মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরাকের কাছে ৮০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ কেন্দ্রিক বিখ্যাত সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বেল-টেক্সট্রন’ হবে মূল ঠিকাদার। চুক্তির মাধ্যমে ইরাককে বেল ৪১২ইপিএক্স এবং বেল ৪০৭এম মডেলের সামরিক হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীদারের নিরাপত্তা জোরদারে সরাসরি সহায়তা প্রদান করবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, এই সামরিক সরঞ্জাম ইরাকের সামরিক বাহিনীর বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে, দেশটির বিমান বাহিনীর রোটারি-উইং পরিবহন সুবিধা, নজরদারি এবং আকাশ থেকে স্থলভাগে হামলা বা নিশানা করার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রথমে দলটির নাম ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের এক পর্যায়ে ১৯৭৬ সালে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়েই তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
এর আগে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিকীকরণের উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগ দল) প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগদল বিলুপ্ত করে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বিএনপির যাত্রা শুরু করেন জিয়াউর রহমান। সেই সময় সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এটি ছিল বিএনপির প্রথম কমিটি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে দলটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল ডান, বাম ও মধ্যপন্থীদের সমন্বয়।
বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মতে, দলটি মূলত শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ, যাদু মিয়ার চীনপন্থি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি), মওলানা মতিনের লেবার পার্টি, তফসিলি ফেডারেশন, জাগদল, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পর্কহীন বা দলছুট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল।
বিএনপির প্রথম কমিটিতে অন্য যারা ছিলেন-
বিচারপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক ন্যাপ নেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, সাবেক মুসলিম লীগ নেতা শাহ আজিজুর রহমান, সাবেক ন্যাপ-ভাসানী নেতা ক্যাপ্টেন (অব) এ এস এম আবদুল হালিম চৌধুরী, পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী রসরাজ মণ্ডল, সাবেক ক্যাবিনেট ও খাদ্য সচিব আবদুল মোমেন খান, ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন আহমদ, ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মির্জা গোলাম হাফিজ, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ক্যাপ্টেন(অব) নুরুল হক, চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট এম সাইফুর রহমান, কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, শামসুল হুদা চৌধুরী, এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান মিন্টু, এস এ বারী এটি, ড. আমিনা রহমান, আবদুর রহমান, ডা. এম এ মতিন, আবদুল আলীম, ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নূর মোহাম্মদ খান, আবদুল করিম, শামসুল বারী, মজিবুর রহমান, ডা. ফরিদুল হুদা, শেখ আলী আশরাফ, আবদুর রহমান বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আবদুল হক, এমরান আলী সরকার, দেওয়ান সিরাজুল হক, এমদাদুর রহমান, এডভোকেট আফসার উদ্দিন, কবির চৌধুরী, এম আর খান, ক্যাপ্টেন (অব) সুজাত আলী, তুষার কান্তি বাড়ৈ, সুনীল কুমার গুপ্ত, রেজাউল বারী ডিনা, আনিসুর রহমান, আবুল কাসেম, মনসুর আলী সরকার, আবদুল হামিদ চৌধুরী, মনসুর আলী, শামসুল হক, সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ, জুলমত আলী খান, এ এফ এম নাজমুল হুদা, কাজী মাহবুব আহমেদ, আবু সাঈদ খান, মোহাম্মদ ইসমাইল, সিরাজুল হক মন্টু, শাহ বদরুল হক, আবদুর রউফ, মির্জা মোরাদুজ্জামান, এ এম জহিরুউদ্দিন খান, ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ চৌধুরী, শামসুল হুদা, সালেহ আহমেদ চৌধুরী, আফসার আহমেদ চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম, আনোয়ারুল হক চৌধুরী, মইনউদ্দিন খান, এম এ সাত্তার, হাজী জালাল উদ্দিন, আহমেদ আলী মণ্ডল, শাহেদ আলী, আবদুল ওয়াদুদ, শাহ আবদুল হালিম, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আতাউদ্দিন খান, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, আহমেদ আলী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাহেদ উর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটি বিস্তারিত ডেটা প্রকাশের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, "জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে।"
ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহে নীতিগত অগ্রাধিকার থাকে, কারণ এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু শহরে ক্ষমতাবান মানুষ বসবাস করেন বলে সেখানে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, এমন নীতি সরকার নেয়নি। সংকটের সময়ে সবাইকে এর কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে।"
আগামী সপ্তাহে অতীতের লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশের পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে সে সময় কতটা লোডশেডিং হয়েছে, তার তথ্য প্রকাশ করা হবে। ওই সময়ে কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে এবং এর কতটা গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপানো হয়েছিল, সেই তথ্যও তুলে ধরা হবে।
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে তিনি জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদাকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এ চাহিদা কম ছিল।"
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে।
সব মিলিয়ে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দেশে গ্যাসের সরবরাহ সপ্তাহখানেকের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক সংকটের ফল। তবে সরকার এই সংকটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
গ্যাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিজভী বলেন, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নির্ধারিত বাজেটের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয় করে গ্যাস সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি খালেদা জিয়ার আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, খালেদা জিয়া বহু নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের মা এবং গণতন্ত্রের প্রতীক।
রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ সুসংগঠিত। তিনি উল্লেখ করেন যে সংকট আসবে, তবে তা মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে খালেদা জিয়া তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেছেন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম একসময় প্রবল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান জনগণের কাছে যে অঙ্গীকারগুলো করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মহেশখালীতে থাকা টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে এবং সেই ত্রুটি সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলা করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।
রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে অঙ্গীকার ৩১ দফায় দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং খালেদা জিয়া যে কর্মসূচি দিয়ে গেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
দল ও সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। তাই সরকারের দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বিএনপির নেতা হওয়াটাই স্বাভাবিক। জনগণ যখন একটি দলকে ভোট দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন সেই দলের যোগ্য নেতা-কর্মীরাই রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।
রিজভী বলেন, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। এতে দল ও সরকারের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি বা বৈসাদৃশ্য নেই।
বিএনপির সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সরকারের যেসব মন্ত্রী বিএনপির নেতা, তারাও মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তাদের পদ ও সাংগঠনিক অবস্থান অনুযায়ী পালন করবেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ। আর ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে নতুন বেতনের পুরো সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। চার ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন স্কেল গত জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত মূল বেতন ও ভাতার সুবিধা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। এ স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে নতুন বেতন স্কেল চার ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে। এতে বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।
সবশেষে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, দশম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই তুলনামূলক বেশি বেতন যুক্ত হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে বাকি ২৫ শতাংশ যুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রেও ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।
২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা।
তবে বর্ধিত ২২ হাজার টাকা একবারে যোগ হবে না। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের আওতায় থাকায় তা তিন ধাপে যুক্ত হবে।
২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হবে।
তিন ধাপ শেষে ওই কর্মকর্তার মূল বেতন দাঁড়াবে ৪৪ হাজার টাকা। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা নির্ধারিত হবে।
তবে বাস্তবে একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন শুধু নতুন পে-স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। ফলে চাকরির মেয়াদ ও প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট অনুযায়ী একজন চাকরিজীবীর প্রকৃত মূল বেতন প্রারম্ভিক বেতনের চেয়ে বেশি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ