ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস


যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। 

পশ্চিমবঙ্গে একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনি ফল প্রকাশের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস করলেও এত দ্রুত এই ধরনের বিপর্যয় ঘটবে, তা কেউই ধারণা করতে পারেননি। ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে থাকা এই দলটি মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে দলটির বেশির ভাগ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা ব্লক গঠন করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছেন। তারা কলকাতায় রাজ্য বিধানসভায় মূল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ব্রাজিল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ

অন্যদিকে, দিল্লিতে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভা এমপি স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে পুরোনো দল ছাড়া হওয়ার ঘোষণা করেছেন। তারা ‘এনসিপিআই’ নামের একটি দলে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে শাসক জোট এনডিএকে সমর্থন করছেন।

আর মূল দলটি কাগজে-কলমে মমতা ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা এখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল তিনটি কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

১. নির্বাচন-সর্বস্ব ও আদর্শহীন রাজনীতি

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে

তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন আলোচনায় দেখা যায়, তাদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক দর্শন বা মতাদর্শ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি মূলত জনমোহিনী নীতি বা ‘পপুলিজম’-এর ওপর ভিত্তি করে চলেছিল। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সিপিআইএমকে হঠানো। ফলে, শুধু নির্বাচন জেতার উপরই তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা দলটির জন্য চড়া মূল্য ডেকে এনেছে।

৪ মে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর, দলটির নেতারা বুঝতে পারেন যে ভোটে হারার পর তাদের আঁকড়ে ধরার মতো কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। ভারতে কংগ্রেস, বিজেপি বা বামপন্থিদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগঠন থাকায় তারা ভোটে হারলেও টিকে থাকে। এমনকি বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী যখন নিষিদ্ধ ছিল, তখনো তারা আদর্শগত ভিত্তি দিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ফলে, ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনি কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে দলটিকে বিস্তৃত করতে না পারায় এটি সহজে ভেঙে গেছে।

২. ক্যাটালিস্টের ভূমিকায় বিজেপি

নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্বলতম মুহূর্তে বিজেপি তাকে আঘাত করার কোনো সুযোগ ছাড়েনি। এই দল ভাঙার পেছনে বিজেপির সক্রিয় মদত ছিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভাঙার আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং বিদ্রোহী এমপিরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আড়াল থেকে তদারক করেছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে সামরিক আইনের মেয়াদ আরো ৯০ দিন বাড়ল

বিজেপি চেয়েছে রাজপথের আন্দোলনকারী মমতার বদলে পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বিরোধী দল আসুক, যারা শুধু গঠনমূলক সমালোচনা করবে।

অন্যদিকে, দিল্লিতে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২৪০ আসন) না পাওয়ায় শরিকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ এমপিকে ভাঙিয়ে এনডিএর শক্তি ৩০০ পার করাই ছিল বিজেপির লক্ষ্য। তবে বিজেপি বিদ্রোহীদের নিজেদের দলে সরাসরি ঠাঁই দেয়নি।

৩. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্যাক্টর

তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা প্রায় প্রত্যেকেই দলের ভেতর দমবন্ধ পরিস্থিতির জন্য মমতার ভাইপো এবং অঘোষিত উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন। অভিষেক ‘কর্পোরেট কায়দায়’ দল পরিচালনা করতেন এবং নিজস্ব একটি ঘনিষ্ঠ বলয় তৈরি করে রাখতেন। এর ফলে তৃণমূলের নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বড় দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: সাগর-রুনি হত্যা মামলায় আজ টাস্কফোর্স নিয়ে আদেশ

অভিষেক দলের ভেতর করপোরেট শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে আমজনতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। কয়েক বছর আগে তিনি ‘আই-প্যাক’ নামের একটি নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থাকে যুক্ত করেন। আই-প্যাকের বেতনভুক কর্মীরা কার্যত দলটিকে হাইজ্যাক করে নিয়েছিল এবং কে টিকিট পাবেন বা কে কী ভাষণ দেবেন, তা তাদেরই ঠিক করতে দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি অভিষেকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ক্ষুব্ধ নেতারা এখন তার দিকে আঙুল তোলে নিজেদের দলবদলকে জাস্টিফাই বা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমাদের সফর কোনো অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


আমাদের সফর কোনো অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানেই আমরা যাব। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাব, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে চীনেও যাব। ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমাদের গন্তব্যগুলি কোথায় হবে, সেটা নির্ধারণ করবে অন্য কেউ, এমনটা নয়। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমি শুধু এটুকুই বলব—বর্তমানে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—আমরা সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারছি এবং দর-কষাকষি করতে সক্ষম। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা করতে পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।

এছাড়া তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অবশ্যই ভালো হবে। চীন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। মালয়েশিয়া হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে আমাদের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থও জড়িত রয়েছে। এছাড়া আমরা আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করছি। ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা করব। এসব বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, তবে দেশপ্রেম সব সময় অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি এই সফর সফল হবে। প্রথম সফর মালয়েশিয়া, দ্বিতীয় সফর চীন। এরপর আরও সফর হতে পারে। তবে প্রতিটি সফরই হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর সফর। যাদের প্রয়োজন, শুধু তাদেরই নেওয়া হবে। আগের মতো বড় বড় দল নিয়ে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া কিংবা সরকারি অর্থ অপচয় করার সংস্কৃতি এখন আর নেই। এখন প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কাজের প্রয়োজন ও জনগণের টাকার জবাবদিহির ভিত্তিতে।

‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন—যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা মালয়েশিয়া যাবেন; যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীন যাবেন। শুধু বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফরের সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতিটি পয়সা খরচ হবে জনগণের স্বার্থে, বিচক্ষণতার সঙ্গে। এটাই এই সরকারের অবস্থান। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কারও ব্যক্তিগত আগ্রহ বা বিলাস পূরণের উদ্দেশ্যে নয়। তাই আমরা বিশ্বাস করি মালয়েশিয়া ও চীন, দুই সফরই সফল ও ফলপ্রসূ হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এসময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়া, যেখানেই অর্থ পাচার হোক, সেখান থেকেই তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করছে পাকিস্তান ও ইরান: শেহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করছে পাকিস্তান ও ইরান: শেহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ এবং তেহরান সম্মৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রচেষ্টার ফলে পাকিস্তান ও ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

শুক্রবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান শান্তিচুক্তি সম্পাদনে ভূমিকা রাখায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অর্জন দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক মর্যাদাকেই প্রতিফলিত করে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ জানান, ইরানকে সমর্থন করায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টেলিফোনে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও, তাকে আয়াতুল্লাহ আলি খামিনির জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। শেহবাজ আশ্বাস দিয়েছেন যে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল জানাজায় অংশ নেবে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০১৬ সালে নিহত হয়েছিল ৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০১৬ সালে নিহত হয়েছিল ৬ জন

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার কলেজ গেইট এলাকায় 'ইকো গ্রীন ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড' নামের একটি অবৈধ পোড়া মবিল ও টায়ার গলিয়ে কেমিক্যাল উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে, এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়, কিন্তু আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানাটিতে এর আগে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি, একই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নারীসহ ৬ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক দশক পর আবারও একই প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে কারখানাটি সিলগালা করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় তারা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি আরও জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে অশোধিত জ্বালানি উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা হতো। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ২০ জুনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিল বিজেপি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


কেন ২০ জুনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিল বিজেপি সরকার

২০ জুন আজ সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে মিছিল করার সময় শুভেন্দু অধিকারী এই দাবিটি জানান। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠন করার পর থেকে দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি’ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দিন হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। তবে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই দিনটির উদযাপনের কোনো চল ছিল না।

বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবস্থান ছিল, বাংলা ভাগ হওয়া উদযাপনের বিষয় নয়। কারণ দেশভাগের ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং তারা তাদের স্বজন হারিয়েছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ জুনের পরিবর্তে পহেলা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে ২০ জুনকেই সরকারিভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সরকার এই দিনটি উদযাপন করছে, তার নিচে যে সকল কারণ তুলে ধরা হলো সেগুলো হল, ইতিহাসের পাতায় ২০ জুনের সিদ্ধান্ত ও ভারতভুক্তি। আজ থেকে ৭৯ বছর আগে, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় অবিভক্ত বাংলা ভাগ হওয়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ওই দিন মুসলিম সংখ্যাগুরু পূর্ববঙ্গ এবং হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিরা আলাদাভাবে ভোট দেন। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের বেশিরভাগ বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনপ্রতিনিধিরা বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। এই কারণেই সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলার পূর্ব অংশ পাকিস্তানে যাবে এবং পশ্চিম অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো একে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির দিন হিসেবে গণ্য করে।

আরএসএসের ইতিহাসবিদ রবি রঞ্জন সেনের মতে, এই দিনটিকে বাংলা ভাগের দিন হিসেবে না দেখে, এটি পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও তার ভারতভুক্তির দিন হিসেবে দেখা উচিত। স্বাধীনতার আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কংগ্রেস নেতা শরৎ চন্দ্র বসু বাংলাকে ভাগ না করে একটি স্বাধীন ‘যুক্তবঙ্গ’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হিন্দু মহাসভার নেতা ও জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। জওহরলাল নেহেরু ও বল্লভভাই প্যাটেলও এর বিরোধী ছিলেন। বিজেপি ও আরএসএস শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ মনে করে।

বিজেপির দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর লড়াইয়ের কারণেই বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের জীবন সুরক্ষিত করার জন্য একটি ‘হোমল্যান্ড’ বা আবাসভূমি পেয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত মনে করেন, বাংলা ভাগ হওয়া অনিবার্য ছিল। তার মতে, যদি দুই বাংলা যুক্ত থাকত তবে হিন্দু বাঙালিদের সমস্যা আরো বাড়ত। তিনি এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চিরকাল বাংলায় হিন্দু রাজনৈতিক চেতনাকে অস্বীকার করে এসেছে।

তিনি আরো দাবি করেন, ভারতের বাঙালি স্বত্বা এবং বাংলাদেশের বাঙালি স্বত্বার মধ্যে কিছু মিল থাকলেও, দুটি পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ভিন্ন পরিচয় উদযাপন করা এবং ‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসগত ভিত্তি তৈরি করতেই বিজেপি এই দিনটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতা সফরে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও ২১ জুনের যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় তার দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে। এই দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা, ছোট শহর ও গ্রামে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ছবিতে মাল্যদান অনুষ্ঠান চলছে। সকালে কলকাতার ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মূর্তিতে মালা পরান বিজেপি নেতা অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জন্যই আমরা আজ বাংলাদেশে নেই। উনি না থাকলে হয়তো আমরা থাকতাম না।’

তবে এই উদযাপনের ভিন্ন মতও রয়েছে। ইতিহাসবিদ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুগত বসু জানান, মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনায় আগেই দেশভাগ নিশ্চিত হয়েছিল এবং ২০ জুনের ভোটে শুধু সিলমোহর পড়েছিল। তার মতে, ‘এটি কোনো গৌরবের দিন নয়, এটি আত্মঘাতী বাঙালীর লজ্জার দিন।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%