প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্ষেতলাল বন বিভাগ অফিসের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সংস্কারের অভাবে অফিস এবং কর্মকর্তাদের আবাসস্থলগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, বন বিভাগের চারা উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। ফলে, চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চারা সরবরাহ করতে পারছে না তারা।
১৯৮০ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর বন বিভাগ অফিসটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে, সংস্কারের অভাবে মূল অফিসসহ অন্যান্য ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশপথের মূল ফটক আগাছায় আবৃত। অফিসের ভেতরে প্রবেশ করলে দু-একটি প্রজাতির ছোট ছোট পরিত্যক্ত চারা ও আগাছা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান দাবি করেন, বন বিভাগ বছরে প্রায় ৪০ হাজার বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ওষধি চারা বিতরণ করে সরকারি নির্দেশে।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্প বনায়নের জন্য যে চারার চাহিদা রয়েছে, তা পূরণে বন কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি থেকে স্বল্পমূল্যের নিম্নমানের চারা সংগ্রহ করে চাহিদা পূরণ দেখান। সম্প্রতি, স্থানীয় সরকার বিভাগের গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষেতলাল বন বিভাগ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিন্যাসকৃত গাছের চারার চাহিদার ১ শতাংশও পূরণ করতে পারেনি। কাগজে-কলমে বন বিভাগ ৪ হাজার ৫টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিতরণ করার দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
বন বিভাগের বেডে যে কয়টি চারা দেখা গেছে, সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে নতুন রাস্তা নির্মাণ বা খাল খনন করা হলে গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই চারা বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। যদি এখান থেকে পাওয়া যেত, তাহলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচত। ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলসীগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধে ২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যার সব চারাই বাইর থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখার পূর্বে যুগান্তর প্রতিনিধি ক্ষেতলাল বন কর্মকর্তা অফিসে তিন দিন গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। পরে বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান মুঠোফোনে জানান, তিনি পাশের কালাই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেতলাল বন বিভাগ থেকে এ বছর পাঁচ হাজার ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে আরও তিন হাজার চারা বেডে রয়েছে। এ বছর ৩০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে উপযোগী মাটি না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। তিনি জানান, পরিবারসহ বসবাসের কথা থাকলেও ভবনগুলো অনুপযোগী হওয়ায় কেউ সেখানে থাকতে পারছেন না। তবে বন বিভাগের মালী আব্দুর রাজ্জাক ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। তাঁরা আক্ষেপ করে জানান, বন কর্মকর্তাদের নিজস্ব কোনো কার্যালয় না থাকায় মালীদের ঝুপড়ি ব্যারাকে বসেই নিয়মিত অফিস করতে হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ক্ষেতলাল উপজেলার সব দপ্তর স্পর্শ করলেও বন বিভাগ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, বন বিভাগের ভবনের বেহাল দশা সম্পর্কে তিনি অবগত। বন কর্মকর্তা এখানেসহ চারটি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন