০৬:৪৪ পি.এম
জাতীয় সংসদে অভিযোগ উঠে যে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের একটি বৃহৎ অংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর এই বিষয়ে জানিয়েছেন, প্রবাসীদের অভিযোগ ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৬১৩৫ নম্বরে টোল-ফ্রি হটলাইন ব্যবহারের জন্য চালু করা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে, এজেন্সির সহযোগিতা ছাড়া সরাসরি কর্মী প্রেরণের জন্য ‘অ্যাডভান্স পুল’ গঠনের পূর্ব পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনকালে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে: শিশির মনির
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা, বেতন বঞ্চনা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষভাবে প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।
নারী কর্মীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন, সেফ হোম, বীমা সুবিধা এবং নিয়োগকর্তা যাচাইয়ের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি আরও জোরদার করা হবে কিনা, এটি জানতে চান ওই সংসদ সদস্য।
প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে জবাবে বলেন, বিদেশে অবস্থানকারী নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন পরিচালিত হচ্ছে যেখানে প্রবাসীরা যেকোনো অভিযোগ কিংবা সমস্যা সম্পর্কে জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোও নিয়মিত সহায়তা দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, অতীতে বহু দেশের সাথে শ্রমবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) না থাকলেও, এখন নতুন চুক্তি হচ্ছে। এরফলে শ্রমিকদের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানির ঘটনায় প্রতিকার চাওয়া সহজ হয়েছে।
আরও পড়ুন: আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের উদ্বোধনে পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু
সেফ হোম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম রয়েছে। এছাড়াও, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীর সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, আমরা এখন নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক। কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাদের পাঠানো হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে নূরুল হক নূরু বলেন, আমরা একটি অ্যাডভান্স পুল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছি। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগকর্তারা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরাসরি কর্মী নিতে পারবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে যাবে এবং মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকি বাড়বে।
এদিকে, বিতর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিরোধী দলের আরেক সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা এই মানুষগুলো বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনেক শ্রমিক তাদের সবকিছু হারিয়ে দেশে ফিরছেন। প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূরু এই বিষয়ে জানান, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার দূতাবাস কেন্দ্রীয় সেবা জোরদার করেছে। পাশাপাশি আইনি সহায়তা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য নানা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য: ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ২ আওয়ামীপন্থি আইনজীবী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন