০৫:৩৯ পি.এম
ভারতের কলকাতার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে রোজিনা আক্তার। তার জীবন সেখানেই বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে সুখের মাঝে কাটছিল। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রোজিনার বাবা-মা, ভাইবোনসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বদলে যায় সবকিছু। যে চোখে এক সময় রোজিনা স্বপ্ন দেখত লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে, আজ সেই চোখেই ভয়, অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার ছাপ রয়ে গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করে। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা তিন দিন ধরে কাঁটাতারের ওপারে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এখনও বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
ফলে, সীমান্তসংলগ্ন জমিতে তারা তিন দিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কখনো প্রখর রোদে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, খাবার ও গোসলের সুযোগ ছাড়াই বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় মশালগাঁও সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর প্রতিবন্ধী ছোট ভাই এবং নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাকে নিয়ে রোজিনার কান্না যেন থামছেই না। সে দ্রুত বাড়ি ফিরতে চায়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজশাহীতে অফিসিয়াল ক্যাপ ও টিশার্ট উপহার
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এসের কাছে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। তারা বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে নেয় এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে যেখানে আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন অবস্থান করছিলেন। পরে তাদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের দাবি, ভারতীয় পুলিশের একটি গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে নেওয়ার পর একদিন সেখানে রাখা হয়। এরপর ৬ জুন রাতে সীমান্তের দিকে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার উপরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জাসাস এর নেতৃবৃন্দের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জাসাস নেতাকর্মী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন