ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য আর বিশ্বাস করছে না সিআইএ


ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য আর বিশ্বাস করছে না সিআইএ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন মিত্র ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য প্রাপ্তির পর। ওই তথ্যে জানানো হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তবে, যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরেও ট্রাম্প এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল খুঁজে পেতে বেশ সমস্যায় পড়ছেন।

এভাবে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। একসময় ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া ইসরায়েল, এখন আর ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এই পরিস্থিতিতে, গত তিন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন প্রকট হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানা যায়, গোপনে তুরস্ক থেকে একটি সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে চলে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের একটি হত্যাচেষ্টার হুমকি এড়াতে। নজিরবিহীন সেই নিরাপত্তা অভিযানে, ট্রাম্পকে একটি খাবারের ট্রলির মাধ্যমে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর তিনি ন্যাটোর আঙ্কারা সম্মেলন থেকে গোপনে ছোট একটি সামরিক বিমানে ব্রিটেনের উদ্দেশে রওনা হন।

এদিকে, ট্রাম্পের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য নিয়ে সন্দিহান ছিল। বুধবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সিআইএ ওই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ‘কম আস্থা’ দেখিয়েছে। এরপরও মার্কিন কর্মকর্তারা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

একটি সূত্র সংবাদপত্রটিকে জানায়, এই সতর্কবার্তাটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের একটি বৃহত্তর ধারার সঙ্গে মিলে যায়। ওই ধারার তথ্যগুলোকে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, শুধুমাত্র তথ্য প্রদান করার জন্য নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতেও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতা এখন চরম চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে দুই নেতাও ইরানকে কেন্দ্র করে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন।

১৯৭৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলা ইরানের সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। এই বিষয়ে ইসরায়েলের ‘চরম আত্মবিশ্বাস’ ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরির ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু প্রায়ই তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে হেলাফেলা করেন, বিশেষ করে যখন ইরান ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ আসে।’ একই সঙ্গে, ট্রাম্পের ওপর আগের ক্ষতিকর হামলার ঘটনা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে হত্যার জন্য আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট একটি ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সিআইএ মনে সন্দেহ থাকলেও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

চ্যাথাম হাউসের মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইয়োসি মেকেলবার্গ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-কে বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো যে প্রথমে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে, বাস্তবে সেগুলো হয়তো এতটা নির্ভরযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সিআইএ মনে করে, ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা কিছুটা প্রভাবের বাইরে চলে গেছে এবং এখন সেই প্রভাব ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে। যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘সিআইএ মনে করে, তারা কিছুটা উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে এবং এখন আবার নিজেদের প্রভাব ফেরানোর চেষ্টা করছে।’ তার মতে, এ যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক ব্যর্থতা রেকর্ড করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে হামলার কথা উল্লেখ করেন। সেই হামলায় ১৭০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছিল এবং ঘটনাটি বর্তমানে মার্কিন সরকার তদন্ত করছে।

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপের নানা তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলেও, ট্রাম্পের নেতানিয়াহুর প্রতি ‘বিশেষ দুর্বলতা’ রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ। গত মাসে নেতানিয়াহু অষ্টমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এ থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কের মধ্যে কিছু টানাপোড়েন থাকলেও তাদের সম্পর্ক এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহকে পরাস্ত করার জন্যই লেবাননে এই অভিযান চালাচ্ছে।

অধ্যাপক মেকেলবার্গের মতে, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পরও, ট্রাম্প এই বিষয়ে নীরব রয়েছেন। একইভাবে, নেতানিয়াহু বলেছেন, তার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। এসব বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো না হওয়া দুই নেতার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, এই সম্পর্কের ওপর সামনে আরো চাপ বাড়তে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছেন নেতানিয়াহু। ফলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে পারে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু মোরান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সম্পর্কে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য একসময় খুবই নির্ভরযোগ্য মনে করা হত, কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সরিয়ে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ছিল। তবে একই সাথে ওই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগের মতো আস্থা নেই, তা প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

৭ অক্টোবরের হামলার আগাম তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে অধ্যাপক মোরান মনে করেন, ট্রাম্প ইসরায়েল থেকে দূরে সরে যাবেন না। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি কি সত্যিই পাকিস্তানের জন্য সামরিক পদক্ষেপে যাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


সৌদি কি সত্যিই পাকিস্তানের জন্য সামরিক পদক্ষেপে যাবে?

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণের সূচনা ঘটিয়ে, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিটির মূল কথা হলো, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সামরিক হামলা হলে, তা তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য হবে। কাগজে কলমে এটিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক ও সম্মিলিত নিরাপত্তার কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের কাছে এটি একটি নতুন কূটনৈতিক ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে। প্রধান প্রশ্ন উঠছে, সংকটকালে এই কৌশলগত প্রতিশ্রুতি কি সত্যিই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রূপান্তরিত হবে, নাকি তা কেবল রাজনৈতিক সংহতি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

এই চুক্তির আসল গভীরতা বুঝতে হলে, এটিকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের বহু বছরের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা প্রয়োজন। এই সম্পর্কটি ২০২৫ সালে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় রূপ নিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, কৌশলগত চুক্তি বা সামরিক সুসম্পর্ক থাকলেই, সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তার গ্যারান্টি পাওয়া যায় না। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক যোগাযোগ রয়েছে এবং বহু বছর ধরে সৌদি ভূখণ্ডে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এতে সত্ত্বেও, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে পাকিস্তান সবসময়ই একটি সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালে যখন সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু হয়, তখন পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সে দেশে সেনা পাঠানো বা সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, জাতীয় স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজেদের সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে চলে।

সম্প্রতি এই দ্বিপক্ষীয় জোটে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় মাত্রা তৈরি হয়েছে। অনেকে একে রূপক অর্থে একটি ইসলামিক ন্যাটো বা সুন্নি নিরাপত্তা বলয় বলে অভিহিত করলেও, এটি একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার অতিসরলীকরণ মাত্র। কারণ এই তিন দেশের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি ও ভৌগোলিক গুরুত্বের ক্ষেত্রগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। পাকিস্তানের সমস্ত কৌশলগত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর।

অন্যদিকে, তুরস্ক ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক থিয়েটারে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত। আবার সৌদি আরবের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো, পারস্য উপসাগরের স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিজের তেল অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরান সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীদের হামলা মোকাবিলা করা। সম্প্রতি সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হওয়ায়, রিয়াদ প্রথাগত পশ্চিমা নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে গিয়ে তাদের সামরিক অংশীদারত্বকে বহুমুখী করার তাগিদ অনুভব করছে।

ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, এই চুক্তি দিল্লির নিরাপত্তার জন্য নিশ্চিতভাবেই একটি বাড়তি কৌশলগত জটিলতা তৈরি করে। পাকিস্তান এখন দুটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তির আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সমর্থন লাভ করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সৌদি আরব বা তুরস্কের সরাসরি সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা যদিও কম, তবুও সম্ভাব্য সংকটের সময় ইসলামাবাদ রিয়াদ বা আঙ্কারা থেকে কূটনৈতিক সমর্থন, গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং লজিস্টিক সহযোগিতা পেতে পারে।

তবে এর বিপরীতে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বাধাটি সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা। সৌদি আরব তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সাথে গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভারতের বিশাল জ্বালানি বাজার এবং সেখানে সৌদি পুঁজির ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ রিয়াদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিয়াদ কখনোই চাইবে না এমন কোনো কঠোর সামরিক অবস্থানের দিকে যেতে, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে তাদের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে চিরতরে বিনষ্ট করে। ২০২৫ সালের পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলা এবং ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর'-এর প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময়েও সৌদি আরব পাকিস্তানের পক্ষে সরাসরি কোনো সামরিক বা উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থেকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছিল।

মক্কা চুক্তিকে কোনো চূড়ান্ত সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ যেমন নেই, তেমনি একে কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন হবে না। এটি মূলত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি প্রতিফলন, যেখানে রিয়াদ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন খুঁজছে, আঙ্কারা তার আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে এবং ইসলামাবাদ নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগীদের ক্ষেত্র বিস্তৃত করছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আটক একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আটক একজন

কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। শুক্রবার উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃত আসামি হচ্ছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন নাপমুরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আ. গফুর এর ছেলে মো. রাসেল (২০)।

বিজিবি জানাচ্ছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ উনচিপ্রাং বিওপি’র বিশেষ টহল দল মো. রাসেলকে আটক করে।

পরে তাকে তল্লাশি করে একটি পোটলার মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী ১০ কাট (এক লক্ষ) পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে উক্ত স্থানে দীর্ঘ তল্লাশি করা সত্ত্বেও অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।

আটককৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ইয়াবা মায়ানমার সীমান্ত থেকে কিনে অধিক দামে বিক্রয়ের উদ্দেশে বহন করা হচ্ছিল বলে স্বীকার করে।

এদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর জীম্বংখালী বিওপি’র বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাকের এর ঘের নামক স্থানে ২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা হাতে থাকা ০১টি পোটলা ফেলে দৌঁড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে উক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে পোটলার ভেতর থেকে নীল রঙের বায়ুরোধী ৫ কাট (পঞ্চাশ হাজার) পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ ব্যাটিং ধস, তবুও ১৫০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


হঠাৎ ব্যাটিং ধস, তবুও ১৫০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ দারুণভাবে অবস্থান করছে। এই প্রতিবেদন লেখা অব্দি বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১০৫ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করেছে। এর ফলে স্বাগতিক দলের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানের চেয়ে বাংলাদেশ ১৪৯ রানে এগিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে, নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১ রানে বাংলাদেশের তিন উইকেট তুলে নেয়। বাংলাদেশের স্কোর ২৯৭ রানে ৩ উইকেট থেকে কমে গিয়ে ৩০৮ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয়।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ রানে আউট হন এবং লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম দ্রুত ফিরে গিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেয়। লিটন কোনো রান না করেই ১২ বলে মিচেল স্টার্কের ডেলিভারি ধরে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর, প্যাট কামিন্সের বলে ৩৬ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম এবং দুই ক্যাচই নেন স্মিথ।

এর আগে, তানজিদ হাসান ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অর্জন করেন। মুমিনুল হক ৪৯ রান করেন এবং শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪ রান।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ ২৮ এবং হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে, হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেয়ার পথে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দিলে লাখো মানুষের সমাবেশের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দিলে লাখো মানুষের সমাবেশের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে ২০ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশ করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

গত বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে, তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর কারাগারে যাবেন না। একই সঙ্গে, দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

আদিয়ালা কারাগারের পরিস্থিতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দিতে চায় না। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, বারবার পিটিআই নেতা-কর্মী ও আইনজীবীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, আদালত সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেও, সেই আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, যা দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত। এমন পরিস্থিতিতে, রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানানো ছাড়া দলের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলেও জানান এই পিটিআই নেতা।

হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে সোহেল আফ্রিদি দেশজুড়ে পিটিআই কর্মী ও সাধারণ জনগণকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে নীরব থাকা সম্ভব নয় এবং সরকার বৈঠকে বাধা দিলে সারা দেশে কঠোর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি জোরদার করা হবে। ইমরান খানকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পাকিস্তানের চলমান সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার একমাত্র সমাধান কেবল ইমরান খানের নেতৃত্বেই সম্ভব। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদের দিকে এই গণপদযাত্রা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: ডন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%