০৪:৪৩ পি.এম
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তথ্য ও উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের জন্য তথ্যভান্ডারকে অধিকতর উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত তথ্য-উপাত্ত অপরিহার্য।’
আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হতে থাকে, যেখানে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘স্টেকহোল্ডার সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপ অন মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব অব বিবিএস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সমর্থিত ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস বেইজড অন প্ল্যাটফর্ম (সিবিএসএসপি)’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিএসের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নবপ্রতিষ্ঠিত ‘মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব’ গবেষণা, প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং সরকারি পরিসংখ্যানের প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কথা বলেন, এর মাধ্যমে বিবিএস শুধু তথ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আধুনিক ডাটা সার্ভিস প্রদানকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তথ্য ও উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সরকার এমন একটি তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কারসাজির সুযোগ থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জিডিপি, দারিদ্র্যের হার, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শুমারি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য। তথ্যের ভিত্তি দুর্বল হলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়নও কঠিন হয়ে পড়ে।’
জোনায়েদ সাকি আরও যোগ করেছেন, সরকার দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর করে তুলতে চায়। এজন্য কোথা থেকে যাত্রা শুরু হচ্ছে, কী পরিমাণ অগ্রগতি হচ্ছে এবং কোথায় নীতিগত সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে-এসব নির্ধারণে মানসম্মত তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি থাকতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা বিনামূল্যে তথ্য ব্যবহারের সুযোগ রাখার বিষয়েও সরকার বিবেচনা করছে।
তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তথ্য উন্মুক্ত করা হবে জানাতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হলেও ব্যক্তিগত পরিচয় বা সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখা হবে। তিনি শেষেও বলেন, ‘যত বেশি গবেষণা হবে এবং তথ্যের ব্যবহার বাড়বে, ততই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, বিবিএসের তথ্য সেবাকে আধুনিক, নিরাপদ ও ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক করার ক্ষেত্রে মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সরকারি মাইক্রোডাটা ব্যবহারের একটি নিরাপদ ও সুশাসিত ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, বিবিএসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডাটা ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং সিবিএসএসপি প্রকল্পের আওতায় চলমান সহযোগিতা বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করতে সহায়তা করবে। কর্মশালায় অংশ নেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিবিএস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন