১০:৩৬ পি.এম
চট্টগ্রাম মহানগরীতে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার জন্য এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আজ চসিকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম নগরীর জন্য প্রস্তুতকৃত দুটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
সভায় মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক
মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এআই-ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমাতে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
তিনি জানান, প্রকল্পটির আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন এবং ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এতে স্মার্ট সিগন্যাল, ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং ক্যামেরা, আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রেড সিগন্যাল ডিটেক্টর এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে এআই-ভিত্তিক। যদি কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। যানবাহনের নম্বরপ্লেট, চলাচলের ধরন এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ফলে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম নগরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ট্রাফিক করিডোর এই প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
ফলস্বরূপ, পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, আবু সাদাত তৈয়ব এবং কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন