সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৫ পি.এম
পাবনার ঈশ্বরদীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যা সরকারের আশ্রয়ণ নীতিমালার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয় না। গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এসব ঘর, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এসব ঘরের হস্তান্তরের সুযোগ নেই, তথাপি এই কার্যক্রম চলছে প্রকাশ্যে।
মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রকল্পের ২০৮টি নতুন বাড়ির মধ্যে অর্ধেকের বেশি বরাদ্দপ্রাপ্তরা সেখানে বসবাস করছেন না। গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত এসব ঘর ৪০-৮০ হাজার টাকায় হাত বদল হচ্ছে। এমনকি একটি ঘর একাধিকবার বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জামায়াত নেতার নির্দেশে একটি সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য পরিচালনা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্ট্যাম্পের মাধ্যমে শতাধিক বাড়ি হস্তান্তরিত হয়েছে। প্রতিটি ঘর বিক্রির টাকার বেশির ভাগ অংশ স্থানীয় সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা জামায়াতের আইন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ মেম্বারের নির্দেশে এসব লেনদেন হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি রাজিব হোসেন এবং মহিলা নেত্রী পাপিয়া সুলতানা ওরফে পলি এই কার্যক্রমে জড়িত।
এক বাসিন্দা অনিক হোসেন জানিয়েছেন, আকলিমা খাতুন নামে এক বাসিন্দা মৃত্যুর পর তিনি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘরটি কিনেছেন এবং জমির দলিলও পেয়েছেন। চায়না বেগম নামে আরেক ক্রেতা জানিয়েছেন, তিনি তার নিকটাত্মীয় তরিকুল ইসলামের ঘর কিনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এজন্য তাকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। নুর ইসলাম নামের একজন ৬০ হাজার টাকায় জান্নাত আরা নামে এক বাসিন্দার ঘর কিনেছেন। প্রকল্পের শতাধিক ঘর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে, যার ১০-২০ শতাংশ টাকা প্রকৃত মালিকরা পেয়েছেন এবং বাকি টাকা সিন্ডিকেটের পেটে গেছে।
সিন্ডিকেটের নারী নেত্রী পাপিয়া সুলতানা পলি গোপন পরিচয়ে জানিয়েছেন, তিনি বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছ থেকে তিনটি ঘর কিনেছেন। তিনি প্রতিবেদককে আশ্বাস দেন যে, ৫০-৬০ হাজার টাকায় একটি ঘর পাইয়ে দিতে পারবেন। তিনি জানান, তারা প্রায় শতাধিক ঘর বন্দোবস্ত করেছেন এবং কোনো সমস্যা হয়নি।
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য রাজিব হোসেনও ঘর হাতবদলের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঝর্ণা, আঞ্জুয়ারা, রুমা, মরজিনা, জাহিদা, সাথী আক্তারসহ আরও ১০-১৫ জন বাসিন্দা ইতিমধ্যে তাদের ঘর ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, চাইলে সেখানে একটি ঘর বন্দোবস্ত করে দেবেন, বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।
তবে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা হাফিজ মেম্বার ঘর বেচাকেনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি একাধিক নয়, প্রকল্পের একটি ফাঁকা ঘর স্থানীয় টুটুল নামে এক ব্যক্তিকে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে তিনি কোনো আর্থিক লেনদেন করেননি। তার বক্তব্য, কথিত সিন্ডিকেট তার নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এদিকে, আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। রাস্তায় কাঁদাপানি জমে থাকায় চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে প্রকল্প এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত, মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসবাস অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন সরকার জানিয়েছেন, আশ্রয়ন প্রকল্পে অধিকাংশ প্রকৃত বাসিন্দা না থাকায় ঘরগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে না। কিছু জায়গায় কাঁদা পানি জমেছে এবং সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। যারা নীতি ভঙ্গ করে ঘরের দখল বিক্রি করেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় দলিল বাতিল সম্পন্ন হলে ঘরগুলোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, যেসব ক্রেতা হাত বদল করে এসব ঘর নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ভূমিহীন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে যারা মধ্যস্থতাকারী এবং অনৈতিক লেনদেনের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্ষেতলাল বন বিভাগ অফিসের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সংস্কারের অভাবে অফিস এবং কর্মকর্তাদের আবাসস্থলগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, বন বিভাগের চারা উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। ফলে, চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চারা সরবরাহ করতে পারছে না তারা।
১৯৮০ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর বন বিভাগ অফিসটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে, সংস্কারের অভাবে মূল অফিসসহ অন্যান্য ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশপথের মূল ফটক আগাছায় আবৃত। অফিসের ভেতরে প্রবেশ করলে দু-একটি প্রজাতির ছোট ছোট পরিত্যক্ত চারা ও আগাছা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান দাবি করেন, বন বিভাগ বছরে প্রায় ৪০ হাজার বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ওষধি চারা বিতরণ করে সরকারি নির্দেশে।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্প বনায়নের জন্য যে চারার চাহিদা রয়েছে, তা পূরণে বন কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি থেকে স্বল্পমূল্যের নিম্নমানের চারা সংগ্রহ করে চাহিদা পূরণ দেখান। সম্প্রতি, স্থানীয় সরকার বিভাগের গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষেতলাল বন বিভাগ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিন্যাসকৃত গাছের চারার চাহিদার ১ শতাংশও পূরণ করতে পারেনি। কাগজে-কলমে বন বিভাগ ৪ হাজার ৫টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিতরণ করার দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
বন বিভাগের বেডে যে কয়টি চারা দেখা গেছে, সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে নতুন রাস্তা নির্মাণ বা খাল খনন করা হলে গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই চারা বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। যদি এখান থেকে পাওয়া যেত, তাহলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচত। ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলসীগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধে ২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যার সব চারাই বাইর থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখার পূর্বে যুগান্তর প্রতিনিধি ক্ষেতলাল বন কর্মকর্তা অফিসে তিন দিন গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। পরে বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান মুঠোফোনে জানান, তিনি পাশের কালাই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেতলাল বন বিভাগ থেকে এ বছর পাঁচ হাজার ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে আরও তিন হাজার চারা বেডে রয়েছে। এ বছর ৩০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে উপযোগী মাটি না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। তিনি জানান, পরিবারসহ বসবাসের কথা থাকলেও ভবনগুলো অনুপযোগী হওয়ায় কেউ সেখানে থাকতে পারছেন না। তবে বন বিভাগের মালী আব্দুর রাজ্জাক ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। তাঁরা আক্ষেপ করে জানান, বন কর্মকর্তাদের নিজস্ব কোনো কার্যালয় না থাকায় মালীদের ঝুপড়ি ব্যারাকে বসেই নিয়মিত অফিস করতে হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ক্ষেতলাল উপজেলার সব দপ্তর স্পর্শ করলেও বন বিভাগ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, বন বিভাগের ভবনের বেহাল দশা সম্পর্কে তিনি অবগত। বন কর্মকর্তা এখানেসহ চারটি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সময় গড়িয়ে এক বছর পার হলেও প্রিয় সহকর্মীর আকস্মিক বিদায়ের ক্ষত আজও তাজা বরিশালের গণমাধ্যম কর্মীদের হৃদয়ে। বিপদ-আপদে সহকর্মীদের পাশে ছুটে যাওয়া, তরুণ সাংবাদিকদের হাত ধরে পথ দেখানো আর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সবাইকে মাতিয়ে রাখা সেই মুখটি আজ শুধুই স্মৃতি। তরুণ সাংবাদিকদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক, ‘দৈনিক কালবেলা’র বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান আরিফিন তুষারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নগরীর সদর রোডস্থ হাবিব ভবনে নিজ কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে অকালেই থেমে যায় তাঁর কর্মমুখর জীবন। তাঁর এই হঠাৎ বিদায়ে সেদিন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পুরো বরিশাল অঞ্চলের সাংবাদিক অঙ্গনে।
আরিফিন তুষারের প্রয়াণদিবসে সহকর্মীরা স্মৃতিকাতর হয়ে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন। তাদের মতে, আরিফিন তুষার কেবল একজন সংবাদকর্মীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন তরুণ লেখকদের অভিভাবকতুল্য। পেশাগত বা ব্যক্তিগত—যেকোনো সংকটে নিজের স্বার্থ ভুলে সহকর্মীদের সহযোগিতায় সবার আগে এগিয়ে আসতেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বরিশাল প্রেসক্লাবে নতুন ও সহযোগী সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াতেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনেও ছিল তাঁর বলিষ্ঠ পদচারণা। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। এছাড়া ‘বার্তা সম্পাদক ফোরাম, বরিশাল’-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সদস্য হিসেবে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আরিফিন তুষারের পেশাগত জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। ২০০৮ সালে ‘দৈনিক আজকের পরিবর্তন’ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। এরপর ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর চিফ রিপোর্টার, ২০১৪ সালে ‘দৈনিক বরিশালের ভোরের আলো’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে ‘দৈনিক দখিনের মুখ’-এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ‘ঢাকা টাইমস’ এবং সর্বশেষ ‘দৈনিক কালবেলা’র বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে যান তিনি।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আরিফিন তুষারের গ্রামের বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নে পরিবার ও ‘বার্তা সম্পাদক ফোরাম, বরিশাল’-এর যৌথ উদ্যোগে স্মারক আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সহকর্মী, অভিভাবক কিংবা প্রাণের বন্ধু—সব পরিচয়েই আরিফিন তুষার রেখে গেছেন এক অপূরণীয় শূন্যতা। সময়ের নিয়মে দিন গড়ালেও তাঁর কাজ, সহকর্মীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বরিশালবাসীর স্মৃতিতে তাঁকে চিরকাল জীবিত রাখবে।
তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘খবর বরিশাল’-এর সম্পাদক এইচ আর হীরা বলেন, “কর্মে ও স্মৃতিতে চিরজীবী হয়ে থাকুন আরিফিন তুষার। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—আমীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বর্জন করে নিজ হাতে তৈরি বাঁশ, বেত ও প্লুনজাতীয় কুটির শিল্পের পণ্য ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বান্দরবান জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিল্টন মুহুরী।
তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে তৈরি কুটির শিল্পের পণ্য শুধু তাদের জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশীয় এসব শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলার থানচি উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সত্যজিৎ মজুমদার, থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম এবং উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারভাইজার মো. আমীর হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নিজেদের তৈরি পণ্য ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা গেলে একদিকে যেমন দেশীয় কুটির শিল্প রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার জন্য নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী ২৯ অক্টোবর ২০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে ঢাকায় শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ)-২০২৬’।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
আজ রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিটিএফ ২০২৬-এর বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন আয়োজকেরা। এতে সভাপতিত্ব করেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
টোয়াব আয়োজিত এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। পর্যটন খাতের বিকাশ, নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই মেলার মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানান।
এবারের মেলায় পর্যটন খাতের ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল থাকবে। এতে ২২০টির বেশি এক্সিবিটর, ২৫০ জনের বেশি কোয়ালিফায়েড বায়ার এবং আড়াই হাজারের বেশি ট্রেড ভিজিটর অংশ নেবেন।
মেলায় ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা অংশ নেবে।
তারা আরও জানান, এবারের মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও ফিলিপাইনের অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ আরও বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি অংশ নেবে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।
মেলায় সার্বিক সহযোগিতা করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
এ ছাড়া প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট। পিআর পার্টনার ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০ আইসিটি এবং ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস।
আয়োজকেরা বলছেন, ১৩ বারের বেশি সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন বাজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ মেলা।
বিটিটিএফ ২০২৬-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোর আন্তর্জাতিক প্রচার আরও বাড়বে, নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ