এ পদক্ষেপের জবাব হবে ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’৷ এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য পালটা হামলার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

রোববার (৭ জুন) রাতে ইরানের হামলার পর ইসরাইলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নিখিল কুমার নাথ আওয়ামী লীগ নেতা

ইসরাইলি সূত্রগুলোর একজনের ভাষ্য, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও কড়া অবস্থানের কারণে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জেলেনস্কির ট্রাম্প বিরোধ প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এ কারণেই ঘাঁটিটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলার শঙ্কায় ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হিসেবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

শুধু ইরানই নয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়াও। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরাইল অতীতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও বৃহৎ পরিসরে পালটা আঘাত হানা হবে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ রাখা। কিন্তু লেবাননে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে ইরানের উপকূলীয় এলাকা এবং জাহাজে বারবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

আরও পড়ুন: আগামী গ্রীষ্মের আগেই তিন-চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, যুদ্ধ অভসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘রোববার রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা।’ একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১২ এম


নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা

সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এছাড়াও, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শুধুমাত্র ইরানই নয়, নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়াও। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইল অতীতে ব্যাপকভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে তা মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আরও বৃহৎ পরিসরে পালটা আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল সব সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখা। তবে লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরের ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও জাহাজে বিভিন্ন হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রেখেছে এবং একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।

এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘রোববার রাতের অভিযানটি একটি সতর্কবার্তা ছিল।’ তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে তার জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর।’

অন্যদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। তারা জানিয়েছে, তেহরানের এ পদক্ষেপের জবাব ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে। রোববার (৭ জুন) রাতে ইরানের হামলার পর ইসরাইলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে একথা জানিয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার ঘটনার কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

পালটাপালটি হামলা এবং কঠোর অবস্থানের ফলে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে যেতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এই কারণেই ঘাঁটিটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বন্ধে ইরানকে সরাসরি আহ্বান ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ এম


ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বন্ধে ইরানকে সরাসরি আহ্বান ট্রাম্পের

ইসরাইলের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তেহরানের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছো, এবার তা বন্ধ করো। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসো এবং একটি চুক্তি করো।’

রোববার (৭ জুন) রাতে উত্তর ইসরাইলে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে এ তথ্য জানান ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে আলোচনা টেবিলে ফিরে আসতে হবে এবং একটি চুক্তি করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি (ক্ষেপণাস্ত্র হামলা) আলোচনা প্রক্রিয়ায় কোনো সাহায্য করবে না।

ট্রাম্প বলেন, আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলাম। তিনি একটি সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সীমা সম্পর্কে বলেন, আমি বলব, সামনের সপ্তাহের সোমবার, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

শনিবার (৬ জুন) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে আইএএফ বিমান অভিযান চালায়। এই হামলায় ৪ জন শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। বৈরুতে আইএএফ হামলা চালানোর পর, ট্রাম্প বলেন, তিনি এতে খুশি হননি।

রোববারের হামলার পর, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বৈরুতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলার জবাবে তারা উত্তর ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে তারা জানিয়েছে, আকাশপথে নিক্ষিপ্ত এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে লেবাননের রাজধানীতে ইসরাইলি হামলার জবাবে পালটা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানি কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ দশকে রাজশাহীতে কমেছে বৃষ্টিপাত, ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ এম


পাঁচ দশকে রাজশাহীতে কমেছে বৃষ্টিপাত, ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা

 

গত পাঁচ দশক ধরে রাজশাহীতে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত প্রায় ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রা বাড়ছেও।

এছাড়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে দেশের অন্যতম খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট আরো গভীর হচ্ছে। কৃষি, জীবিকা ও দীর্ঘমেয়াদি পানির নিরাপত্তা ক্রমেই বড় হুমকির মুখে পড়ছে, বলছে এক গবেষণা।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ক্লিনার ওয়াটার-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বৃষ্টিপাতের হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক অসহযোগিতার কারণে ২০৩২ সালের মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র পানিসংকট অব্যাহত থাকবে। গবেষণাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের একটি দলের দ্বারা পরিচালিত।

গবেষণায় স্যাটেলাইট চিত্র, আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য, ভূগর্ভস্থ পানির উপাত্ত এবং রাজশাহীর ১৩টি উপজেলার ৩৮৫টি পরিবারের ওপর পরিচালিত মাঠ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭৮ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে রাজশাহীতে গড় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত ছিল এক হাজার ৪০৬ মিলিমিটার। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তা কমে গিয়েছে ৯২৫ মিলিমিটারে। অর্থাৎ, কয়েক দশকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৩৪ শতাংশ কমে গেছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হ্রাস পাচ্ছে।

গবেষকদের মতে, বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কমে যাওয়ার প্রবণতা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষভাগে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কয়েক দফা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। ২০৮৮ সালের মধ্যে তা ৪৭.১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে রাজশাহীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গড়ে ৩.৭৮ মিটার নিচে নেমে গেছে। ১৯৯০ সালে যেখানে গড় গভীরতা ছিল ১১.৬৬ মিটার, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৫.৪৪ মিটার হয়ে গেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ জানিয়েছে, দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ ও নিশ্চিত করতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। শতভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমে যেতে দেখছেন। তবে সংকট বাড়লেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ জানায়, পানির ব্যবস্থাপনা বা সংকট মোকাবেলায় তারা কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাননি।

গবেষকরা বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে রাজশাহীর পানির নিরাপত্তা আরো ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং খরা-সহনশীল ফসলের চাষ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন।

গবেষকদের মতে, পানিনির্ভর ধান চাষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হলে রাজশাহীর ক্রমবর্ধমান পানিসংকটে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের পর মুক্তি পাচ্ছে রশ্মিকার ‘ককটেল ২’, কেন শঙ্কায় ছিলেন অভিনেত্রী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ এম


বিয়ের পর মুক্তি পাচ্ছে রশ্মিকার ‘ককটেল ২’, কেন শঙ্কায় ছিলেন অভিনেত্রী?

প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিল, এই ছবিতে নাকি কৃতি ও রশ্মিকাকে সমকামী যুগল হিসাবে দেখা যাবে। তবে এ ধারণা সত্যি নয়! তাহলে কোন কারণে ভয় পেয়েছিলেন রশ্মিকা?

 

রশ্মিকা এমন্দানার সঙ্গে ছবিতে শাহিদ কপূর ও কৃতি সেননের সাথে দেখা যাবে কি কারণে ভয় পান রশ্মিকা? ছবি: সংগৃহীত।

২০১২ সালে ‘ককটেল’ ছবির মাধ্যমে দর্শক মুগ্ধ হয়েছিল। সইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন এবং ডায়না পেন্টি অভিনীত এই ছবিতে ত্রিকোণ প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছিল। এবার সেই পুরনো গল্প নতুন মোড়কে আবার সামনে এসেছে। মুক্তি পেয়েছে ‘ককটেল ২’। রশ্মিকার বিয়ের দিন কয়েকের মধ্যে ছবির প্রচার শুরু হয়। রশ্মিকা নিজেই জানিয়েছেন, এই ছবি নিয়ে তিনি বেশ ভয়ে ছিলেন।

প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিল, এই ছবিতে কৃতি ও রশ্মিকাকে সমকামী যুগল হিসাবে দেখা যাবে। তবে পরিচালক হোমি জানিয়েছেন, এমন কোনো গল্প নেই। দুই নায়িকার মধ্যে কেবল ভালো বন্ধুত্বই দেখানো হয়েছে। কৃতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, “দুটো ছেলের ভাল বন্ধুত্ব হলে তাকে ‘ব্রোম্যান্স’ বলা হবে। আর দুটো মেয়ের ভাল বন্ধুত্ব যেন হতেই পারে না!” তবে রশ্মিকার ভয় ছিল অবশ্য ভিন্ন। তিনি জানান, এটি তার প্রথম ছবি যেখানে তিনি এত শহুরে মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%