১০:২০ এম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা উত্তেজনা বিরাজ করার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতের দিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে যায়। নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এই কর্মসূচিতে রংপুর মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে বেরোবি ছাত্রদলের কর্মীরা স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় একটি ব্যানার টাঙিয়ে তাতে জুতা নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
রাত ৮টার দিকে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা। তিনি বলেন, "ছাত্রদল লড়তে জানে, জীবন দিতেও জানে। কেউ রংপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।"
রংপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, "আমরা সতর্ক করে দিতে চাই, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কোনো জায়গা নেই।"
অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবির বিকেল সাড়ে ৫টায় কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এদিকে, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।
আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা
এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থীসহ সকল ধরনের বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, সোমবারের (৩ জুলাই) ঘটনার পর দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের (৪ জুলাই) কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, এটি রংপুর মহানগর ছাত্রদলের কর্মসূচি।
আরও পড়ুন: ‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন