বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৪৯ পি.এম
জনস্বার্থে সরকার বাংলাদেশ পুলিশের ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং ১১ জন অতিরিক্ত ডিআইজি সমমর্যাদার কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধানের ভিত্তিতে জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—ডিআইজি, হাইওয়ে পুলিশ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকী; অতিরিক্ত ডিআইজি, সিআইডি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন; অতিরিক্ত ডিআইজি, ট্যুরিস্ট পুলিশ বিধান ত্রিপুরা; অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকা ड. একেএম ইকবাল হোসেন; ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদা, রাজশাহী মো. ওয়ালিদ হোসেন; অতিরিক্ত ডিআইজি, এপিবিএন সহেলী ফেরদৌস; অতিরিক্ত ডিআইজি, সিআইডি রেবেকা সুলতানা; অতিরিক্ত ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদা, রাজশাহী মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ; উপপুলিশ কমিশনার, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মো. হাবিবুর রহমান; অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ টেলিকম, ঢাকা হাসিনা রহমান; অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর (টিআর), বর্তমানে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে সংযুক্ত ফয়সল মাহমুদ; অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর কানিজ ফাতেমা; অতিরিক্ত ডিআইজি, ট্যুরিস্ট পুলিশ সুলতানা নাজমা হোসেন; অতিরিক্ত ডিআইজি, নৌ পুলিশ জেসমিন বেগম; পুলিশ সুপার, টিডিএস, ঢাকা আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী; ডিআইজি, সিআইডি সানা শামীনুর রহমান এবং ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন। উল্লেখ করা হয় যে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ৫ জুলাই সরকার ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে (১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ১ জন এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।
গত ৩ মে ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এবং ২২ এপ্রিল একই বিধানে ১১ জন ডিআইজি ও দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়ালী চাটখিল উপজেলার মামলায় ভাতিজার পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচী জেসমিন আক্তারের (২৫) বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ। তবে, এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জাদপাড়ার বাদশা মিয়া বেপারী বাড়িতে।
আহত জুয়েল, কামাল হোসেনের ছেলে, ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনেরা তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে, তার অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, জুয়েল দীর্ঘ ১১ বছর ওমানে অবস্থান করছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি দেশে ফিরেছেন। প্রবাসে থাকাকালীন পারিবারিক মোবাইল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি চাচী জেসমিনের মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এভাবে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দেশে ফেরার পর পরিবারের অগোচরে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কিন্তু, জুয়েল দেশে ফিরে আসার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের জন্য পাত্রী ঠিক করা হয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে, জুয়েল চাচীর ঘরে গেলে জেসমিন তার পুরুষাঙ্গ কেটে পালিয়ে যান।
এই ঘটনার সম্বন্ধে জানতে জেসমিন আক্তারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ওসি মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ভুক্তভোগীর এক স্বজন থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও এরপর তিনি থানায় আর আসেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও ২ শিশু বেড়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, গত একদিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গে সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও তার উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও হাম আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে আরও ৮৪৮ জনের শরীরে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ১৭ বছর পরে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ পুরুষ দল। ঐতিহাসিক লর্ডসে আগামী ২৭ মে থেকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। এই তথ্যটি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত সূচি থেকে উঠে এসেছে।
পুরুষ দলের সঙ্গে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ নারী দলও ইংল্যান্ড সফর করবে। সফরের শেষ অংশে ইংলিশ নারীদের বিরুদ্ধে ৩টি টি-টোয়েন্টি এবং ৩টি ওয়ানডে ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অংশ নেবে টাইগ্রেসরা।
ইসিবি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ড বলেন, "আমরা লর্ডসে একটি একক টেস্ট ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ পুরুষ দলকে স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত।"
তিনি আরও বলেন, "২০১০ সালের পর এবারই প্রথম তারা আমাদের ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে আসছে।" একই সঙ্গে বাংলাদেশ নারী দলকে একটি সীমিত ওভারের সিরিজে আতিথ্য জানাতে পেরে তারা আনন্দিত।
বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড দলের মধ্যকার সিরিজের সময়সূচী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের কাছ থেকে উঠে এসেছে।
সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নবীপুর এলাকায় মোট ১১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘরের অধিকাংশই প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিজেদের এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও প্রকাশ পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলোর একটি বড় অংশ পরে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ঘর বিক্রি হয়ে গেছে এবং অন্তত ৪০টি ঘর ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এতে আশ্রয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
এছাড়া প্রকল্পের ৩০ থেকে ৪০টি ঘরে নিয়মিত মাদক বেচাকেনা, মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তবে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এ বিষয়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তিরা এই কার্যক্রম থেকে নিয়মিত কমিশন পান।
আশ্রয়ন প্রকল্প কমিটির সভাপতি জজ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জহির মিয়া এ বিষয়ে জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও ঘর বিক্রি-ভাড়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হয়।
তারা আরও বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে, তবুও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, উল্টো মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে অভিযোগদাতাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এ ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং আশ্রয়ন প্রকল্পকে প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য পুনর্বিন্যাসের দাবি করেছেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ঘর বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের নামে সরকারি বরাদ্দ নেই, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যদি কেউ অবৈধভাবে ঘর বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে থাকে, তবে তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের কাছে ঘর হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ