০২:০৩ পি.এম
বর্ষার শুরুতেই মুন্সীগঞ্জে নৌকা তৈরির মৌসুম জমে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করার ফলে স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নৌকার চাহিদা। এর ফলে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কাঠমিস্ত্রীরা। হাতুড়ি, করাত এবং বাটালির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে ইছাপুরার নৌকা পল্লী।
মুন্সীগঞ্জ নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে জেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় খাল-বিল ও জলাবদ্ধ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে নৌকাই হয়ে ওঠে যাতায়াতের প্রধান ভরসা। এই চাহিদার উপর ভিত্তি করে সদর উপজেলার ইছাপুরা এলাকায় মৌসুমভিত্তিক নৌকা তৈরির শিল্প গড়ে উঠেছে। এটি প্রায় ছয় মাস ধরে চলে এবং বর্তমানে এলাকাটি নৌকা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কারিগররা জানান, কড়ি ও চাম্পল কাঠ ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যের নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠ কাটার কাজ, আগুনের তাপে বাঁকানো, পেরেক লাগান, আলকাতরা দিয়ে পানি নিরোধক তৈরির কাজ এবং রং করার পর নৌকাগুলো বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। একটি নৌকা তৈরি করতে সাধারণত দুই থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে।
আরও পড়ুন: ফের খুলনায় গুলিতে যুবক নিহত, ঘটনাস্থলে নম্বরপ্লেটবিহীন আর-১৫ বাইক
ইছাপুরা এলাকার নৌকা তৈরির মিস্ত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা শুরু হলেই কাজ বেড়ে যায় এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নৌকা বানাতে হয়। এই কয়েক মাসের আয় দিয়েই সারা বছরের সংসার চালানোর চেষ্টা চলমান।
স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল চক্রবর্তী বলেন, আগে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে নৌকা ছিল। যদিও বর্তমানে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে, বর্ষা এলেই নৌকার প্রয়োজন হয়। স্কুল-কলেজে যাতায়াত, বাজার করা কিংবা রোগী হাসপাতালে নেয়া সব কাজে নৌকা লাগে।
মুন্সীগঞ্জ জেলার আয়তন ৯৫৪ দশমিক ৯৬ বর্গকিলোমিটার এবং বর্ষা মৌসুমে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তাই প্রতিবছরই নৌকার চাহিদা বাড়ে। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
বিসিক মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, নৌকা নির্মাণ মুন্সীগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র শিল্প। এই খাতের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, ঋণ এবং বাজার সম্প্রসারণে বিসিক কাজ করছে। ভবিষ্যতেও সকল ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার মাহমুদ স্বাধীন বহিষ্কার
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ১২ থেকে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যের কড়ি এবং চাম্পল কাঠের তৈরি একটি নৌকা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায়। এখানে প্রতি দিন প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৩০টি নৌকা তৈরি হচ্ছে। পরে সেগুলো ট্রলির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাঠানো হয়।
বর্ষা এলেই মুন্সীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। সেই চাহিদা পূরণে এখানকার কারিগররা প্রতিদিন অন্তত ৩০টি নৌকা তৈরি করছেন। এসব নৌকা শুধুমাত্র স্থানীয় বাজারে নয়, জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে, বর্ষা মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম নিশ্চিত করছে এবং শতাধিক কারিগরের জীবিকা সচল রাখছে এই নৌকা শিল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন