০৯:৫৬ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছিলেন, দেশের প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের অপচয় রোধ করা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশজুড়ে দুই হাজারস্বল্প হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত কৃষি খাত নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়টিকে তুলে ধরেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের বড় হিমাগারগুলো কৃষকের ফসলি জমি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত অবস্থায় থাকায় প্রান্তিক কৃষকরা এগুলোর সুফল গ্রহণ করতে পারছেন না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য কৃষকের ঘরের নিকটে বা মাঠের পাশে ছোট ক্ষুদ্র হিমাগার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত
প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, হিমাগারগুলো সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎচালিত হবে এবং প্রতিটি হিমাগার পরিচালনার জন্য স্থানীয় ২০ জন কৃষকের সমন্বয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কাজ বা পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং পরিবহন খরচ ও ফসলের অপচয় প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।
একই অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনশীলতার গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক পরামর্শ দিয়েছে যে, ঢালাও রাসায়নিক সার ভর্তুকি কমিয়ে কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে স্মার্ট বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম উল্লেখ করেন, বর্তমানে কৃষি বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই সারের ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে, যার বড় অংশই ধনী কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে আধুনিক সেচ ও গবেষণা খাতের মতো জরুরি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সেচের নলকূপগুলোকে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা হচ্ছে, যা মৌসুম শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। মাটির অম্লতা ঠিক করার মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বর
অনুষ্ঠানে সানেম ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন চালের পরিবর্তে ফলমূল, শাকসবজি ও প্রোটিনজাত খাবারের চাহিদা বাড়ছে। প্যানেল আলোচনায় বক্তারা মত দেন যে, বর্তমান ভর্তুকি নীতি কৃষির বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়। তাই স্বল্পমেয়াদে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষিকে প্রযুক্তি-নির্ভর ও বহুমুখী করার ওপর বিশেষজ্ঞগণ জোর দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন