ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হঠাৎ ব্যাটিং ধস, তবুও ১৫০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ


হঠাৎ ব্যাটিং ধস, তবুও ১৫০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ দারুণভাবে অবস্থান করছে। এই প্রতিবেদন লেখা অব্দি বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১০৫ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করেছে। এর ফলে স্বাগতিক দলের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানের চেয়ে বাংলাদেশ ১৪৯ রানে এগিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে, নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১ রানে বাংলাদেশের তিন উইকেট তুলে নেয়। বাংলাদেশের স্কোর ২৯৭ রানে ৩ উইকেট থেকে কমে গিয়ে ৩০৮ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয়।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ রানে আউট হন এবং লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম দ্রুত ফিরে গিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেয়। লিটন কোনো রান না করেই ১২ বলে মিচেল স্টার্কের ডেলিভারি ধরে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর, প্যাট কামিন্সের বলে ৩৬ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম এবং দুই ক্যাচই নেন স্মিথ।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

এর আগে, তানজিদ হাসান ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অর্জন করেন। মুমিনুল হক ৪৯ রান করেন এবং শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪ রান।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ ২৮ এবং হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে, হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেয়ার পথে রয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দিলে লাখো মানুষের সমাবেশের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দিলে লাখো মানুষের সমাবেশের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে ২০ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশ করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

গত বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে, তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর কারাগারে যাবেন না। একই সঙ্গে, দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

আদিয়ালা কারাগারের পরিস্থিতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দিতে চায় না। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, বারবার পিটিআই নেতা-কর্মী ও আইনজীবীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, আদালত সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেও, সেই আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, যা দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত। এমন পরিস্থিতিতে, রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানানো ছাড়া দলের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলেও জানান এই পিটিআই নেতা।

হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে সোহেল আফ্রিদি দেশজুড়ে পিটিআই কর্মী ও সাধারণ জনগণকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে নীরব থাকা সম্ভব নয় এবং সরকার বৈঠকে বাধা দিলে সারা দেশে কঠোর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি জোরদার করা হবে। ইমরান খানকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পাকিস্তানের চলমান সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার একমাত্র সমাধান কেবল ইমরান খানের নেতৃত্বেই সম্ভব। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদের দিকে এই গণপদযাত্রা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: ডন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লি হাইকোর্ট ও ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরসহ ৬ স্থানে বোমা হামলার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


দিল্লি হাইকোর্ট ও ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরসহ ৬ স্থানে বোমা হামলার হুমকি

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়েছে চরম বোমা আতঙ্ক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিল্লি হাইকোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরসহ রাজধানীর অন্তত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একটি ইমেইল পাঠানো হয়েছে।

‘খালিস্তান’-এর নাম ব্যবহার করে পাঠানো ওই ইমেইলের বিষয়বস্তুতে শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল ‘ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম’। চিঠিটিতে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে পুরো দিল্লি শহরজুড়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর এক বিশদ পরিকল্পনার কথা সূচিত হয়েছে।

হুমকিমূলক এই বার্তাটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্ট ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও শহরটির আরও অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রকে নিশানা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই বার্তায়। তালিকায় সন্নিবিষ্ট রয়েছে জামনগর হাউস, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত অফিস, জেলা প্রশাসকের (ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) কার্যালয়। সংবেদনশীল এসব স্থানে বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠিয়ে কঠোর চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।

হুমকির বার্তাটি পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ, বোম্ব স্কোয়াড এবং নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো যৌথভাবে উল্লিখিত প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চালিয়েছে। দিল্লির দিল্লি হাইকোর্ট এবং আইজিআই বিমানবন্দরের মতো জনবহুল এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানগুলোতে যাত্রীদের চলাচলে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপের পর শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের পর বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক কিছু উদ্ধারের খবর জানানো হয়নি।

এই ইমেইল বার্তার পেছনে কারা অথবা কাদের হাত রয়েছে এবং এটি কি কোনো ভুয়া তথ্য বা প্যানিক সৃষ্টি করার চেষ্টা, তা বের করতে কড়া তদন্ত শুরু করেছে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় ধস সামলে চালকের আসনে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় ধস সামলে চালকের আসনে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর টাইগারদের ব্যাটিংয়ে দারুণ জবাব এসেছে। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, মমিনুলের হকের ৪৯ রান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের পর, কিছুটা ব্যাটিং ধসের মাধ্যমে বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়ে। তবে, শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ এবং হাসান মাহমুদের দৃঢ়তায়, তারা সেই চাপ সামলে দ্বিতীয় দিন সম্পন্ন করেছে।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের বিপরীতে বাংলাদেশের লিড হয়েছে ১৫৩ রানের। মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থাকা হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রান করেছেন। দিনের শেষ বলে মিরাজের একটি ক্যাচ ফেলেছেন ক্যামেরন গ্রিন। এভাবে বাংলাদেশ স্বস্তি নিয়েই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বোলারদের সামনে ধীরে ধীরে দারুণ সুযোগ এসেছিল। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। স্টিভ স্মিথ সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। ট্রাভিস হেড ২২, জেক ওয়েদারাল্ড ২৩, অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ ও ক্যামেরন গ্রিন ১৩ রান করেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১৭ ওভারে ৫৫ রান খরচায় তিনি ৬ উইকেট নেন। তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট নেন এবং এবাদত হোসেনও দুটি উইকেট লাভ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শুরুর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে শুরু করে। ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৫২ রানে দ্বিতীয়, ৬১ রানে তৃতীয় এবং ৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা। স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে তাদের ইনিংস শেষ হয়।

তানজিদ হাসান ও মমিনুল হকের জুটিতে শক্ত ভিত গড়া হয়। ৩৬ রানে শাদমান ইসলাম ফিরে যাওয়ার পর তানজিদ এবং মমিনুল মিলে ইনিংসের ভিত শক্ত করে। দুজনের সহায়তায় আসে ১০২ রানের জুটি। মমিনুল ৯৫ বলে ৮ চারসহ ৪৯ রান করে ফিরে যান। এরপর, তানজিদ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান।

তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৯৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০১ রান করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য এই ব্যাটারদের ইনিংস দলটির বড় লিডের স্বপ্ন দেখায়। শান্তর ৮৪ রানের পর হঠাৎ ধস দেখা দেয়।

তানজিদ ২৩১ রানে ফিরে যাওয়ার পর শান্তর সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের জুটি বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। শান্ত সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ২৯৭ রানে এসে হঠাৎ ধাক্কা খায়। জশ হ্যাজেলউডের বল স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে শান্ত ফিরে যান। তিনি ১২৬ বল খেলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন।

শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস ১২ বল খেলে কোনও রান না করে মিচেল স্টার্কের বল স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। তারপর প্যাট কামিন্সের বলে একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে দেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ৫৫ বল খেলে ৩৬ রান করেন।

অতঃপর, ২৯৭ থেকে ৩০৮ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ বড় ধাক্কায় পড়ে। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮ রান হয়ে যায় দলের স্কোর। মাত্র ১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ফেরার সুযোগ করে দেয়।

এরপরই মিরাজ এবং হাসানের চালাকির দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ধসের পর এই দুইজন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ সামলে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ৩টি চার রয়েছে। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ ৭৬ বল মোকাবিলা করে ১৩ রান করেন এবং তাঁর ইনিংসে ২টি চার রয়েছে।

বহুত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নতুন বল নিয়ে আক্রমণে থাকলেও, এই জুটি উইকেট ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একপাশে মিরাজ রান বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে হাসান মাহমুদ দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছেন।

দিনের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়া মিরাজকে আউট করার সুযোগও পেয়েছিল। মার্নাস লাবুশেনের করা ওভারের শেষ বলে শর্ট এবং অফের বাইরে থাকা বল কাট করেন মিরাজ। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা ক্যামেরন গ্রিন নিচে নামার চেষ্টা করে ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি। ফলে মিরাজ জীবন পান। এরপরই দ্বিতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মিরাজ এবং হাসানের এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশের হাতে ছিলেন মূলত নিচের সারির ব্যাটাররা। এ অবস্থায় দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট পড়লে লিড অনেকটাই কমে যেতে পারত।

কিন্তু মিরাজ এবং হাসান অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দীর্ঘ সময় টিকে থেকে দেশকে ৩৫১ রানে নিয়ে গেছেন। কেবল রান নয়, তাদের ব্যাটিং বাংলাদেশের লিডটিকে ১৫৩ রানে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের ব্যাটিং সংশ্লিষ্ট সকলের নজর কেড়েছে। প্রথম ইনিংসে বোলিং করে ৬ উইকেট নেওয়ার পরে তিনি ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ৭৬ বল খেলে ১৩ রান ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে বড় নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাঁর ৭৬ বলের প্রতিরোধের মূল্য অনেক বেশি।

মিরাজের ওপর এখন বড় দায়িত্ব। দিনের শেষে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে আরও চারটি উইকেট। ক্রিজে থাকা মিরাজের ওপর তাই তৃতীয় দিনের শুরুতে বড় দায়িত্ব থাকা জরুরি। তাঁর সঙ্গে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং এবাদত হোসেন আবার ব্যাট করতে নামবেন।

যদি মিরাজ দিনের শুরুতে আরও কিছু রান যোগ করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের লিড আরও বড় হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের তুলনায় ইতোমধ্যে ১৫৩ রানের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন যতটা সম্ভব বড় লিড অর্জন করা।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাযেলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। প্যাট কামিন্স এবং নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

বাংলাদেশের সামনে এখন বড় সুযোগ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ৩৫১ রান করা বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। বিশেষ করে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, শান্তর ৮৪ এবং মোমিনুলের ৪৯ রান পর যখন দ্রুত তিন উইকেট পড়ে যায়, তখন মিরাজ এবং হাসানের প্রতিরোধ দলের স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরাতে সাহায্য করেছে।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে। হাতে রয়েছে চার উইকেট। এই অবস্থান থেকে তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও কিছু রান যোগ করতে পারলে লিড দুই শতাধিক হতে পারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তৃতীয় দিনের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। মিরাজ ও হাসানের জুটি যদি দ্রুত ভাঙতে পারে, তবে স্বাগতিকরা আবার ম্যাচে ফেরার সুযোগ পাবে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ যদি দিনের শুরুতে লিড বাড়িয়ে নিতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে অপরাজিত, হাসান মাহমুদ অপরাজিত ১৩ রানে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ছিল ১৯৮ রানের। ফলে বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, সরকার খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে জাতীয় কিকবক্সিং এসোসিয়েশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বেস্ট অব বেস্ট জাতীয় কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়ানশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে একটি অনন্য ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার, যা তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো যুগান্তকারী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্ষুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা হচ্ছে, যারা ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সুনাম বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিকবক্সিং-কে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হলে, মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইশতিয়াক আবেদিন। এসময় এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক (কোচ), রেফারি, মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%