০৫:৪৮ পি.এম
৭০ বছর বয়সী বিজলী বিশ্বাস জীবনের শেষ বয়সে এসে সরকারের কাছে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান।
তার দাবি, সরকার উদ্যোগ নিলে বেড়িবাঁধ বা অন্য কোনো উপায়ে এ ভাঙন রোধ করা সম্ভব।
বৃদ্ধা রূপা রানী দাস বিয়ের পর সাচিয়া বাজার এলাকায় স্বামীর সংসারে এসেছিলেন।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ বিতরণ
নদীভাঙনের কারণে তার স্বামীর সমাধির শেষ চিহ্নটুকুও আজ আর নেই; হারিয়েছেন সাতটি ভিটা।
নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বর্তমানে অন্যের ভাড়া বাসায় থাকা রূপা রানী।
এক সময়ের বড় ব্যবসায়ী কৃপা বিশ্বাস মধুমতীর গ্রাসে আজ নিঃস্ব।
তার মতে, শত বছরের সাচিয়া বাজার টিকে থাকলে শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে, তাই দ্রুত ভাঙন রোধ করা জরুরি।
আরও পড়ুন: চারঘাট সিমান্তে বিজিবির অভিযানে মদ, ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজা জব্দ
এমন নিঃস্ব হওয়ার গল্পের শেষ নেই নদীপাড়ের মানুষের।
প্রতিবছরই ভাঙছে। জনপদ গিলে খাচ্ছে মধুমতী নদী।
এভাবে চলে আসছে প্রায় চার দশক ধরে।
গত ১০ আগস্ট নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে অন্তত সাতটি দোকান ও বসতঘর।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে কঁচা নদীতে অভিযান, ৫ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল জব্দ
শুধু সাত দোকান-বসতভিটা নিয়েই ক্ষ্যান্ত হওয়ার লক্ষণ নেই পিরোজপুরের নাজিরপুরের মধুমতী নদীর।
শতবর্ষী সাচিয়া বাজার ও এর আশপাশের এলাকার বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে নদীটির ভাঙনে।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মধুমতীর তীব্র স্রোতে এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন।
এছাড়া সাচিয়া বাজারের মসজিদ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
যেকোনো সময় এসব স্থাপনা নদীতে বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী জানায়, ভাঙনের ফলে এলাকার অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
সহায়-সম্বলসহ ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কিছু পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ভাড়া বাসায় উঠেছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে নিখোঁজ ভারসাম্যহীন বিধবার মরদেহ উদ্ধার
নদীপারের মানুষের হাহাকার ও আতঙ্কে পুরো এলাকায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়দের দাবী, অস্থায়ী জিও ব্যাগ ফেলে এই ভয়াবহ নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়।
মধুমতী নদীর হাত থেকে সাচিয়া বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং বসতভিটা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, আমাদের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: এমপি খোকন
তবে ব্লক বা বেড়িবাঁধের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ।
আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন