ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধামরাইয়ের আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


ধামরাইয়ের আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর খাবারে বিষক্রিয়ার ধারণা উঠে এসেছিল। সেই কারণে মামলাটি অপমৃত্যুর দায়ে রুজু করা হয়েছিল। তবে একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে খটকা লাগে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়। বর্তমানে নারগিসের মেয়ের স্বামী মো. রবিন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মো. রবিন (২২) বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান অভিযোগপত্র ঢাকার আদালতে দাখিল করেছেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটরের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেয়ার কারণে রবিনের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায় এবং এটি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতেই এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন। মূলত একটি জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরো ব্যাপারটি উন্মোচিত হয়।

২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নারগিস (৪২) এবং তার দুই সন্তান মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয় তাদের ঘর থেকে।

নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার সেসময় জানিয়েছিলেন যে, তার মা ও ভাইদের মরদেহ ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা ছিল। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল খাবারে বিষক্রিয়া মৃত্যু ঘটিয়েছে। আবার অভিযোগ করা হয়েছিল যে, সম্পত্তির বিরোধের কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ প্রথমে খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে অপমৃত্যুর মামলা নেয়। পরবর্তীতে দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ঢাকা জেলার পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

তদন্ত শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রশাসকের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে মনজুর রহমান জানতে পারেন যে, সেদিন রবিন তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ নারগিসের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন প্রশ্ন ওঠে যে, একটি খাবার খেয়ে কেউ মারা গেল, আর কেউ কেন বেঁচে রইল?

মনজুর রহমান বলেন, শুরু থেকে বিষক্রিয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। দেওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় জমা করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা রাতে খাওয়ার পর রবিন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তবে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন, যার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি প্রমাণ হতে যাচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রবিন কখনোই শাশুড়িকে হিসাব দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসা বিক্রি করে দেন। এই কারণে রবিন ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। আরো কিছুদিন পর তিনি শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রবিনের শাশুড়ির প্রতি ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়ে। তিনি রাতের খাবারের পর স্ত্রীর সঙ্গে বাড়িতে ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝে মাঝে ব্যবসার বিষয়ে তার বড় শ্যালক শামীমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ঘটতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবাই তার গায়ে ক্ষোভ প্রবাহিত হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করে আসছিলেন। এই বিরোধ থেকে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেয়ার পর তাকে হত্যা করেন শাশুড়ির প্রতি প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে।

রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করেন। তারপর একইভাবে নারগিস ও সোলাইমানকেও হত্যা করেন। তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দেন, যাতে মনে হয় তারা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোরের চারটার দিকে নিজের বাড়িতে চলে যান।

আরও পড়ুন: বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ

রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তাগণ দুটি বালিশ ও তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন।

শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব রবিনের গ্রাম থেকে খুব বেশি নয়; মাঝে আছে দুটি গ্রাম। তার জন্য সহজেই যেতে পারার সুযোগ ছিল।

মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর রবিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্পগুলো বলাতে থাকেন। তিনি শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করে।

নাসরিন আক্তার এখনও সন্দিহান যে, স্বামী রবিনই কি তার মা ও ভাইদের হত্যা করেছে। নাসরিন গণমাধ্যমকে বলেন, রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, আমি এ ব্যাপারে বিশ্বাস করি না। সে পুলিশ ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল প্রাণ

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসা নিয়ে তাঁর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে স্বামীর দ্বন্দ্ব ছিল। নাসরিন বলেন, এ কারণেই তার মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন রবিনকে শুরু থেকেই নির্দোষ দাবি করে আসছেন। কিন্তু তদন্ত ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

মামলাটি নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ দায়ের করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনির কাছে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু সে (রবিন) আমার বোন এবং ভাগ্নেকে খুন করে ফেলেছে।

এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে বলেন, একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির ১২ নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির ১২ নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ১২ নেতা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পাওয়ার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলম, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

আরও যারা শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন তাদের মধ্যে বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটো, দলের ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউজিটি) চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী।

যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মো. মামুন হাসান, সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন সরকার।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সুরুজ, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, আর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলালও এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের প্রাদুর্ভাবে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, ভাঙল ৩৫ বছরের রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


হামের প্রাদুর্ভাবে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, ভাঙল ৩৫ বছরের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে হাম (মিজলস) সংক্রমণের হার ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ হওয়ার আগেই এই সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিডিসির প্রকাশিত সর্বশেষ (শুক্রবার) তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের সংক্রমণের এই সংখ্যা ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের বড় প্রাদুর্ভাবের পর এক বছরে সর্বোচ্চ। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয় এবং ১২৩ জনের মৃত্যু ঘটে।

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক উইলিয়াম মস বলেন, “এই রেকর্ডটি আরও উদ্বেগজনক, কারণ এখনও মাত্র জুলাই মাস চলছে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণের বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ শিশুদের টিকাদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা গ্রহণের হার কমতে শুরু করে। এদিকে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ও সন্দেহও পরিস্থিতিকে আরও জটিল বলে মনে হচ্ছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের টিকাবিরোধী অবস্থান এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এমন দাবি প্রচারের ফলে জনগণের মধ্যে টিকা সম্পর্কে আস্থার সংকট আরও বেড়েছে।

সিডিসির জানিয়েছে, ২৩ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া আক্রান্তদের ৬৯ শতাংশই নবজাতক থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অংশ প্রায় ২০ শতাংশ।

সংক্রমিত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ৩ শতাংশ।

চলতি বছরে হাম রোগের কারণে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও গুরুতর ক্ষেত্রে হাম প্রাণঘাতী হতে পারে, তথাপি ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর এ রোগে নতুন কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

গত বছরের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরজুড়েযুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৯ জন। অর্থাৎ, চলতি বছরের মাত্র সাত মাসেই সেই সংখ্যাকে ২৯ জন ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছর হামে আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যার মধ্যে মৃত্যু হয় তিনজনের।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও চিকিৎসকদের মতে, এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা।

সিডিসি জানিয়েছে, দুটি ডোজ এমএমআর টিকা গ্রহণ করলে হাম প্রতিরোধে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭ শতাংশ।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে টিকাদানের গড় হার নেমে এসেছে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা গ্রহণ করা আবশ্যক, যাতে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

বর্তমানে অন্তত ১৬টি অঙ্গরাজ্যে টিকাদানের হার ৯০ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের অনেকগুলোতেই চলতি বছরে হামের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং টিকাবিরোধী প্রচারণা টিকাদানের হার কমিয়ে দিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বহুবার দাবি করেছেন, হামের টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন দাবির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত জুনে তিনি সিডিসির টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সব সদস্যকে বরখাস্ত করেন। এই কমিটি যুক্তরাষ্ট্রে কোন টিকা কীভাবে এবং কাদের দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে সরকারকে সুপারিশ করে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেসিন বলেন, “গত বছরের শুরু থেকেই ফেডারেল নেতৃত্ব হামকে তেমন গুরুতর নয় বলে উপস্থাপন করছে এবং এমএমআর টিকা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, “২০২৬ সালের অর্ধেক সময় পার হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব ছিল এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন শিশুরা।”

সিডিসির তথ্যমতে, চলতি বছরের আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই আগে কোনও এমএমআর টিকা নেয়নি। বাকিদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ব্যক্তি সংক্রমণের আগে এক বা দুই ডোজ টিকা নিয়েছিল।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মোট সংক্রমণের ৯৩ শতাংশই ৩৫টি পৃথক প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, উটাহ, অ্যারিজোনা, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে।

এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংক্রমণ বিদেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সাউথ ক্যারোলাইনার প্রাদুর্ভাবে প্রায় এক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে হামমুক্ত ঘোষণা করার পর এটিই সবচেয়ে বড় একক প্রাদুর্ভাব।

এই পরিস্থিতিতে দেশটির ‘হামমুক্ত’ মর্যাদা বহাল থাকবে কি না, তা এখন পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অরগানাইজেশন (পাহো) জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁর ছাত্রাবাস থেকে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


নওগাঁর ছাত্রাবাস থেকে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁ শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে ইমন (২৪) নামের নওগাঁ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে শহরের ভাঙ্গাবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার ‘জননী ছাত্রাবাস’ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ইমন, যিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার মাগুড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে, নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইমন জননী ছাত্রাবাসের ১০৯ নম্বর ডাবল রুমে একাই থাকতেন। শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কোনো সাড়া না পেয়ে শনিবার সকালে সাড়ে ৭টার দিকে তার মামা সরাসরি ছাত্রাবাসে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে বারবার দরজায় কড়া নাড়লেও ইমনের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর ছাত্রাবাসের অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় ঘরের ফ্যান ঝুলানোর রডের সঙ্গে ইমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশে খবর দেন।

সংবাদ পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ছাত্রাবাস থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। ঘটনার মূল কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা রুজু করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনফান্তিনো-ট্রাম্পের ঘটনায় তদন্তে যাচ্ছে না আইওসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


ইনফান্তিনো-ট্রাম্পের ঘটনায় তদন্তে যাচ্ছে না আইওসি

কোনো ফুটবল খেলোয়াড় লাল কার্ড পেলে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ থাকেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান বিশ্বকাপে বসনিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েও বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। এই ঘটনাটি ঘটে ফিফা যখন তার নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে দেয়।

ফিফা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেন, তখন নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয় ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে। এই বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি চাইলে পূর্বে আরোপিত কোনো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ফিফার এই ঘটনাতে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বেলজিয়ামও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। এরপর মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কোয়ার ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনীতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে বিষয়টির তদন্ত দাবি করে।

ইনফান্তিনো আইওসির একজন সদস্য। তবে সংস্থাটি জানায়, তারা এই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করবে না। আইওসির এক মুখপাত্র জানান, অভিযোগটি মূলত ফিফার সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত হওয়ায় আইওসির নৈতিকতা কমিশনের এ বিষয়টিতে তদন্ত করার এখতিয়ার নেই।

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আইওসি নৈতিকতা কমিশন ফেয়ারস্কোয়ারের অভিযোগটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন তাদের শাসনব্যবস্থা ও কার্যক্রমে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত। আন্তর্জাতিক ফেডারেশন এবং তাদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আইওসি নৈতিকতা বিধির প্রয়োগ কেবল আইওসির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘অভিযোগটি ফিফা সভাপতিকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের নিজস্ব শাসন, ব্যবস্থাপনা, সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজস্ব ক্রীড়া বিধির বাস্তবায়ন আইওসি নৈতিকতা বিধির আওতার বাইরে। এজন্য এই অভিযোগটি আইওসি নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ছে না। এ বিষয়ে ফেয়ারস্কোয়ারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%