প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
এছাড়াও, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শুধুমাত্র ইরানই নয়, নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়াও। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইল অতীতে ব্যাপকভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে তা মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আরও বৃহৎ পরিসরে পালটা আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল সব সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখা। তবে লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরের ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও জাহাজে বিভিন্ন হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।
আইআরজিসি বলেছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রেখেছে এবং একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘রোববার রাতের অভিযানটি একটি সতর্কবার্তা ছিল।’ তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে তার জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর।’
অন্যদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। তারা জানিয়েছে, তেহরানের এ পদক্ষেপের জবাব ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে। রোববার (৭ জুন) রাতে ইরানের হামলার পর ইসরাইলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে একথা জানিয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার ঘটনার কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
পালটাপালটি হামলা এবং কঠোর অবস্থানের ফলে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে যেতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এই কারণেই ঘাঁটিটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন