ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
এমপি রায়হান সিরাজী

বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা হতাশাজনক


বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা হতাশাজনক

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব রায়হান সিরাজী মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিবছর তিস্তা নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার তাদের বাড়িঘর ও জমিজমা হারালেও চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এই বিষয়টি তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের দক্ষিণ পার্শ্বে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং এসব কথা বলেছেন।

এমপি রায়হান সিরাজী আরও জানান, 'আমরা আন্দোলনের কৃতিত্ব নিতে চাই না। সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করব।'

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

তিনি আরও বলেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আন্দোলনের মহানায়ক আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছি। তাই আমরা এখনো আশাবাদী।'

মানববন্ধনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল গণি, অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, মাওলানা নায়েবুজ্জামান, মাওলানা তাজ উদ্দিন, মাওলানা মমিনুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেই সময় তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইতি-ব্রাজিলের খেলা শুরুর পূর্বে কী বার্তা দিয়েছিল শাকিবের প্রযোজনা সংস্থা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


হাইতি-ব্রাজিলের খেলা শুরুর পূর্বে কী বার্তা দিয়েছিল শাকিবের প্রযোজনা সংস্থা?

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর গ্রুপ পর্বের খেলায় আজ শনিবার (২০ জুন) ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে হাইতির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। এই খেলা শুরুর পূর্বেই বিশেষ একটি বার্তা দেয় ঢালিউডের মেগাস্টার শাকিব খানের প্রযোজনা সংস্থা, যা হলো এসকে ফিল্ম।

শুক্রবার (১৯ জুন) শাকিব খানের প্রযোজনা সংস্থা, এসকে ফিল্ম, নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘বরবাদ’ সিনেমার দুটি ছবি আপলোড করে। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, শাকিব খান অভিনীত জনপ্রিয় চরিত্র ‘আরিয়ান মির্জা’ এবং তার দলের সদস্যদের।

ছবি দুটিতে শাকিব সাদা পোশাক পরিহিত, এবং পেছনে কালো পোশাক পরিহিত তার দলের সদস্যরা রয়েছেন। ছবিগুলোর মাঝে লেখা দেখা যাচ্ছে,

"হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল স্কোয়াডের মুড।"

এ ধরনের একটি লেখার পর, আগুনের প্রতীক যুক্ত করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। ছবিগুলোর ক্যাপশনে লেখা রয়েছে,

"হাইতির খবর আছে কইলাম!"

নায়কের প্রযোজনা সংস্থার এমন একটি পোস্ট দেখে ভক্তরা মন্তব্যের ঘরে মুখরোচক মন্তব্য করতে শুরু করেন। একজন ভক্ত লেখেন, ‘এইবার বুঝলে তো কিং খান মানে ব্রাজিল’। আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এই জিল্লু বল ডা দে!’

এক ভক্ত হিউমারের ছলে লেখেন, ‘ভাই, আপনি যে তলে তলে ব্রাজিল করেন, এইটা আমি অনেক আগে টের পাইছিলাম’।

এবং প্রসঙ্গ হিসেবে বলতে হয় যে, বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচটি ছিল মরক্কোর বিরুদ্ধে। ওই খেলায় ড্র হলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে এবার হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। আর এই শুভ সূচনা শাকিব খানের প্রযোজনা সংস্থা এসকে ফিল্ম আগে থেকেই আন্দাজ করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার ইসরাইলি হামলায় ৪৮ ঘণ্টায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


গাজার ইসরাইলি হামলায় ৪৮ ঘণ্টায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় ইসরাইলি হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে এবং ৪৩ জন আহত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত অক্টোবরে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও হামলা চলেছে বিরামহীন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১ হাজার ১২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২০৮ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা (ইউনিসেফ) জানায়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার পর থেকে গড়ে প্রতিদিন একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু ইসরাইলের হাতে নিহত হয়েছে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত অক্টোবর ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে এবং ৪০০ জনের বেশি শিশু আহত হয়েছে।

অক্টোবর মাস থেকে ইসরাইল তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে; চুক্তি অনুযায়ী যে ৫৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণের কথা ছিল, তার চেয়ে বেড়ে বর্তমানে গাজার ৬৪ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে।

গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজম জানিয়েছেন, গাজার পরিস্থিতি এখন অনেক কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ ইসরাইল এখনও এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার মাত্রা ও গতি দেখে মনে হচ্ছে তারা গাজার ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।

আজ শনিবার (২০ জুন) ভোরে গাজার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলা চালানো হয়েছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে একজন ফিলিস্তিনি বাবা এবং তার দুই মেয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া আক্রান্তের পর স্ত্রীও গুরুতর আঘাতের কারণে মারা গেছেন।

পাড়া-প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, হামলার আগে ইসরাইলিদের পক্ষ থেকে এলাকায় কোনও পূর্ব সতর্কতা দেওয়া হয়নি। এটি গাজাবাসীদের জন্য অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরির বর্তমান ইসরাইলি অভিযান কৌশলের প্রমাণ।

তারেক আবু আজম বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইসরাইল নির্দিষ্ট এলাকায় পরিকল্পিত হামলার আগে জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করছে। আবার কিছু এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

আঞ্চলিক দেশগুলোর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান বাড়লেও, ইসরাইল আরও বেশি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা তারা এসব আহ্বানকে উপেক্ষা করছে। বিশেষ করে যুদ্ধোত্তর যে কাঠামো ইসরাইলি সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে, তা তাদেরকে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা দিচ্ছে।

অধিকারিত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াফা নিউজ এজেন্সি ও আমাদের মাঠকর্মীদের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরাইলি বাহিনী গত রাতভর অভিযান চালিয়ে রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে দেইর আবু মিশাল এবং নাবলুসে পাঁচ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। দেইর আবু মিশালে চারজন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা হলেন ফুয়াদ আবু সামরা, সামহান মুস্তাফা, আবদুল্লাহ আল-তাহিয়া এবং হাসান গারিব। নাবলুসে জাবাল ফাতায়ের এলাকায় একাধিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দিয়া মুহাম্মদ ফাতায়ের নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইসরাইলি বাহিনী রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে আল-মুগায়েরের শেষ অবশিষ্ট প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি বেইত ফুরিক সমতলে কৃষকদের গম ফসল কাটতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ওই এলাকায় সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ শনিবার ভোরে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর থেকে এক যুবককে আটক করেছে। এদিকে, ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেটের জমি দখল করার ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, সোমবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনা ‘গুরুতর আগ্রাসন’। ইসরাইলি কর্মকর্তারা প্যাট্রিয়ার্কেটের প্রতিনিধিকে বাধ্যতামূলকভাবে তাড়িয়েছে, সরঞ্জাম জব্দ করেছে, গাছ উপড়ে ফেলেছে এবং এলাকাটি বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো আরও ৭ শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো আরও ৭ শিশুর

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ছয়জন মারা গেছে।

এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৭ জন। শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৮৪ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১০ হাজার ৯৪৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ঘটেছে ৩০৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৮৩ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। 

পশ্চিমবঙ্গে একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনি ফল প্রকাশের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস করলেও এত দ্রুত এই ধরনের বিপর্যয় ঘটবে, তা কেউই ধারণা করতে পারেননি। ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে থাকা এই দলটি মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে দলটির বেশির ভাগ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা ব্লক গঠন করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছেন। তারা কলকাতায় রাজ্য বিধানসভায় মূল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন।

অন্যদিকে, দিল্লিতে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভা এমপি স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে পুরোনো দল ছাড়া হওয়ার ঘোষণা করেছেন। তারা ‘এনসিপিআই’ নামের একটি দলে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে শাসক জোট এনডিএকে সমর্থন করছেন।

আর মূল দলটি কাগজে-কলমে মমতা ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা এখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল তিনটি কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

১. নির্বাচন-সর্বস্ব ও আদর্শহীন রাজনীতি

তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন আলোচনায় দেখা যায়, তাদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক দর্শন বা মতাদর্শ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি মূলত জনমোহিনী নীতি বা ‘পপুলিজম’-এর ওপর ভিত্তি করে চলেছিল। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সিপিআইএমকে হঠানো। ফলে, শুধু নির্বাচন জেতার উপরই তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা দলটির জন্য চড়া মূল্য ডেকে এনেছে।

৪ মে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর, দলটির নেতারা বুঝতে পারেন যে ভোটে হারার পর তাদের আঁকড়ে ধরার মতো কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। ভারতে কংগ্রেস, বিজেপি বা বামপন্থিদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগঠন থাকায় তারা ভোটে হারলেও টিকে থাকে। এমনকি বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী যখন নিষিদ্ধ ছিল, তখনো তারা আদর্শগত ভিত্তি দিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ফলে, ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনি কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে দলটিকে বিস্তৃত করতে না পারায় এটি সহজে ভেঙে গেছে।

২. ক্যাটালিস্টের ভূমিকায় বিজেপি

নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্বলতম মুহূর্তে বিজেপি তাকে আঘাত করার কোনো সুযোগ ছাড়েনি। এই দল ভাঙার পেছনে বিজেপির সক্রিয় মদত ছিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভাঙার আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং বিদ্রোহী এমপিরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আড়াল থেকে তদারক করেছেন বলে জানা গেছে।

বিজেপি চেয়েছে রাজপথের আন্দোলনকারী মমতার বদলে পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বিরোধী দল আসুক, যারা শুধু গঠনমূলক সমালোচনা করবে।

অন্যদিকে, দিল্লিতে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২৪০ আসন) না পাওয়ায় শরিকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ এমপিকে ভাঙিয়ে এনডিএর শক্তি ৩০০ পার করাই ছিল বিজেপির লক্ষ্য। তবে বিজেপি বিদ্রোহীদের নিজেদের দলে সরাসরি ঠাঁই দেয়নি।

৩. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্যাক্টর

তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা প্রায় প্রত্যেকেই দলের ভেতর দমবন্ধ পরিস্থিতির জন্য মমতার ভাইপো এবং অঘোষিত উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন। অভিষেক ‘কর্পোরেট কায়দায়’ দল পরিচালনা করতেন এবং নিজস্ব একটি ঘনিষ্ঠ বলয় তৈরি করে রাখতেন। এর ফলে তৃণমূলের নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বড় দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।

অভিষেক দলের ভেতর করপোরেট শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে আমজনতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। কয়েক বছর আগে তিনি ‘আই-প্যাক’ নামের একটি নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থাকে যুক্ত করেন। আই-প্যাকের বেতনভুক কর্মীরা কার্যত দলটিকে হাইজ্যাক করে নিয়েছিল এবং কে টিকিট পাবেন বা কে কী ভাষণ দেবেন, তা তাদেরই ঠিক করতে দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি অভিষেকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ক্ষুব্ধ নেতারা এখন তার দিকে আঙুল তোলে নিজেদের দলবদলকে জাস্টিফাই বা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%